প্রিয় গোপালবাবু
প্রণাম নেবেন । আপনার সাহিত্যযাপনকে প্রণাম । আপনি যে কতখানি এই প্রণামের হকদার, আপনি হয়তো তা নিজেই জানেন না । আপনার পড়শী, বন্ধুবান্ধবগণও জানেন না । গত দশকেও আমি কাউকে দেখিনি যে প্রণাম করছেন, আর এ দশকে আপনি গড়বেতার জঙ্গল বুকে নিয়ে স্মৃতির অতলে চলে গেলেন । কেউ মনে রাখেনি, কেউ মনে রাখে না ।
সবাই বলবেন, মনে রাখার মতো কিছুই লোকসমাজে বিরাজ নেই তার । সেই কথাঞ্জলী নামের লিটল ম্যাগাজিন, সেই মহাবীর এনক্লেভের বাঙালিপট্টি আর জাঠঅধ্যুসিত পালাম গাঁও , দ্বারকা, উত্তম নগর এলাকার সাহিত্য আড্ডাগুলি, সে আর নেই । সাহিত্যকৃত্যকে গ্রাস করে নিয়েছে চরম পলিটিক্সবাজী । দিল্লি রুক্ষ হাওয়া আর খারা জল বোধহয় সাহিত্য সৃজনের নয় । আর তারপর এই দিল্লির বাংলা ভাষা । যে ভাষার অবস্থান এখনো খোদ বঙ্গেই অনিশ্চিত ।
কোন পাঠক বা কবি বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলে বলবেন, কই, গোপাল চন্দ্র পাল, কোনদিন নাম শুনিনি তো । কোন পত্রিকায় লিখতেন ? তার উপন্যাসের নাম কী ? বাংলায় লিখতেন ? বাঙালি সাহিত্যিক বলতে হয়তো তাদের বোঝায় যাদের নাম কলকাতা, ঢাকার মতো বড় শহরে মস্ত বড় পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন, মিডিয়া তাদের আলোকিত করেছেন । যাদের ভাষা চর্চা সুক্ষ ব্যাকরণের, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্য অভিজ্ঞান অনুসারে মান্য । সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আমি আজ অন্য কথা বলবো । আপনার কথা, হয়তো পালাম গাঁও কেন আপনার পরিবারের অনেকেই জানেন না, আর আমার সমস্ত চেনা পরিচিত সাহিত্যবন্ধুদের কাছেও অজানা । হয়তো ।
যদি মেনে নিই, আপনি সাহিত্যিক নন, আপনি দিস্তা দিস্তা কবিতা লেখেন নি । কলেজস্ট্রীটে আপনার বই বিক্রি হয় না । আপনি বাংলা সাহিত্যের কোন 'থিওরি' বের করেন নি । এই কথাই লোকে বলবেন । এটাই স্থাবর । আপনি কোন গুরুগিরি করেন নি, কোন শিষ্যও নেই, এটাই স্থাবর । একখানি বই "মহুয়ার গন্ধ" কোন রকমে নিজের পয়সায় করে গেছেন, তা কতজন পাঠকের সংগ্রহে আছে , তা পরিমেয় নয় । সুতরাং দিল্লির বাংলা সাহিত্য মহল এমন কি কারণ হতে পারে আপনাকে মনে রাখে ?
