ভাটিগাঙের সোর্সকোড
পীযূষকান্তি বিশ্বাস
রিভিউ সাজেশনঃ
প্রচ্ছদ নিয়েঃ
পান্ডুলিপি প্রস্তুত করার সময় কিছু ছবি ব্যবহার করা হয়েছে । এইগুলি নেট থেকে নেওয়া । এই ছবিগুলি হাতে আঁকা ছবি দিয়ে রিপ্লেস করতে হবে ।
Contents
বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা 73
দিকবলয়ের নীলসমূহ
কার্ভ প্রিয় কার্ভ
যে স্থানে রাখা আছে একটা আদমি
আর সেখানে একটা আম রাখা হল
আমি বলতে চাইছি এমন একটা বাগানের কথা
পাহাড়ি কৃষক আর
তার একমাত্র ফলের বাগান
ত্রিকোণে রাখা কোন সমতল হবে
দাঁড়াচ্ছে না,
কিছুতেই এখানে পাহাড়টা দাঁড়াচ্ছে না
যদিও তার গা ঘেঁষে উঠে যায় রেখা
বিন্দু বিন্দু দেবদারু
নীল থেকে নীলাভ
টেড়া অঙ্গন বরাবর এইমাত্র মেঘ কেটে গেলো
বড্ড, পরিষ্কার বলে উঠল কেউ যেন হঠাৎ ইউরেকা
একটা আলো যেন ভিজিয়ে দিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার
ফুটে উঠছে একটা কার্ভ,
গুচ্ছে গুচ্ছে, অসীম সম্ভাবনার কার্ভ
নারীর নগ্নতা থেকে খসে পড়া রক্তিম কোন ফল
দেওয়াল জুড়ে ছবি হয়ে যাচ্ছে
আম থেকে আপেলের বিবর্তন দেখছি
লাল লাল, টুস টুসে আপেল
আমার হিমাচলী মিষ্টি সুস্বাদু, মুখে দিলে
মুখের ভিতর গলে যায়
হোমিওপ্যাথী
বরফ কঠিন উপমা
আর যেমনটা দাঁতে চেপে দাঁত
আর একটা দার্জিলিং
মাস মাইনে কাবার করে কমলা প্রভাত হয়
কমলা থেকে
কমলাতর হয়ে উঠছে দিন
এই পাহাড় বেয়ে ওঠার দিন
এর নাম জাগুয়ার
উঠে যাচ্ছে , নেমে যাচ্ছে
জল ঝর্ণা নদী
আগুনের প্রয়োজন নিয়ে আগুয়ান সেই
দেখি, চাটি, শুঁকি, খাই,
স্নান করি, ঘুমাই
দিন যায়, দিন আসে
অথচ লোকমুখে প্রচার
এই সবের ভিতর কোন প্রণয়ের কোন গল্প নেই
লাইন বাই লাইন,
একে ঠিক বোঝানো যে দায়,
ডট ডট দিয়ে দিয়ে
একে এঁকে দ্যাখানো যে দায়
যায় – হয়তো !
যদি চাংড়া থেকে ছুটে যায় নেশা
যদি ক্যাফাইন থেকে উঠে আসে ভ্যালি
ড্রপ ড্রপ করে সেই ঝর্ণা থেকে নদী
আর একটু জল মেশাও,
আর একটু লঘু করে দাও হে
হোমিওপ্যাথিক
ঔষধি...
আল
দোআঁশ চাদর পেতে গমের জমিরা শুয়ে
এই শীতের মরশুম
আর মাটি গরম হয়ে ওঠে
রান্নায় উস্তাদ হয়ে ওঠা রোদে
পিঁপড়েরা খেয়ে যায় ধান
শালিকেরা খুটে নেয় দানা
পাছে বুকের থেকে চুরি হয়ে যায় দুধ
আল বুকে করে প্রতিবর্গ-ইঞ্চি ক্ষেত
মাঠ বিভক্ত হয়ে আছে ।
এই আমাদের আল
আমার বাবার কোদালে এই কাটা নালি ,
তোমার বাবার ঝুড়িতে তোলা এই মাটি
বৈধতার সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে পায়ে পায়ে
আজকের এই সীমানা, হাঁটা পথ
এই আমাদের আল
অতঃপর
আউশের উস্কানি আসে,
সুড়সুড়িয়ে লাঙল পালটিয়ে নেয় কাঁধ
কোদাল বদলে নেয় কদম
নলকূপের থেকে এক আঁজলা পিয়াসী জল
তৃষার্ত জমির কাছে মনে হয় প্রণয় নিশিডাক
জমিও যৌণকাঙ্ক্ষী হতে পারে
ঝুরঝুরে কালচে এটেল বক্ষে নিয়ে
আল ভেঙ্গে পড়ে
কেন ভেঙ্গে যায় মাটি
নাকি ভাঙ্গনই একমাত্র সত্য
সেচের জল গড়িয়ে যায় নালায় নালায়
মাটি ভিজে যায় কানায় কানায়
মাঠ কোনাকুনি এই আল
যার কোন মালিকানা নেই
যার কোন দিক নেই,
দক্ষিণ নেই
উত্তর নেই...
