২০ মার্চ ২০১৬ নিউ দিল্লি ,
আজ সমাপ্ত হয়ে গেলো দিল্লির বইমেলা । বিষাদঘন হৃদয় নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত প্রকাশনীগন বিজয় দশমীর মতই বিদায় জানালো দিল্লির বইমেলা প্রাঙ্গন । সেই সাথে শেষ হলো ছয়দিন ব্যাপী এই বঙ্গ-সংস্কৃতি মেলা । বইমেলা দিল্লিবাসী বাঙালীর হৃদয়ে এই বসন্তে নতুন করে বাংলাভাষার প্রান সঞ্চার করেছে । প্রচুর দর্শক, ক্রেতা, কবি, সাংবাদিক ও প্রকাশকের ভীড়ে আজ দিল্লি ছিলো বাংলা সাহিত্য ইতিহাসের বাংলার উজ্বল সাক্ষর । শেষদিনের প্রধান আকর্ষন ছিলো দিল্লির বিখ্যাত কবিদের কবিতা পাঠ । অংশগ্রহন করেন দিল্লির কবি সুমন মান্না, পীযূষকান্তি বিশ্বাস, রুদ্রেন্দু প্রসাদ ঘোষ, শাশ্বতী নন্দ ও প্রাণজি বসাক । অনুষ্ঠানটি নিপুন ভাবে সঞ্চালনা করেন ভাস্বতী গোস্বামী । জমে ওঠে শ্রোতাদের ভীড় , বাড়তে থাকে প্রবাসী বাংলার সাহিত্য প্রীতি, বিক্রি বাড়তে থাকে বাংলা বইয়ের , সমৃদ্ধ হতে থাকে দিল্লির বাঙালি সম্প্রদায় ।
কবিতা পাঠের একটি দৃশ্য ।
বইমেলার অন্তিম দিনে ছিল বঙ্গ-সংস্কৃতির বৈচিত্রময় প্রোগ্রামে ঠাসা । ছিলো নাটক, আবৃত্তি প্রতিযোগীতা, কুইজ ও পুরষ্কার বিতরনী । ছিলো সাংবাদিকদের জন্য “প্রচলিত সাংবাদিকতার মৃত্যু”- আলোচনা ও আড্ডায় বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং টাইমস গ্রুপের ‘এই সময়’ সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় । শেষ বেলায় যখন ছৌ-নাচের প্রোগ্রাম তখন ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা পার করে গেছে । নিজের নিজের বই গুছিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে সমস্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা, তবু দিল্লির বাংলা সংস্কৃতি প্রান মানুষেরা তখনো ভীড় করে রেখেছে মেলা অঙ্গন ।
মেলা প্রাঙ্গনের আর একটি দৃশ্য
সবই সুখানুভূতি নয় এই মেলায় । এর মাঝে শেষ হয়ে যায় জল খাবারের স্টলের খাবার । ভীড়ের আন্দাজ না বুঝতে পেরে হিমসিম খেয়ে গেছেন ক্যাটারার । মন খারাপ করে বাড়ি ফিরছে আড্ডাবাজ কবিরা । দিল্লির কবিতার আড্ডার অন্যতম সদস্য পৃথা দাশ জানালেন “মন খারাপ লাগছে খুব, আবার আর একটা বছরের অপেক্ষা । আসলে আমরা দিল্লিতে সাহিত্য আলোচনার পরিসর বেশি পাইনা তো, তাই এই রকম আড্ডার অপেক্ষা করে থাকি, ধন্যবাদ পীযূষ, ধন্যবাদ সৌরাংশু, ধন্যবাদ বেঙ্গল আসোসিয়েশন”
দিল্লির কবিতা আড্ডার আজ শেষ দিনে
আজ দিল্লির সাহিত্য আড্ডায় প্রচুর ভীড়, বিক্রিও হয়েছে দিল্লির কবিদের বই । জনপ্রিয় লেখকদের মধ্য উল্লেখযোগ্য সুমন মান্নার ‘প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি’, শাশ্বতী নন্দের ‘রোমাঞ্চ ভ্রমনে’, শরিৎ চ্যাটার্জীর ‘স্টার ডাস্ট’ , দিলীপ ফৌজদারের ‘দিল্লি হাটার্স’ । সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পীযূষকান্তি বিশ্বাসের ‘আকাশচুম্বন’ , তার শেষ কপিটিও বিক্রি হয়ে যায় এই বইমেলায় । প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে এই বইগুলির প্রিন্ট কলকাতা থেকে আসে, এবং সেই সব প্রকাশকদের উপস্থিতিও দিল্লির বইমেলায় ছিলো । দিল্লির অন্যান্য স্টলেও ছিলো আজ ভীড় ঠাসা । গুরুচন্ডালী, অভিযান পাব্লিশার্স, সৃষ্টিসুখের স্টলগুলিতে বেশ ভীড় সমাগম ।
বই বিক্রির একটা দৃশ্য
এবারের দিল্লির বইমেলায় বই বিক্রির সাথে সাথে ছিলো প্রবীন কবিদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন ও তরুন কবিদের মিলনমেলা । দারুন উৎসাহের সাথে এগিয়ে আসছেন কলেজপড়ুয়া ও সদ্য পাশ করা বাঙালির ঘরের তরুন তুর্কীরা । বাংলা সাহিত্যের এক নতুন বীজ অংকুরিত অপেক্ষায় আছে দিল্লি এবং আগামীতে প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহন আরো জোরদার হবে এই আশা করছেন বেঙ্গল আসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শ্রী তপন সেনগুপ্ত ।
তরুন প্রজন্মের বাংলা লেখকরা অপেক্ষা করছে দিল্লিতে
Comments
Post a Comment