দেখুন, মনে রাখাটা কোন জবরদস্তি না । তাই রাখেনি । আপনি মনে রাখাটাকে গুরুত্ব দেন নি । আপনার কাছে সাহিত্যযাপন ছিলো জীবনযাপনের উপমা । বন্ধু বলতে তারা যারা লিখিয়ে । আমার মতো তরুণ লেখিয়ের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসতেন । পত্রিকা করতাম আমরা । আপনিতো এটাই চাইতেন - একটা শুকনো রুটি , একটু সব্জী, এক গ্লাস জল । পুরানো গুটিকয় বাংলা সাহিত্য পত্রিকা নিয়ে , নিজের পাবলিকেশনের কিছু বই নিয়ে হাজির হতেন লেখকের দরবারে । নিজের ট্যাকে আপনার জোর ছিলো না, কোট-স্যুট আপনি পরতেন না । সুতরাং মানুষকে চরিয়ে খাবার সেই মুগ্ধমধুর ব্যক্তিত্ব আপনার অজানা ছিলো । একজন অতিসাধারণ প্রিন্টার্স, মাটির সঙ্গে যুক্ত, ঘাস পাতা ধুলো নিয়ে প্রকৃতির অমল প্রকাশ নিয়ে আপনি সাহিত্য করতেন । আর আপনার মৃত্যুর পর পালাম, মহাবীর এনক্লেভ, দ্বারকা এলাকায় সাহিত্য চর্চা এমন ধাক্কা খেলো যা থেকে আমরা আজও উঠতে পারিনি । আর যারা টাকার গরিমায় আপনাকে আঘাত করে , আপনাকে অপদস্থ করে সম্পাদক ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ করলেন, তাদের পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলো ।
তাহলে এতো কিছু না থাকার পরও এমন কী ছিলো আপনার জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে । যেটা আপনি জানতেন না, আপনার প্রতিবেশী জানতেন না, বন্ধু সাহিত্যিকগণ অবগত ছিলেন না । সেটা আজ আপনাকে আমি কানে কানে বলি। আপনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি । খাঁটি সাহিত্যিক । যার রক্তে চব্বিশ ঘন্টা বাংলা সাহিত্য বিরাজ করতো । আপনার মধ্যে ছিলো সত্য । যা আজ বিরল । এই আকাশ ভরা সূর্যতারার বিশ্বভরা প্রাণের ভিতর আজ এতটাই অসত্যের ভিড়, সেখানে অসত্যটাই আজ আসল মনে হয় ।
তাহলে কি আপনি কিছুই করে যান নি । এইযে আজ চিঠি লিখতে বসেছি, গত দশকে প্রয়াত বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিকদের নিয়ে , তাতে আরামসে দীপঙ্কর দত্ত, বারীন ঘোষাল, দেবব্রত ভট্টাচার্য বা মিহির রায় চৌধুরীর নাম নিতে পারতাম । তারা সবাই বাংলা সাহিত্যে নিজের অবস্থান পাক্কা করে নিয়েছেন । কিন্তু চিঠি তো মানুষ কাছের মানুষকেই লেখেন । আপনি ছিলেন আপনজনের একজন যাকে নিয়ে হয়তো কোন কবি বা সাহিত্যিক লিখবেন না । আপনি, আমার কবিতা যাপনের দিনের শুরুয়াত । আপনার এনার্জি, উতসাহ, কবিতা, গদ্য, গল্প, পত্রিকা, বিভূতিভুষন, কথাসাহিত্য , এই নিয়ে কত কথা মনে পড়ে । বোধহয়, আমার জীবনের প্রথম সাহিত্যিক যার মৃত্যুতে ভরা সভায় বাধনহারা কেঁদেছিলাম ।
কত কথা মনে পড়ে । পেটের ক্ষুধা, পয়সার মার, মেদিনীপুর থেকে চলে আসা, রাজধানীর পণ্যবাজার, দিল্লির বাঙালি অভিজাতদের উদাসীন ব্যাবহার , রাত জেগে পত্রিকা করা, বিজ্ঞাপণ জোগাড় করা, প্রেসে যাওয়া, পত্রিকার প্রথম কপির সুঘ্রাণ । এই তো যাপন । সেই যে মনে পড়ে, লেখা জোগাড় শেষ, প্রচ্ছদ নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি ? কোন ভাবেই তা জোগাড় হয় না । রাজধানীতে বসে বাংলা লিটল ম্যাগাজিন করা অত্যন্ত দুরহ কাজ । সেখানে যোগ্যতমের উদবর্তনে নিজের ও পরিবারের খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান একটা শংকট । কি করে সেই সব কাজকর্ম সামলেও হাসিমুখে একগাল মুড়ি চেয়ে খাওয়া যায় ?