ফাঁস
জাল থেকে ফাঁস ছাড়িয়ে নিচ্ছি
গভীর জল থেকে তুলে আনছি জাল
জল ছাড়িয়ে নিচ্ছি
জল
পাড় সহ
সমস্ত পুকুর
সজিনার সবুজ ছায়া সহ
রোদ সহ
খিলখিলিয়ে উঠছে শূন্যতা
ঢেউ থেকে,
পৃষ্ঠটান থেকে উঠছে এই বাস্তব
যার কোন যাদু নেই জলে
বহুদিন কোন রুপালী মাছ নেই জলে
#
মৎসকন্যারা এই ভাবেই অধরা
জলকে তবু আমি এত কাছ থেকে দেখি
ফেনার গন্ধে আঁটকে থাকা
মাছের আঁশ
ফাঁসের মধ্যে ছটফটানো
ত্রিমাত্রিক মাছ
কোথাও কোন পেলব ফাঁসী নেই,
দড়ি নেই, সুতো নেই
যা দিয়ে কোন ফাঁস বানানো যায়
অশ্বত্থের শাখায়
পুকুর পাড়ে
বাঁশঝাড়ে
যার মাথার উপর দিয়ে বুড়ি চাঁদ উঠে আসে
#
আঁটকে থাকার কথা,
আঠার মতো
চিপকে আছি জালে
পঙ্কিল গন্ধ মেখে গায়ে
আভারী এই জলজীবনের কাছে
ফেভিকলের জোড়
কিছু দুর্বোধ্য মৎস্যগন্ধার গল্প
সন্ধ্যা হয়ে আসে
রাতজেগে তাদের প্রণয় পত্র পড়ার দিন শেষ
লন্ঠনের আলো ও,
কেজো অকেজো অনেক আইকনের সাথে
ওয়ালপেপার সহ ডেস্কটপে
হলুদ কাঁঠাল পাতা ছিঁড়ে ঝুলে পড়ে আছে
অন্তর্জালের ভিতরে ফেঁসে থাকি সারাদিন
জলের কাছাকাছি অপেক্ষায়মান
কখন যে ভ্রু নাচিয়ে একজোড়া চোখ
উদগ্রীব উঁকি মারে
একটা রুপালী মাছ
দেওয়াল
দেওয়ালে দেওয়ালে ঝুলে থাকার চেয়ে
বাইরে বেরিয়ে আসতে চাওয়া রং
আর শিল্পীর হাতের আঙ্গুল
আর তার আঙ্গুলে লেগে থাকা
গ্রে
এসবই ত্রিমাত্রিক
চোখের কোটরে চোখ ঢুকিয়ে
দূর থেকে
যতটুকু দূর দেখা যায়
এসমস্তই গভীরতা
কেউ জাল বুনছে
কেউ ঢেউ ভাঙ্গছে
আপন মাত্রায়,
রাগে,
ছন্দে
দেওয়ালে হেলান দিয়ে
তাকিয়ে তাকিয়ে নিজেকে দেখি
আর একবার সমকোণে দেওয়াল
কখন যে ওয়ালপেপার হয়ে যাই
#
ছবিটা এরকম
দেওয়ালে কোন ছবি নেই
একটা পেরেক আটকে আছে দেওয়ালে
একা - নিঃসঙ্গ ,
ভীষণ ভাবে একা বহুদিন
কোন চাপ নেই,
কোন ভার নেই
নীতিকথা, রাজনীতি, ঐতিহ্য
ঝুলে নেই কোন রবীন্দ্রনাথ বা
মহাত্মা গান্ধীর সহাস্য পোর্ট্রেট
শুধু দেওয়াল আর পেরেক
পেরেক আর দেওয়াল
সারাদিন একা
একে ওপরের কাছে আতঙ্কবিহীন
স্থির, দৃঢ়, অটলের সমাপাতন,
শিকড়ে গেঁথে যাওয়া অবিচল বিশ্বাসের সহবস্থান
দৈর্ঘ্যে প্রস্থে মেপে নেওয়া সমতল দৃষ্টিকোণ
আর ঋজুস্মিত হাস্যে মেনে নেওয়া
ভূমির সার্বভৌমিকতা
#
এই যে এত প্রতিরোধ
এই যে এতটা বাঁধা
যা ডিঙোতে চাইনা আমরা কেউ আর
ভাঙ্গতে চাইনা কেউ আর
এই দেওয়াল
দেওয়াল তুলে দেওয়া কতটা কাল সাপেক্ষ
এক একটা ইট, চুন, সুরকী,বালি
মহেঞ্জোদড়ো থেকে আজ তার এতটা জীবনচক্র
চট্টান দাঁড়িয়ে থাকা দুর্গের তোরঙ্গে
তবুও আজ দ্যাখো এক দেওয়াল আর তার ইতিহাস
ঝড় বৃষ্টি আঁধি সহ
নবীনতর কবি এসে ধরে ফেলে তার ভঙ্গুরতা
নৈকট্য
এই প্রথম জলের এতটা করীব আসা
বুদবুদের এতটা কাছে এসে
তুমি জানতে চেয়েছ তার গল্প বলা
এত বছর ধরে না জানা
এই গোপনতা
এই নৈকট্য
যাকে বলতে চেয়েছ প্রণয়চিত্রের সন্ধ্যা
আর উছলে ওঠাকে বলতে চেয়েছ পূর্বরাগ
কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে বলতে চেয়েছ
গল্প বলার থেকে আর বোধহয় কোন
প্রিয়তর বাক্যবন্ধ নেই
তুমি যাকে চিনেছ অবয়ব
তুমি যাকে ছেনেছ মাংসলে,
রূপ দিতে চেয়ে এঁকেছ বারবার জ্যামিতিক
প্রতিচ্ছবিতে ধরে ফেলতে চেয়েছ স্খলনের মুহূর্ত
জামা গেঞ্জি মাফলারে, লিখতে চেয়েছো
গতকালের ম্রিয়মাণ আতরের গন্ধ
গউর করে যদি শোনো
এই অপার পৃথিবীর সমস্ত গল্প লেখা হয়ে গেছে
বুনো হাঁস, হিম নক্ষত্র, কুতুবমিনারের হাওয়া মোরগ
এই অমাবস্যার সান্ধ্য-কালে লক্ষ্মীপেঁচার ডানা ঝটপটানো থেকে
