অমিতাভ প্রহরাজ


কর্পাস কথা

-পীযূষকান্তি বিশ্বাস


আজ যখন বসন্ত আগত,  রাস্তা গলি রাজপথ চৌমাথায় শিমুল ফুটেছে, হাওয়ায় ভেসে যাওয়া ফুটে ওঠা তুলোর কথা আমাকে খুব ভাবায় । উড়ে যাওয়া তার ভবিতব্য, আমরা সবাই উড়ে যাবো একদিন । তুলো মতো হালকা ভেসে যাওয়ার মতো অনায়াস নিয়ে আমাদের বন্ধু অমিতাভ প্রহরাজ গত হয়েছেন কিছুদিন । আমরা এখনো ভেবে উঠতে পারিনি বসন্ত আগমনের ঋতু না চলে যাওয়ার ঋতু ।  তাকে নিয়ে আমাদের এই সব ভাবনা চিন্তা, লেখালেখি হয়তো চলতে থাকবে, কিন্তু খুদ অমিতাভ প্রহরাজ নিজে বলে গিয়েছেন, এইগুলো হলো কর্পাস । অর্থাৎ খানিকটা শিমুল তুলোর মতো, কিংবা তা থেকেও হালকা কিছু । কবি ও চিন্তাবিদ, অমিতাভ প্রহরাজ আজ আমাদের ভিতরে নেই । তবে, কিছু কিছু কাজ এই কবিতা আবহাওয়ায় অমিতাভের মতো রয়ে যাবে, অন্তত: সে আমাদের ভিতর বেবি হয়ে রয়ে যাবে । কবিবন্ধুদের অনেকেই অমিতাভের কবিতা , গদ্য ও পত্রিকা নিয়ে নিশ্চয়ই লিখবেন । তার লেখালেখি নিয়ে, তার সাহিত্য গুণাগুণ নিয়ে সারাবছর আলোচনা করা যায় । কিন্তু আজ আমি তার কর্পাসজনিত কিছু কথা স্মৃতিচারণ করবো করবো বলে এই ভণিতা ।  


কবিতার দেশে কর্পাস শব্দটি প্রথমবারের মতো শুনি বাংলার ল্যাখামোর কবি অমিতাভ প্রহরাজের কাছে । তখন, দুহাজার তেরো কি চোদ্দ, আমরা যখন সাহিত্য নিয়ে তুমুল তুলকালাম করবো বলে উঠে পড়ে লেগেছি । ফেসবুককে প্লাটফর্ম হিসাবে ভাবছি, বিতর্ক করছি প্লাটফর্মটা শিয়ালদার স্টেশনের থেকেও বিরাট কিছু কিনা । সেই সন্ধিক্ষণে বৈখরী ভাষ্য চ্যাম্পিয়ন অমিতাভ প্রহরাজের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। তার কাছেই 'কর্পাস' শব্দটি প্রথম শোনা ।  বহু-প্রতিভার ভাষ্যে ২০০০ সাল পরবর্তী প্রথম দশকে কবিতা, গদ্য, সিনেমা, এডভার্টাইজমেন্ট, পলিটিক্স এবং যাহা কিছু টেক্সট সেখানে অমিতাভ, ওরফে 'বেবি'র উজ্জ্বল উপস্থিতি টের পেয়ে আসছিলাম ।  বাংলা ভাষায় 'কবি' হবো বলে, ফেসবুকে পালা করে কবিতা পোষ্ট করতাম । তাতে, অমিতাভ প্রহরাজকেও অনেকবার ট্যাগ করেছি বলে মনে পড়ে । আর আমি যেহেতু, দিল্লির বাসিন্দা , তো  এহেন কলকাতাস্থিত কোন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিকের এই রকম চেহারা-ছবি আমাদের কাছে একটা এক্স ফ্যাক্টর কাজ করতো । আমরা দিল্লি থেকে কেমন বাংলায় কাজ করছি, সেটা দেখিয়ে একটা বাহাদুরি নেবার চেষ্টা করতাম । সেই সবের ঊর্ধ্বে ছিলো এই 'কর্পাস' । অমিতাভ প্রহরাজের সংস্পর্শে আসার জন্য আমার কাছে কবিতা ভিন্ন অন্য কারণ অর্থাৎ কর্পাসই ছিলো প্রধান কারণ । ফেসবুকে পোষ্ট করা কবিতা নিয়ে তার 'কবিতা অ্যাজ এ টেক্সট' এনালাইসিস করার প্রয়াস ছিলো অমিতাভের , প্রধান আকর্ষণ ছিলো এটাই । এই প্রয়াসটা আমার কাছে অভিনব ছিলো ।   