জানি, এখন আর কোন বাঙালি মুড়ি খায় না । এখন কেউ পত্রিকা পড়েন না । সবাই এখন লেখক । তাই লেখক প্রজাতির কাউকে আমার আর বেশী মনে পড়ে না । আপনাকে খুব মিস করি । আপনার কর্ম, আপনার সততা, আপনার অধ্যাবসয় আমাকে প্রতিমুহূর্তে অনুপ্রাণিত করতো । মানুষ যদি নিজের কাজটা ভালোমতো করে যায় সেটাই হলো তার সফলতা । এইভাবে হাজারটা সফলতা দিয়ে একদিন সাহিত্য রচিত হয় । আমার জীবনের যেটুকু সাহিত্যপ্রেম, সমস্তই এই দিল্লির রুক্ষ আবহাওয়ায় পালিত, আর সেই সাহিত্যপ্রমের প্রথম মুকুল ২০০২ মহাবীর এনক্লেভে দিলীপ বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িতে ফোটে । সেই দিনকে আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না ।
সেবার দিল্লি বইমেলা । দীপক প্রকাশনী নিয়ে আপনার দারুন উতসাহ । রাজধানীর বুকে একটাই বাংলা প্রকাশন । পত্রিকা বের করেছেন প্রবাহ, কথাঞ্জলি, প্রতিভা পথিকৃৎ । অথচ দিল্লির বইমেলা স্টল নেবার পয়সা নেই । স্টল নিলে কিছু কেনা বেচাও হয় । আমরা গোপনে চাঁদা তুলে আপনার স্টল সাজিয়ে তুললাম । কলকাতার স্টাইলে আমরা চাইলাম স্টলে বসে কবিতা পাঠ । কবিতা পড়লেন ঈশিতা ভাদুড়ি, প্রানজি বসাক, দিলীপ বন্দোপাধ্যায় , জয়শ্রী রায়, জ্ঞানেন্দ্রনাথ সোম, রুদ্রেন্দু প্রসাদ ঘোষ । আমাদের কবিতা কাঁচা, আমাদের কবিতা অপরিণত । কিন্তু সেই যে কবিতা পড়ার আনন্দ সেইটা ছিলো পাকা , সলিড । আমি ও আপনি ও সেই আসরে কবিতা পড়েছি ।
সামান্য কবি হওয়া, সামান্যতর পত্রিকা করা , ভুল বানানে গল্প লেখা দিয়ে আমাদের শুরুয়াত, যা আমাদেরকে অপাংতেয় করে রেখেছিলো , কিংবা সেটাই স্বাভাবিক । কিন্তু সেই যে তাড়না, সেই যে অনুপ্রেরণা, সত্যের জন্য ঝাপিয়ে পড়া, রক্তে দৌড়ে যাওয়া যমুনা আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবে না । বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর দুনিয়ায় এর পরে আমি অনেক বড় মেঝো ছোট সাহিত্যিকদের সঙ্গে ভাব বিনিময় করেছি, কিন্তু দিল্লির এই পালাম চত্বরে এতোটা আপন, এতোটা নির্লোভ, এতোটা নিঃস্বার্থ সাহিত্য আলাপ আমার ভাগ্যে জোটেনি ।