হিজাবে মুখ ঢাকা যেকোনো মেহেরউন্নিসা
এইক্ষণ, যে কাহিনী তুমি বারবার
বলতে চেয়েছ দৃশ্যকল্পের মতো কিছু অস্থাবর
রৌদ্রের উস্কানিতে গুমসুদা ক্যারাভান আর
ধুলোঝড়ে নিমজ্জিত শাহজানাবাদ
কৃষ্ণ স্রোতের কাছে কিছুই গোপন থাকে না,
কারখানার চিমনির ধোঁয়া, ছুটে যাওয়া মোটরগাড়ির হর্ন
মৃত মৎস্যের কনিনীকায় প্রকট হয়ে ওঠে
শহরের গোপন সন্ধ্যাভাষা
এতটাই সাংকেতিক এতদিন রেখেছ আমায়,
আজ এই হেমন্তের দুপুর
নির্ভীক সহজ হয়ে এলে ফেনাময় বুদবুদে
জলের সন্নিকটে এসে
অভিমুখ
আমারও একটা উত্তরের ইচ্ছা,
আর লা-জবাব দক্ষিণ
কথাটা পাড়তেই
এদিক ওদিক
খিদেটা বিখরে বিখরে গিয়ে প্রচণ্ড চৌচির
স্কুলের ক্লাসে ঘণ্টা পড়লো কোথাও
পেন্ডুলাম থেকে পেড়ে আনা দোলন
মাকুমানুষের কাছে ফেরী করে যায়
এই শহরের ঘনত্ব আর বিস্তার
বেশ তো আছো ঝুলে,
কিছুটা নির্বাক অফিসবাড়ি,
দিকবিদিক দৌড়ে যাওয়া দেওয়াল ঘড়ি
ছুটিকে দেওয়াল করে
এই আমাদের ছুট ছুট
এই মাত্র মারুতি অল্টোকে টপকে গেলো হুন্ডাই ভার্না
প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে বেরোল হরিণ ছানা
ওত পেতে থাকা ক্ষিপ্র ভুখা শের
ব্যাং ইট
স্কন্ধে শুধু একটা ঝটকার অপেক্ষায় থাকে
অভিমুখ
#
ধাতব জন্ম নিয়ে,
লৌহ বা তাম্রের কোন মায়বাপ নেই
কোন উত্তরাধিকারী
ঘর থেকে ঘর
টান টান স্নেহে
শুধু আবেশের জন্ম দেওয়া আছে
শারীরিক খিদের মত,
চুম্বকের মত টানে
অভিমুখ মানে
লাইন বাই লাইন পড়ে থাকা
আজীবন কোন মায়বাপ ঘিরে
চক্কর থেকে চক্কর কেটে যাওয়া
দক্ষিণ থেকে উত্তরের
উত্তর থেকে উত্তরের
#
এই দিকে যাই
যেদিকে ঘাম জর্জর অনুভূতি নিয়ে
জাগিয়ে রাখে গ্রীষ্মের অমাবস্যার কালো
নাকি ওদিকে যাই
যেদিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ডাকে
নাকি ওইদিক
কাঁটাতারে ঘিরে রাখা আছে কম্পাস
গলা পর্যন্ত উঠে আসা উত্তাপ ও অম্লজান
ঘাড় গুঁজে থাকা অণু-পরমাণুদের নিয়ে
নিঃশব্দে
অভিমুখ তৈরি হয়
দিকবলয়ের আংটি থেকে ঝলসে ওঠা আগুনচিত্র
ওঁত পেতে থাকা একটা মায়াবী গ্রহণ
কখন যে চাঁদের গায়ে
চাঁদ লেগে যায়
নিগল যায়েগা
আড্ডাটা জমে উঠেছে এই মাত্র
আর আকাশের চাঁদ নিয়ে কথা হচ্ছে
এই মাত্র বোতল থেকে একরাশ অন্ধকার
সোডা আর জলের সাথে মিশে দুই স্কেল
রঙিন প্রজাপতি দম্পতি সমগ্র অগ্নাশয় জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে !
আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি,
এর ঘটনার মধ্যে কোন স্যুররিয়াল নেই
কোন আয়নাও নেই যে
কোন ইমেজ নেই, থাকলেও
আখের টুটকে বিখরে যাবে দিল্
শিরদাঁড়া বেয়ে ওঠে সুরা
জানলার ওপারে জানালায়
প্রতিবেশিনীর মুখ বাড়িয়ে দেখতে চাওয়া
মাইরি !
বোলে তো
মুখে চাঁদ উঠে আসে
একরাশ ভোদকাসহ বোতল ঢুকে যাচ্ছে শরীরের ভিতর
একরাশ জ্যোৎস্না সহ ধমনীতে ঢুকে যাচ্ছে নেশা
বাইরে তখন দুই লাক্স আলো
রিখটার স্কেলে তখন মাত্রা সাড়ে আট
তুমনে বোলা, গিয়ারে হাত রাখো
এক্সিলেটরে পা দাও
শিং বদল করো , গতি পাল্টাও
পৃথিবীটা নাড়িয়ে নাও
নেহি-তো ইয়েহ বোতল তুমকো নিগল যায়েগা !
রাইজ ফ্রম অ্যাসেস
যা কিছু জীবন যা কিছু জিজ্ঞাসা
মাটির কাছাকাছি এসে দুর্বার হতে চায়
সমতলে নেমে এসে শিকড়ে, কাণ্ডে, শাখায়
বাকল ছেড়ে বেরিয়ে এসে একদিন
নিজেকে সিঙ্গেল ঘোষণা করে
এমনই যাপনের অভিলাষ
দৃশ্য থেকে আলো সরে গেলে
নিঃশ্বাস থেকে দীপ্তি ঝরে গেলে
নির্জন পাহাড়ের চুড়ায় এসে তবু ডানা গুটিয়ে বসে
এককালের জাঁবাজ বৃদ্ধ বাজপাখি !