ফেসবুক যেহেতু একটা সোশ্যাল মিডিয়া, এখানে বাঙালী কবিগণ প্রায়  নানা কথা ও বক্তব্য বাংলা ভাষায় পোষ্ট করেন ।  কোন কোন পোষ্টকে পোষ্ট দাতা 'কবিতা' বলে অভিহিত করেন, বন্ধু মানুষজন সেখানে তাদের পছন্দের কমেন্ট দিয়ে থাকেন, লাইক ও শেয়ার করেন । অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি, সেটাকে কবিতা হিসাবে কাঁটাছেড়া করেন । অনেক কবি সেখানে নিজের কবিতার বিজ্ঞাপন দেবার জন্যও আসেন।  এই নিয়ে,  আমার একটা নিজস্ব রিসার্চ চলছিলো তখন। দিল্লির এক প্রবীণ ও বিচক্ষণ সম্পাদক অরুণ চক্রবর্তীর ফেসবুকে দুটি পেজ ছিলো ১) ভালো কবিতা, ২) খারাপ কবিতা । তাঁর যে কবিতাটা খারাপ লাগতো, সেখানে তিনি সেই কবিতাটি রিপোস্ট করতেন, ঠিক সেইভাবে, যেখানে কবিতাটি ভালো লাগতো, সেটা তিনি ভালো কবিতা পেজে কপি পেস্ট করে রিপোষ্ট করতেন। আমি যেহেতু, একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, আমার সেই থেকে ধারনা হয়, কবিতার এই বিচারব্যবস্থা কি কম্পিউটারের সাহায্য করা যেতে পারে ?  ফেসবুকের এই টেক্সটগুলোর কোনটা কবিতা আর কোনটা কবিতা নয়, তার একটা রেটিং সিস্টেম তৈরি করা যায় কিনা, আমি সেটা ভাবছিলাম । আমি একটা বিস্তারিত ইমেলঃ ফেসবুক এডমিনকেও লিখেছিলাম এই ভাবে যে "যদি কোন পোষ্ট যদি শুধু 'কবিতা' হিসাবেই পোষ্ট করা যায়" । যদিও ঐ সময় ফেসবুকে 'নোট' বলে এক ধরনের পোষ্ট ছিলো । 


চিন্তাবিদ ও বিপ্লবী কবি অমিতাভ প্রহরাজ ও ঐ সময় ঠিক অনেকটা এই ধরনের একটা কাজ করছিলো ফেসবুকের টেক্সট নিয়ে । সেই ধারনাটা আমার ধারনার থেকে ম্যাচুওর ধারনা ছিলো। আমার থেকে ওর ধারনা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলো । ও খুঁজে দেখছিলোঃ ফেসবুকের টেক্সট ও ব্যক্তি বিশেষে লেখার কোন প্যাটার্ন আছে কিনা । কাগজে হাতের লেখা দেখে একজন খুনি সনাক্ত করার কথা আমি গোয়েন্দা গল্পে অনেক বার পড়েছি, সিনেমাতেও দেখেছি,  কিন্তু ফেসবুকে পোষ্ট করা টেক্সট দেখে কবিকে কবিতাকে চিহ্নিত করার কথা চিন্তাবিদ অমিতাভ প্রহরাজ ভাবতেন ।  


অমিতাভ প্রহরাজ বলতেন, ফেসবুকের পোষ্ট করা অগণিত কবিতা একটা বাংলা ভাষার 'কর্পাস' মাত্র । দুই বাংলা, ত্রিপুরা, আসাম মিলে প্রায় ত্রিশ কোটি বাঙালি । তাদের লিখিত বাংলা কবিতার বিশাল পরিমাণ টেক্সট ।  কর্পাস মানে, একটা মনুষ্য আবেগ বর্জিত ডাটা চাংক বা আনফরম্যাটেড ইনফরমেশন যেগুলো কম্পিউটারে ভাষা এনালাইসিসের জন্য ব্যবহার করা হয় । কথাটা ম্যাসিন লার্নিং সম্পর্কিত । আমার এই কুড়ি বৎসরকাল আই-টি ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করা স্বত্বেও 'কর্পাস' কথাটি আমার জানা ছিলো না । অমিতাভ প্রহরাজ একজন পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন । তাই কবিতা, গদ্য ও বাংলা সাহিত্য ছাড়াও তার বিজ্ঞান ও কম্পিউটার নিয়েও ছিলো অগাধ আগ্রহ ও বিশেষ জ্ঞান । আমি অনেক সময় তার পরামর্শ নিয়েছি আইটি কপিরাইটের নানান নিয়ম কানুন নিয়ে । সেই সুযোগে আমাদের কথোপকথন বাড়তে থাকে,। এবং এইভাবে একদিন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আমার একটি আম্বিশাস প্রোজেক্টটি নিয়ে তাকে জানাই । বাংলা ভাষায় কম্পিউটার দিয়ে কবিতা লেখা হবে । 'কম্পিউটার এইডেড কবিতা' । তৈরি করতে হবে, বাংলা ভাষার একটি ম্যাসিন ও মানুষের ইকো সিস্টেম । 