আজ আর বেশী কিছু লিখবো না । আগামীতে একখানি আপনার জীবন ও যৌবনকে আধারিত করে একখানি গল্প লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করি । যদিও তা ছাপার কেউ নাই । আপনার 'দীপক প্রকাশনী' শেষ হয়ে গেল । রাজধানী এখন মহান রাজাদের দখলে সেখানে একজন কবির ইচ্ছা অতি তুচ্ছ । যাদের কাছে দায়িত্বভার - তারাই বরং আরো বড় জাল বুনছে, আরো বড় মাছ ধরবেন । মহাকালের সাহিত্য ইতিহাসে তারা বড়সড় তির মারবেন । তাদের নাম রোশন হবে, আর আপনার মতো সত্যকারের সাহিত্যিক প্রান্তিক বই বিক্রেতা চুনোপুটি হিসাবে ভিড় করবেন বিভিন্ন বইমেলায় । কবিকুল পাথর হয়ে দেখবেন আর রাজস্তুতি লিখবেন ।
আর গোপালবাবু শেষ করা আগে ,আর একটা কথা জানাই । আপনার সম্পাদনায় প্রকাশিত আমার সৈন্যজীবনের কবিতাগুলি এখনো প্রকাশনা হয় নাই । ৫৫ খানা কবিতা আমার অপ্রকাশিত রয়ে গেলো । যদি কোনদিন অবসর ভেঙে আবার প্রকাশনায় আসেন, সম্পাদনায় আসেন, ধুলো ঝেড়ে কবিতাগুলি আবার পাঠ করা যেতে পারে । ভেবেছি বইটি নাম রাখবো "বাঁধা নয় রক্ত" ।
আপনার অনুজ
পীযূষকান্তি বিশ্বাস
মহাবীর এনক্লেভ,
নিউ দিল্লি -১১০০৪৫
ঁগোপাল চন্দ্র পাল - ২২.১২.১৯৫২ - ১৩.১২.২০১৫
একজন নীরব, নিরলস, প্রচার বিমুখ মানুষ ছিলেন । বাড়ি করেছেন পালাম গাঁও এ । তিনি অনেক পত্র পত্রিকার সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতেন – কখনো প্রকাশক, কখনো সম্পাদক আবার কখনো শুধুই সহকর্মী । প্রবাহ পত্রিকা, কথাঞ্জলী এবং পরবর্তীকালে প্রতিভা পথিকৃত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। উনার নিজের শেষ বই "মহুয়ার গন্ধ" যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছিল । তার মৃত্যুর পর তার প্রকাশনী "দীপক প্রকাশনী" যা দিল্লির বুকে একমাত্র বাংলা প্রকাশনা ছিলো , তা বন্ধ হয়ে গেলো ।
পেরেক অবাক ! অবাক তাদের বিন্যাস । এক আত্মাকে সুতোয় বেঁধে ফেলে তাকে জাল বানিয়ে ফেলা যায় । জাল, সূত্র হতে পারে । জাল হতে পারে বৃহত্তর পৃথিবীর চিত্র । আর দর-দুনিয়ার রং নিয়ে আমাদের যতই টানাটানি হোক- লাল, সবুজ বা গেরুয়া অথবা গদ্য, পদ্য কবিতা । প্রত্যেকটি পেরেক একটি জোড় । জোড় থেকে শুরু হয় অন্য একটি পাপ্প যুগে যুগে কবিগুরু তাকে মহাত্মা বলেই ডাকবেন । যেহেতু পেরেক দিয়ে শুরু, পেরেক দিয়ে খতম । একটা ভিডিও দিয়ে দ্যাখানো যাক ।
যে বাঁশী আমার ছিলো না
---সেইটা নিয়ে লিখতে হবে
পাতার ঝাঁক ঝাঁক এতো সবুজ ঘনঘন
রোদের টুকরা টাকরা তবু চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে
কোনভাবেই সেকি গাছ আটকে দিতে পারে ?