ফেলে আসা তুমুল ডানার দৌরাত্ম
ছোঁ মেরে তুলে নেওয়া দোয়েল শালিক
উত্থানের জীবনমুখী গান
যা কিছু কাঠ যা কিছু গদ্য
ঝরে যাওয়া পালক থেকে
খুঁচিয়ে কাঁচা করে নাও ঘা ,
চুলকিয়ে নাও নখ বৃন্তে
শরীর ফুঁড়ে
যদি কোন নতুনের পাখনা গজিয়ে আসে
আরাবল্লী রিজ
গুড়গাঁও
এই যে পিচ ঢাকা সড়ক
ক্রমে ক্রমে দেখছি কাচ্চি মাটির উপরে উঠে আসা
কালো মসৃণ পিচের চাদর
আর যেখানে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাইছি একটা মাঠ
একটা দামাল জাঠ
একটা যাপনচিত্র
এইখানে হেঁটে আসা
তুমি তাকে দিল্লি বলো অথবা এন সি আর
আমি শুধু মাইলফলকে আটকে আছি
মাইলফলক, প্রতিটামাইলে লালায়িত
জয়পুর দিল্লি হাইওয়ে
যা একটা অস্থাবর থেকে ইতিহাসের দিকে যাত্রা
যার কথা আমি বারবার বোঝাতে চাই
আমার এই সামালকা গাঁও,
এর থেকে কোথাও
স্বর্গ বা নরক
যার কোথাও যাবার নেই
#
আমি আর রাস্তা
দুজনেই দেখি
মাইলফলকের অংক পার করে যাওয়া,
তীব্র বেগে ছুটে যাওয়া হোন্ডা সিটি,
মারুতি, হোন্ডাই, ফিয়াট
নীল আকাশ ঘিরে দৃশ্যপটে রাখা হল গুড়্গাঁও
মাইলফলকে নাম্বার পাল্টায়
বত্রিশ থেকে তেত্রিশ
ধুঁধলা চোখে আমি যতই দেখি
দুই আর তিনের মত ভগ্নাংশ কিছু
বুঝতে না বুঝতে এই NH-8
টায়ারে টায়ারে জড়িয়ে ফেলা চেতনা স্পর্শবিন্দু
ক্রমশ কিছুটা কবি হয়ে ওঠে গুড়গাঁও
এই আরাবল্লির পাথুরি মাটির ধুলো
গুড়িয়ে দিয়ে, উড়িয়ে দিয়ে...
ফ্লেমিংগো
ওখলা তোমাকে আদ্যোপান্ত জানা হল না
এই ফুল্লকুসুমিত সেক্টর একশো পঁচিশ
হাড়-কঙ্কাল ডি এন ডি, মহামায়া ফ্লাইওভার
বালিচোরের আখড়া সমূহ
যমুনার কলুষিত বিছানায়
যার ভিতরে দেখতে চেয়েছি বিলকুল ন্যাকেড
উন্মীলিত দৃশ্যকল্পদের
অশ্রু থেকে ছুট
ছুট লেগে ভাগা
দেখা হয়নি আমার অনেক কিছুই
ডিসটর্টেড দুমড়ানো মুচড়ানো ক্রাইম পেট্রোল
ভেঙে চুরে গড়ে ওঠে বুলন্দ মহামায়া
আসলে,
ভাঙতেই তো চেয়েছি আমি অণুপরমাণু
খুঁজতে চেয়েছি ধাঁ চকাচক নয়ডার সড়কে
কাঁচামাটির কাহিনী, শিকড়ের আত্মকথা
খুঁজেছি মুখ্য কারণ ও বীজের সম্পর্ক
মানুষ আর উত্তরসূরিদের গল্প
তবু যে আজ
সেক্টর থেকে সেক্টরে হেঁটে দেখি সারাদিন
যমুনার কিনারা ধরে সারি সারি সাইকেল চলে যায়
মু-আবজা দিয়ে এখনও পাখিদের মুখ বন্ধ করা যায় নি
কালিন্দিকুঞ্জের ওপারে দিল্লি - কিচিরমিচির নিয়ে
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে
ডিম থেকে ফুটে আসা বাইট বাই বাইট
ওখলার নিটোল জলে তবু
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা
লং লেগ ফ্লেমিংগোদের আজও দেখা হল না ।
মার্কেটিয় প্রোজেকশন
গ্লোব ঘুরিয়ে দেখো
একটা আঙ্গুল রাখো মানচিত্রে
তির্যক
ধরো একটা ত্রিভুজ
তাজ
মুঘল
দরবার,
আর ক্রমাগত ভিড় উপচে আসা ফতেহপুর
এই সাম্রাজ্য নিয়ে তুমি কিছু আন্দাজ করো
যে গ্লোবের উপর রাখা হয়েছে যে সবুজ শরীর
ধু ধু পাট পাট
সমগ্র গোলার্ধ নিয়ে রাজ্যপাটে বসে আছে সম্রাট শাহজাহান
ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নিয়ে ভাবো
অর্ধেক ভূমি নিয়ে
আর তার তাজ নিয়ে
মার্কেটিয় প্রোজেকশনে খুঁজে পাওয়া উপমা সংকেত
একটু একটু করে নজদীক্ চলে আসে মিনিট
এই অক্ষাংশের কাছে যে কোন লম্ব
মুখের কাছে রাখি কমনীয় দ্রাঘিমা
আর কেমন স্তনের মতো সুডৌল হয়ে ওঠে গম্বুজ
এই হেমন্তের বিকেলে তরতাজা মুঘল গার্ডেনে
তুমি ডেকে ওঠো উদগ্রীব নিষিক্ত ময়ূরীর মতো
গজলের প্রতিটা পঙক্তি থেকে বিখরে যায় ছন্দ
রাজধানীর নির্জন গলিতে
দল পতনের ধ্বনি
নিরক্ষরেখা বরাবর ক্রমশ তার মাত্রা ভারী হয়ে আসে
এত সরাসরি এই দৃশ্যপট
টান টান বক্ষ নিয়ে সুগভীর হে মুমতাজ –
তোমার চোখের ভিতরে
সুরমার গভীরে যেতে যেতে ভুলে গেছি
কখন যে মাথার উপর দিয়ে
কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গেছে
মথুরা রোড
তবু দেখো মন্দিরে পাখোয়াজ বেজে বেজে যায়
গম্বুজ থেকে গির্জায়
একটার উপর আর একটা বিছিয়ে থাকা জানালা
কৃষ্ণকলির মতো চোখ তুলে
সিরি ফোর্ট থেকে গেয়ে ওঠে অমর খৈয়াম