আর ক্যাপ(CAP: Computer Aided Poetry) প্রোজেক্ট নিয়ে আমাদের খুব আশা-নিরাশা ছিলো । সেটা অবশ্যই কবিতা লেখার ব্যাপারে । কবিতার নানান প্যাটার্ন, শব্দচয়ন, বাক্য গঠন নিয়ে আমি অমিতাভ কে হাই রেট করতাম । সে বলেছে বলে, আমি সেটা সত্য বলে মেনে নিতাম । খুব আশাবাদী ছিলাম একসঙ্গে কাজ করবো বলে ।  বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে অগণিত কবিগণ প্রতিনিয়ত কবিতা লিখে চলেছে । বাংলা কবিতার আয়তন বৃদ্ধি হচ্ছে । কবির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে । প্রতিবছর বের হচ্ছে হাজার হাজার কবিতা ও গল্পের বই । এতো লেখার ভিতর কোন লেখা ভালো, একটু বেশী ভালো, দুর্দান্ত, অসাধারণ, অপূর্ব এই সব নিয়ে কোন ক্যাটেগরি করার কোন এলগোরিদম আছে কিনা ? ফেসবুক কবিতার প্যাটার্ন ধরার চেষ্টা করছিলেন অমিতাভ নিজেই । অমিতাভের কাছে নেটওয়ার্ক ছিলো পৃথিবীর কোন কোন  শহরে বাংলা নিয়ে কম্পিউটারে কে কি কাজ করছে । একদিন অমিতাভ আমাকে কয়েকটি গিটহাব (github.com) এ কয়েকটি সাইট এড্রেস দিয়েছিলেন । যেখানে কিছু বাঙালি 'কর্পাস' আপলোড করে রেখেছেন । সেখানে বাংলা ভাষা নিয়ে বেশ কিছু রিসার্চ সাইট আমাকে দেখতে বলেন । ডাবলিন  থেকে, জার্মানি থেকে, চেন্নাই থেকে যারা যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন । অমিতাভ, বয়সে আমার থেকে ছোট বলে আমাকে পীযূষদা বলে ডাকতো । কিন্তু আজ চোখে জল চলে এলো রে ভাই অমিতাভ । আমার ইচ্ছে হয়, তোমাকে একটু অমিতাভদা অমিতাভদা বলে ডাকি । 


আমি নিজেও অমিতাভের বিশেষ কাজে হাত লাগতাম । ও তখন এডভার্টাইজমেন্টের কাজ করতো । কর্পোরেটের কপিরাইট নিয়ে লিঙ্কডইন (linkedin.com) সাইটে, কিভাবে সাইট কপি করা যায়, তাঁর বিশেষ এলগোরিদম আমি ডেভেলপ করে দিয়েছিলাম । অমিতাভ নিজেও বিশ্বাস করে ফেলেছিলো যে আমি সফটওয়ার জগতের একটা 'কাজের মানুষ' । বিশেষ দরকারে যোগাযোগ করলে, কম্পিউটার সম্পর্কে কিছু পরামর্শ নেওয়ার জন্য ফোন করতো ।  শুরু হলো, আমাদের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এক নতুন প্রকল্পের আয়োজন । সুতরাং, আমি 'কম্পিউটার এইডেড কবিতা' প্রোজেক্ট নিয়ে কথা বলতেই সে সেটা লুফে নেয় । কম্পিউটারে কবিতা লিখতে পারার ক্ষমতাকে আমি প্রথম প্রদর্শন করি । অমিতাভ বলতেন,  এই সফটওয়ারটি বাংলা ভাষার জন্য একটা ল্যান্ডমার্ক । ও নিজেই দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথা বলার কথা উত্থাপন করেন। প্রথমে আমাদের একটা মিটিং সেট করা হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে । এবং পরবর্তী সময়ে কিভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বাংলা বিভাগকে আমাদের এই প্রজেক্টে যুক্ত করে নেবার পরিকল্পনা হয় । ২০২০ সাল নাগাদ, আমাদের মিটিং সেট করা হয়, কিন্তু কোভিডের কারণে, আমরা সহায়সম্বল করে উঠতে পারিনি । মিটিং হয়ে ওঠেনি । তবে তার ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে অমিতাভ প্রহরাজ, এক নির্ভীক, নিষ্ঠাবান বাংলাভাষা কর্মী কালের ওপারে অদৃশ্য হয়ে গেলেন । আমাদের এই প্রোজেক্টটি ছিলো খুবই গোপন । আরো কিছু পছন্দের কবি ও সাহিত্যিকদের সামিল করার কথা অমিতাভ প্রহরাজ আমাকে বলেছিলেন । আমাদের প্রোজেক্টি সাময়িক ভাবে থেমে গেলো । 