অথবা কোন মাথাল মাথায় কোন গাছওয়ালা
তার তো chata নেই কোন ছাপ্পান্ন চওড়া ছাতি
তোমরা বলছো, অথচ বলছো অন্য ভাবে বলা
অন্য ভাবে তোমরা tobe কি বলছো ? কত কী
কোনভাবেই রোদ তবুতো আটকানো যাচ্ছে না
রোদঘাম গায়ে বড্ড লাগে, চামড়া পুড়ে পুড়ে যায়
চ্যাটার্জির kaLO meyetar এতো দিনে হলো না বিয়ে
Symnla tbke tar দাগ হয়ে বসে যায় আত্মগ্লানি
তোমরা কি লিখছো, অথচ লাখো লাখো কবিতা লিখিয়ে
বিয়ে না হলে কি হয় ? কি বলছো হে ? তাতে গাছের কি
বিবাহ কি তবে পৃথিবীর একমাত্র ভবিতব্য কলা
ন্যাহ, এভাবে কোন gach hoi na বা যেকোন জনন
জন্মের জন্য জরুরী একটি মা, একটা উষ্ণ আঁচ
সৃষ্টি jny জরুরী সঙ্গমের , proyosjon আলোচ্ছায়া
cayar jny ছাতা ? অথচ proyojon ke বলছো গাছ
তাহলে , গাছ কি ছাতা হবে ? নাকি হবে আলো
কি যো বলো radhamohon ? e কি পাগলামী কথা
গাছ, তো, যে কেউ হতেই পারে আম জাম বট
পাতাকে এমন বিছিয়ে দিতে হবে jmota নিছিদ্র
বট থাকবে, বটের পাতা থাকবে biSHnu niyoto, জন্মাবে
যে তার বেয়ে নিয়ে আসে প্রণয় songbad
একজন গাছের হয়ে আমি কি কথা বলি
প্রচ্ছায়ায় ভিজে নরম আমার ধরে আসে গলা
রং ছাড়ো, আমার নিজেরই নেই কোন বেরঙা ছাতি
তোমরা বলছো, অথচ বলte bolcho অন্য ভাবে বলা
-----------------------------------------
নীলিমা
রৌদ্র-ঝিলমিল
উষার আকাশ, মধ্যনিশীথের নীল,
অপার ঐশ্বর্যবেশে দেখা তুমি দাও বারে-বারে
নিঃসহায় নগরীর কারাগার-প্রাচীরের পারে।
উদ্বেলিছে হেথা গাঢ় ধূম্রের কুণ্ডলী,
উগ্র চুল্লীবহ্নি হেথা অনিবার উঠিতেছে জ্বলি’,
আরক্ত কঙ্করগুলো মরুভূর তপ্তশ্বাস মাখা,
মরীচিকা-ঢাকা ।
অগণন যাত্রিকের প্রাণ
খুঁজে মরে অনিবার, পায়নাকো পথের সন্ধান;
চরণে জড়ায়ে গেছে শাসনের কঠিন শৃঙ্খল;
হে নীলিমা নিষ্পলক, লক্ষ বিধি-বিধানের এই কারাতল
তোমার ও-মায়াদণ্ডে ভেঙেছো মায়াবী!
জনতার কোলাহলে একা ব’সে ভাবি
কোন্ দূর জাদুপুর-রহস্যের ইন্দ্রজাল মাখি
বাস্তবের রক্ততটে আসিলে একাকী;
স্ফটিক আলোকে তব বিথারিয়া নীলাম্বরখানা
মৌন স্বপ্ন-ময়ূরের ডানা!
চোখে মোর মুছে যায় ব্যাধবিদ্ধা ধরণীর রুধিরলিপিকা,
জ্ব’লে ওঠে অন্তহারা আকাশের গৌরী দীপশিখা!
বসুধার অশ্রুপাংশু আতপ্ত সৈকত,
ছিন্নবাস, নগ্নশির ভিক্ষুদল, নিষ্করুণ এই রাজপথ,
লক্ষ কোটি মুমূর্ষুর এই কারাগার,
এই ধূলি—ধূম্রগর্ভ বিস্তৃত আঁধার
ডুবে যায় নীলিমায়—স্বপ্নায়ত মুগ্ধ আঁখিপাতে,
শঙ্খশুভ্র মেঘপুঞ্জে, শুক্লাকাশে নক্ষত্রের রাতে;
ভেঙে যায় কীটপ্রায় ধরণীর বিশীর্ণ নির্মোক
তোমার চকিত স্পর্শে, হে অতন্দ্র দূর কল্পলোক!
Comments
Post a Comment