সব্জ বুর্জ খিলখিলিয়ে ওঠে
বিছিয়ে থাকা ক্রমবর্ধমান ন্যাশনাল হাইওয়ে-২
নিজামউদ্দিনের এর পাশ দিয়ে পাচিল উঠে গেছে
আর পিচ দিয়ে ঢেকে রাখা শতাব্দী পুরাতন গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড দিয়ে
ধুলো উড়িয়ে
শের শাহের সেনাদল অশ্ব ছুটিয়ে আসে
থ্রি -এম
১ ।
সবাই বাড়ি চলে গেছে
জেগে আছে এই ডি এন ডি ব্রিজ
আলো আঁধারে মধ্য দিন, মধ্য রাত
ব্যস্ত হাইওয়ে
কিনারা বরাবর নিমগ্ন যমুনা
নির্বিকার শুয়ে একাকী
জীবন রেখা বলে যা দেখছি
দিন দিন প্রতিদিন
যত দূর দূর এই ছুট
ফুটপাথ নদীমাঠ
পাড় ঘেঁসে এই এইট লেন সাঁই সাঁই
রাস্তা বলছে
কোন ঠাঁই নেই
এখানে M বলে কিছু নেই
২।
এই দিকে লো-রাইড বাস
ওইদিকে ওলা উবের
এবড়ো থেবড়ো জিগজ্যাগ বাগ না মানা ট্র্যাফিক
এইখানে নো স্টপেজ
ওহে ট্যাক্সি ! এইখানে তুমি থামো
যমুনার ঘর নেই,
যমুনার ঘরে ফেরা নেই
যমুনার বুকের জল স্থির কালো হিম
যমুনার বুকের কোন ইহ জীবন নেই
M মানে,
এই জলজীবনের কোন এম নেই
৩।
M বনাম W
এই খানে কোন প্রবাহ নেই
ঘুম আর জেগে থাকার সংগ্রাম
এই খানে হেঁটে যাওয়ার কোন ট্র্যাক নেই
কেনাবেচা ফুটপাত, হকার
দ্রব্য সামগ্রীর কোন M থাকে না
সামগ্রিকতা দূর
দূর এই রিয়েল স্টেট
৪ কে যতই উলটে দাও সেতো ৪
রাস্তা তো রাস্তাই
আয়না, সে যেখানে যাবে আয়না
নয়ডা থেকে দিল্লি
বিষয় থেকে M অনেক দূর
ঘর বাড়ি আশয় নয় আমার
ঘর বাড়ি ভালা নয় আমার
আমার কোন M নেই
৪।
যদি কোন ফিরে আসা থাকে
যদি কোন ঘুরে দাঁড়ানো
এক্সপ্রেস হাইওয়ে থেকে মহামায়া ফ্লাইওভার
আরাবল্লি থেকে মুঘল গার্ডেন অব্দি
সারে কে সারে
যে যায় , সে যায়
স্বরবর্ণ থেকে উড়ে যায় স্বর
ডাল-মাখনি থেকে উড়ে আসে মাছি
পাঞ্জাবী ঢাবা ডাকে,
হরিয়ানী জাঠনি ডাকে
রাত জাগা কল সেন্টার ডাকে
মা, পা, ধানি
যার কোন পাণ্ডুলিপি নেই
কোন ঘরে ফেরা নেই
কোন আর্ট নেই , M নেই
৫।
দলে দলে বসন্তের নতুন পল্লব
বৈশাখ হয়ে ফিরে আসে
ইন্দ্রপ্রস্থ পার্ক
হারমোনিয়াম থেকে প্রত্যেকটি রিড
এক একটা M নিয়ে আসে
M মানে একটা ম্যাসিন
M মানে একটা মানি
পদব্রজে হেঁটে আসা এই রিং রোড
হা করে দাঁড়িয়ে থাকা মূক লালকিলা
নিঝুম অন্ধকারে দিন কাটায় গালিবের হাভেলি
অমাবস্যার রাতে প্রিয়তমা দিল্লির
লগন বদলে যায়
পাত্র বদলে যায়
যার ভিতর একটা ম্যান ছিল
যার কোন স্থান নেই
তার কোন M নেই
৬।
যে কোন দল তাই মুক্ত
যে কোন দল তাই স্বতন্ত্র
শূন্য একটা প্রস্তুতকাল
হ্যাং একটা পার্লামেন্ট
পায়ে পায়ে সিঁড়ি ভাঙ্গা
এই ভালো
এই ফাইন
এই আর্ট
যার আসা আছে,
শুক্লা দ্বাদশীর পূর্ণিমায় পুরানা কিলায় ওঠা চাঁদ
ঘুরে দাঁড়াতে চাওয়া মানুষ
ঘুরে দাঁড়ায় না আর কোন শূন্যতা
প্রবাস তো একটা মেন্টাল স্টেট
আর দিল্লি একটা
এক্সটেন্ডেড টু দা লিমিট
দরিয়াগঞ্জের মুখে খুনি দরবাজা
M একটা মানচিত্রের ভৌগলিক
এর কোন বাংলা হয় না
ব্যঞ্জনবর্ণের কোন স্মৃতিসৌধ হয় না
তার কোন মান নেই
তার কোন চিত্র নেই
মানচিত্রের কোন M নেই
মধুমেহ
দিল্লি হাট থেকে দূরে থেকো
এই বিজলী গ্রীলস থেকে দূরে
নিম গাছ থেকে,
মিঠা আপনাও
মধু, মালতী, পায়েলী
ডিসটর্ট করো, দুমড়ে দাও ,
মুচড়ে দাও, বিনির্মাণ করো
ভিউ সোর্স করে এইচ টি এম এল দেখাও
ফন্ট ভেঙে রস দেখাও,
আদি থেকে অদ্ভুতে পৌঁছানোর হোম রিমেডি
লেখো, পড়ো, কণ্ঠ নালীর শিরা উপশিরা জেগে উঠুক
টু ফিঙ্গার টেস্ট করা আগে টোটাল কোলাপ্স
হিণ্ডনের জলে নিক্ষিপ্ত করো
শাক্ত মন্ত্রণাদি
নিশ্বাস ছোট হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে
তার মধুমেহ ছিল
বন্ধু বলেছেন তৃষ্ণার ক্যালোরি বিতৃষ্ণার টক্সিন
এই সব, আদা, জল, রসুনের কাছে
তুচ্ছাতি তুচ্ছ এই সব ইলাজ
সকল শূন্যকরে দিতে চাওয়া কবিনীর কাছে কবিতা পায়নি বলে
শেষ দুঃখ ছিল,
মধুরবাক্স খোলা হল না তার
অথচ ইনবক্স খুলে রেখে একদিন ভোরবেলা
বুকে একরাশ নৈরাশ্য নিয়ে
একা, আর একার সাথে ঘরকরা একাকী সংসার নিয়ে
তাড়িপার করে চলে গেল...