অমিতাভ প্রহরাজ একজন আদ্যপ্রান্ত ক্রিয়েটিভ কবি । তার ভাষা ব্যবহার , বাক্য-গঠন ক্ষমতা ছিলো আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড । তার গদ্য, শব্দ বুৎপত্তি, ইতিহাস জ্ঞান অসাধারণ । এহেন একজন বাঙালি, একদিন ভোরে ফোন করে আমাকে বলেন যে উনি একটি ডাক্তারি ডিকশনারি বানাতে চান । সেই আমাদের একসঙ্গে কাজ করার শুরু । তার ভিশন অনুযায়ী, চিকিৎসা বিজ্ঞান আমূল বদলে গেছে । অনেক ইংরাজি শব্দ আমাদের ব্যবহার করতে হয় ডাক্তারি পড়াশোনা করার সময়, কিংবা ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার সময় । আমাদের চিকিৎসা শিক্ষা পুরোটাই ইংরাজি নির্ভর । সেটা খানিকটা বদলে দেবার কথা আমাকে বলেন । চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহৃত ইংরাজি শব্দের একটি বাংলা ডিকশনারি বানাতে চেয়ে আমাকে তার সফটওয়ারটা বানিয়ে দিতে বলেছিলেন । কিছু কাজও এগোচ্ছিলো । হয়তো, তার ল্যাপটপ ঘাঁটলে অনেক কর্পাস পাওয়া যেতে পারে । এই প্রোজেক্ট নিয়ে আমরা কমার্শিয়াল চিন্তা ভাবনাও করছিলাম । এই প্রোজেক্টটাও আমাদের ঐখানে থেমে গেলো যখন মর্মান্তিক খবর  এলো, অমিতাভ প্রহরাজ আজ আর আমাদের ভিতরে নেই ।


চিন্তাবিদ অমিতাভের সঙ্গে দিনের পর দিন ব্রেইনস্টর্মিং-সেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমাদের বাক্যবিনিময় এমন একটা মেধাসম্পন্ন জায়গায় পৌঁছেছিলো,  যা বড়ই দুর্লভ ।  যেভাবে মেধা সাহিত্য থেকে, ভাষা থেকে সরে গিয়ে কর্পোরেট ও বিদেশী কোম্পানিতে বিনিয়োগ হচ্ছে, ততই বাড়ছে মেধা ব্রেইন ড্রেন বাংলা থেকে পশ্চিমদেশে । আমাদের বাংলা সম্পদ, ভার্চুয়ালী খুব অল্প দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে মাইক্রোসফট , গুগল বা এমাজনে । বাংলা নিয়ে কাজ, ভাষা নিয়ে কাজ করার মতো মেধা কলকাতা বা ঢাকা সাহিত্য পরিসরে বিরল । বাংলা আকাদেমি ও নানান সাহিত্য সংস্থা নিজেদের এজেন্ডা এখনো ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের অংকে অপারেট করছে । ভাষার উন্নতি, ভাষা সংস্কার, ব্যাকরণ ডিজিটাইজেশন, কন্টেন্ট জেনারেশন, শব্দ-তালিকা নিয়ে তাদের কাজ ও পরিকল্পনা বড়ই বিরল । সেই সব কাজ করার জন্য যে প্যাশন ও দক্ষতা লাগে , কোন ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো হয় না অথবা বর্তমান রাস্ট্রনেতা বা সাহিত্য আকাদেমি কর্ণধারদের সেই চেষ্টা নেই । সুতরাং এই পরিসরে অমিতাভ প্রহরাজের বেঁচে থাকা বাংলা ভাষার জন্য বড় জরুরী ছিলো । আগামীর প্রজন্মের জন্য জরুরী ছিলো । সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ও বৃহত্তর বাংলা ভাষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের এই সামান্য বয়সে এই মামুলি অন্তর্ধান আমাদেরকে বিশাল প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো ।


** [পীযূষকান্তি বিশ্বাস পেশায় একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, দিল্লিবাসী বাঙালী , মাল্টিন্যাশনালে কাজ করেন। দিল্লি থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে কাজ করেন । 'দেহলিজ' পত্রিকার সম্পাদক , বাংলা ভাষায় কবিতা লেখেন ]


Comments