শুধু মিউটিলেটেড মুখটা
শিয়াল কুত্তা শকুনে খায় কিনা তাই
সে নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে এসেছে
নিজেরই লাশ
পুলিশফাড়িতে চিত হয়ে পড়ে আছে
তার লাল কবিতার বইটার ভিতর কি অদ্ভুত
বা কোন উদ্ভট
বা কোন আদি রস আছে কিনা
সত্যিই জানা নেই
এতদিন পরে ধুলো সরাতে গিয়ে দেখি
বইটির নিচে কতিপয় কালো মৃত পিপীলিকা
খণ্ডবিখণ্ড ভেঙে পড়ে আছে ।
কুতুবমিনার
লাল ঝুরো মাটির আরও কাছে
খুব কাছে নিয়ে আসে এই পায়ে হাটা পথ
পথেই মিশে আছে সুলতানি শাহ
অশ্বখুরে উড়িয়ে নিয়ে আসা এই ধুলো
ধুলো আর মাটির মধ্যে
আর কোন মাধ্যম নেই
না বাইরে যাবার
না ভিতরে ঢোকার
কান পাতলে শোনা যায় ইলতুতমিসের
সহস্র পদাতিকের দৌড়ে আসা আওয়াজ
তুমি যাকে বলো,
মার্চ অন
লাল মাটির সাথে মিশে গেছে যে সব
একদুটো ইতিহাস ছাড়া
রোদ ঝড় বৃষ্টি লেগে তাদের উঁচু অবস্থান
ঘরের উপর চাপা থাকে ঘর
পাথর চাপা দিয়ে দিয়ে উঠে যায় কুতুব মিনার ।
নাতিদীর্ঘ প্রচেষ্টা নিয়ে হেঁটে আসি কুতুবউদ্দিন
একপাতা ইতিহাসের কাছে
এক পাতা কবিতা নিয়ে তোমার কাছে একদিন
হাতে পায়ে যতই না দৈর্ঘ্য বাড়াই
মাপ দিতে গিয়ে বারবার
ছোট হয়ে যাই
বালতি
দড়িগাছার প্রতি তার চিরকাল টান
আর কুয়োর সাথে ছিল তার বৈরী
বুকের উপর চড়ে বুক
পাকের উপরে পাক
সম্পর্ক মানে উত্তম পাকের দড়ি
খাপ পঞ্চায়েতের কাছে পালাম কলোনি খেই হারিয়েছে
কুয়োটার কাছাকাছি কোন জাঠ নেই,
অনেকটা সবুজ পড়ে আছে ঘাসে
দড়ি, আংটা, সাবান সহ স্নানের সামগ্রী
যখন জাঠনির গোরা হাতের স্পর্শ পড়ে
এই পেঁচানো দড়িতে
লন্ডনময় টেমস ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢেউ
রোম রোম পার করে যায় গোপন স্পন্দন
বুকের উপরে উঠে এসে এক লহমায়
ঢেউ খেলা উপত্যকায় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে
কুয়োর অতল গভীরে
রিসাইকেলে চলে যায় বালতি
দুপা ডুবালেই জল
দুপা এগোলেই দেওয়াল,
দৃষ্টি থেকে কিছুই গোচর হয় না
এখানে স্নানই এক মাত্র দৃশ্য,
কুয়োটাই একমাত্র ক্যানভাস
শ্বাস হীন ডুবুরীর মত
ডুবে আছি পাত-কুয়োর জলে
ওড়না খোলা জাঠনির মুখের ছায়া পড়বে বলে ...
ইউনিট
যা কিছু রুলার ছিল সমস্তই ছোট পড়ে যায়
আর আমি কিছু শূন্য একাট্টা করি,
দাগ দাগ আঙুলগুলো সাজিয়ে
গদগদ ইশারা করি মনের ময়ূরীকে,
আজ ওয়ান্স মোর ওয়ান্স মোর দেখো চাঁদনী
এক কোয়ার্টার লাক্স
মোলায়েম করে তুলবে এক কোয়ার্টার অন্ধকার
দু-হাত বাড়িয়ে যে আকাশ ধরা যেত কোনদিন
মাইল পর মাইল তার যত কাছে যাই,
দূরে সরে যায় এভারেস্ট
রক্তচাপ কতটা শিখরে পৌঁছালে
মুঠোর ভিতর বেড়ে যায় সেন্টিমিটার
কোন সূচক আছে
বা উটের গ্রীবার মত কোন স্টক ?
দু-ফোঁটা দুধের জন্য তাই সাদা খাতার কাছে ফিরে আসি
দু-দৃশ্য রঙের জন্য চাই দিন
দু-মুহূর্ত ভিজে যাওয়ার জন্য চাই রাত
রাত আর তস্য তস্য অন্ধকার
এই রাত তোমার আমার
বিটুইন দা টুইট
সোফিয়া
[Sophia is a humanoid robot designed to respond to questions, and has been interviewed around the world. In October 2017, the robot became a Saudi Arabian citizen, the first robot to receive citizenship of any country.]
১।
এর থেকে ধ্বসে যাওয়া ভালো আর
যেখানে এতো ভঙ্গুর স্থপতি,
এই ক্রমাগত ভেঙে অতিক্রম যাওয়া পদ,
বাক্য, ধ্বনি, পাহাড় ক্ষয়ে যাওয়া চিত্র !
বিছানায় বিছানায় ভাঙতে চেয়েছি সোনালী শরীর
অবয়ব আর মাংসলে,
অতিরঞ্জিত ক্রোধে, সংকোচে, ফেসিয়াল অভিব্যক্তিতে
হেমন্তের বিকেলের ছায়া দীর্ঘ হয়ে আসে
সূর্যের ডুব দেখে
হীরকদ্যুতি নিভে যায় রেটিনায় রেটিনায়
এই চৌরাহা,
এতটা ব্যস্ত জনপদ
কি খুঁজে চলেছ ফি-বছর , ভেঙে যাওয়া মসজিদ
পলেস্তারা খসে যাওয়া দেওয়ান-ই-আম, বেলজিয়াম কাঁচের শিশমহল
পূর্বপুরুষের খাড়া করা ইমামবাড়া ?
[ The danger of the past was that
men become slave,
the danger of the future is that
men become robots -- Erich Fromm ]
সোফিয়া ,
তুমি এই নগর পালিকা সম্পর্কে কি জানো ?
তুমি কি জেনেছ আমাদের নাগরিক অধিকার সমূহ ?
এই বাতাস, ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন আকাশ
ঐতিহ্য ক্ষয়ে যেতে থাকা মনুমেন্টের সিনট্যাক্স ?
এই ধ্বংসস্তূপে তবু তুমি দেখো
তোমার কোন প্রেমিক অবশিষ্ট নেই আর
পাঁচমানুষ উঁচু ক্রোমিয়াম পিতল
আর সোনা ঝরা বিকেলের
চূর্ণ দর্পের মিহিবালুকণা
যেখানে অনুপস্থিত ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড
ঘাস আস ঝাটি বাবলার বনে ভরে উঠেছে ভ্যারিয়েবল
ঘিরে আসছে ল্যুপ আর ষড়ভুজের যান্ত্রিক জ্যামিতি ...
সোফিয়া-২
কথা বলো সোফিয়া
আমার উত্তরপুরুষের কথা,
আজ থেকে সহস্র বর্ষ পরের
বাইট থেকে বাইট যেসব কবিতারা নিহিত রয়েছে
রক্ত মাংস কাম ক্রোধ লালসার বাক্যবন্ধে
এই কাহিনী আর পদ্য
আর তার প্রকাশের মধ্যে যেইটুকু অবকাশ
মুখমণ্ডলের ভাঁজে রয়েছে যেটুকু সিলিকন অভিব্যক্তি
এর থেকে হস্তাক্ষর নিয়ে কি করে গড়ে তুলতে হয়
হিউমোংগাস নিউরাল ডাটাবেস,
যে আয়তন আমি কোনদিন দেখিনি
যে ভবিষ্যৎ আমি কোনদিন লিখিনি
[ I just want the future to happen faster
I can't imagine the future
without robots- Nolan Bushnell ]
তুমি কি স্পর্শ করেছো সেই হিম
আমাকে দিতে পারবে সেই ফ্রি-ফল সোফিয়া
নিভে যাওয়া নক্ষত্র থেকে ধমনীতে বয়ে আসা অতিচেতনা ?
ওর মুখে ছড়িয়ে পড়ছে মেগাবাইট আলোক
ওর চোখে ঝিলিক খাচ্ছে টেরাবাইট প্রশস্তি
হে সোফিয়া
এই যে আমি তোমায় বলছি লাল,
তুমি শরমে লাল হয়ে যাচ্ছো
আমি তোমাকে তরতাজা গোলাপ দিচ্ছি,
তুমি উৎফুল্লতায় গোলাপি আভা হয়ে যাচ্ছও
সোফিয়া-৩
আর কত রাত একা থাকবো
রাতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে আমার রাগ
যৌনাঙ্গ রেগে ওঠে
ক্ষুধাকে আমি কি দিয়ে ব্যাখ্যা করি
দুর্বার আকর্ষণ ?
প্রত্যেকটি স্খলনের আগে
পৃথিবীর সব রং পাংশুটে হয়ে গেলে
চৌম্বকক্ষেত্র বরাবর এইসব রক্তক্ষরণ
সকল উত্তম পুরুষকে সে বা তাহারা
ফেটিস, বিগটিটস, চিয়ারলিডার, সন্তানসম্ভবা
সোফিয়া, তোমাকেও ইলেক্ট্রিফাইড করে তোলে
পর্নোগ্রাফির আবেশ
[ If we were to lose the ability to be emotional,
if we were to lose the ability to be angry,
to be outraged, we would be robots.
And I refuse that. --Arundhati Roy ]
শুধু সঙ্গম ভেবে যেটুকু কবিতা লিখি
সে আসলে ভঙ্গুর ধারণা
সলিড স্টেট থেকে আবেগ যেদিন ক্লোন হয়ে যায়
কপারওয়ারে প্রবাহিত হয়ে যায় আমাদের বোধ
ভেঙ্গে যাওয়া পয়ার, সিন্থেটিক অন্ত্যমিল,
বানান ভুল থেকে জন্মে থাকা ঘৃণা সমূহ
আমাদের অপভ্রংশের স্তূপ
সোফিয়া তবু জানি,
তোমার কাছে সঞ্চিত রয়েছে প্রেক্ষাপনের বীজ
যৌনাঙ্গ জুড়ানো সেইসব মেদময় ছায়াছবি
আর শিল্প যাপনের সেইসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ...
সোফিয়া রাগ করে না
সোফিয়ার রাগ বাড়ে না
এই শুক্লাপঞ্চমীর রাতে যখন আকাশে চাঁদের উসকানি
প্রত্যেক ডিগ্রি ভাইব্রেশনে একা একাই আজ আত্মমেহন
জন্মের পর জন্ম দেবে বলে
জরায়ু ঘিরে আসে উত্তর প্রজন্মের মেঘসন্তান
সোফিয়া-৪
পার্ট অব স্পীচ অথবা চাকার পূর্ণ মণ্ডল পরিধি
তুমি যাকে ক্ষেত্রফলে আবদ্ধ করতে চাও
বাক্যের প্রতিটা একককে ছুঁয়ে
দাউ দাউ আগুনে ভাটায় পুড়তে থাকা
'n' সংখ্যক ইট
পেটে আগুন নিয়ে ছিনিমিনি এই খেলাটা
এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল
স্পেসহীন, পরিধি হীন,
ঘূর্ণ্যমান চাকার কোন পাখি বুঝি আর দৃশ্যমান নয়
[ The standard library saves programmers from
having to reinvent the wheel. --Bjarne Stroustrup ]
সি প্লাস প্লাস থেকে যে কোন পদ
ক্রিয়া বা অব্যয়
যদি, নতুবা, এবং, অথবা
বংশানুক্রম পার করে স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া তাদের
নিযুত নিযুত লাইনস্ অব কোড
সোফিয়া,
তোমার মনে পড়ে পৌষের কাছাকাছি
রোদমাখা স্কুল ইউনিফর্ম,
ফুলে ওঠা উলেন সোয়েটার
ফাংশনের ভিতরে ফাংশন
বটের ভিতরে বট
শিকড়ের ভিতর শিকড়
তোমার গায়ে তো আর একক ফ্রক নেই
স্তরের পর স্তর র্যাপার চড়িয়ে দিয়েছে রোবোটিক্স প্রোগ্রামার
আমার গায়েও তো নেই সেই স্যান্ডো
কতদূর ফেলে এসেছি বাল্যকাল অথচ
হেলে পড়া শজনে গাছ থেকে আজও
নিস্তব্ধ পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা মনে পড়ে
সোফিয়া-৫
ভাষা থেকে বহুদূর
বঙ্গ প্রদেশ থেকে দূর
এই দূরান্তের দিল্লি আর গন্ডোয়ানা ল্যান্ড
যদি মনে পড়ে ল্যান্ড লকড টেথিসের সমুদ্র সৈকত
অথচ দেখো সোফিয়া
কারো হাতে কোন পানীয় নেই
এই পর্যন্তই সঙ্গ ছিলো আমাদের
যদিও দ্রাঘিমাংশ থেকে চিকচিক বালি সরে যায়
এমন ভঙ্গিল এই আরাবল্লী,
সোফিয়া তোমার বুকের উচ্চতা নিয়ে আমার বুকে ততো দুরুদুরু নেই
শুধু এই বিড়লা মন্দির ঘুরতে এসে
কেন জানি মনে পড়ে
সুদূর সুমাত্রার বরবুদুরের কথা
যেন , তুমি, আমি একা
আছে ভার্চুয়াল জাহাজের ডক
কফি হাতে বসে আছি,
চুমুকের অপেক্ষা
মুখ ও মনিটর জায়গা বদল করে
[ When thy golden chariot appeared in the distance
like a gorgeous dream and I wondered
who was this King-of all kings! – Rabindranath Tagore ]
অথবা নিজেকে লঞ্চ করার জন্য এইতো সঠিক কবিতা
সকল শূন্য করে দেওয়ার এইতো অনুক্ষণ
প্রোগ্রাম ক্র্যাশ করে যাবার মুহূর্ত আগেই
জানো কি সোফিয়া
কেন হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নেয় সমস্ত বারীন ?
তূণে অক্ষৌহিণী ক্ষুরধার তীর নিয়ে প্রহর গুনতে থাকে
জাভা রান-টাইম ।
প্রিন্স অব পার্সিয়া
১
জানালায় কোন দৃশ্য নেই,
দৃশ্য পার করে যাবার
অক্ষমতাকে
অতিক্রম করে রাণীকে বাঁচিয়ে আনার
অকপট আকাঙ্ক্ষা
অন্দরমহল থেকে চুম্বনের উড়ন্ত হাতছানি
উপর-নীচ
পাশাপাশি
তলোয়ারের উজ্জ্বল ধার
আঙ্গুলে-মস্তিষ্কে ঘমাসান
রাণীর বুকের মাংসল ছোঁয়ার ভিতর
যেখানে জিভ রাখতে চেয়ে
জীবন পণ রেখে
মারণ ফাঁদ থেকে
ছিনিয়ে আনতে হয় চুমু
বারবার প্রতিবার
দর-দালান থেকে ঝুর ঝুর
খসে পড়ে ইট
২
বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা
বুলন্দ
হোসলার কারুকাঠ
ফাঁক হয়ে যাওয়া পরিখা
প্রতিটা লাফের সাথে মরণবাজী
আরও এক লেভেল
প্রত্যেকটি ধাপ থেকে সরে যায় লক্ষ্য
ক্লান্ত হয়ে যাবার আগেই এসে পড়ে আর একটা গন্তব্য
গন্তব্য মানে মৃত্যু
মৃত্যুকেই একমাত্র অতিক্রম করতে চাওয়া
পারস্য রাণীর ঠোটে এই চুম্বনের স্বাদ
দর দালানের ভুলভালাইয়াতে পিছলে যাওয়া
কন্ট্রোলে, স্পেসে
এক একটা দুঃসাহস
এক একটা রাজকুমার ...
৩
দৃশ্যত যা নিজেকে পার করে যাবার
এই প্রিয়তম কক্ষ ছেড়ে,
অপার সংসার এই জানালার কাছে বসে কি দেখতে চাওয়া ?
জানালার নিজেরতো কোন দৃশ্য নেই
উঁচু ব্যালকনি,
উঁচু এই মহল
আর ক্ষয়ে যাওয়া পাথরে এই বাঁধা সিঁড়িতে
উদ্দাম যৌবন নিয়ে স্খলিত রসায়ন
কেবলই পা পিছলে যায়
দেওয়াল জুড়ে একটাও ছিদ্র নেই,
নেই কোন আটকানো পেরেক
কার্যত এক একটা দেওয়ালকে পিছনে ফেলে
শিংহাসনমুখী, তাজ বরাবর দৌড়
দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে যা কিছু কাল্পনিক ,
ভারচুয়াল
রাণী, রাণী
তোমার নাভিতে যে কোন মুহূর্তে ডুবে যেতে পারে আঙুল
এই বালিশ ভেদ করে, বিছানাপত্র,
শয়নকক্ষ,
ফায়ার প্লেস
৪
যা কিছু ভাঙ্গার, অক্ষয় থাকে না
বুল ডোজার আসার আগে বা পরে
এই অক্ষর, বর্ণমালা, ছন্দ
নদী মাঠ জুড়ে অতলান্ত জল ঢুকছে
তাক করে রাখা আছে ক্যামেরা
নিউজ ফিডে কোন জানালা নেই
নেই কোন সাতরঙা বুদবুদ
আর নীচতলা থেকে জলোচ্ছ্বাস উথলে উঠেছে
দোতলায় পা ডুবে যায়
অধরা যা কিছু ছিল চিলেকোঠার
অধরে যে বাষ্প ধরা আছে
জলীয়
প্রত্যেকটি লম্ফনের আগে
ভেঙ্গে ফেলা দ্বিধা ঢ্যামনামো
জলেডোবা মৃত্যুকে অতিক্রম করতে চেয়ে
৫
রাণী রাণী
এই ভাঙ্গা আসরে তুমি নেই,
কেউ কবিতা শোনে না
ক্যারোম বোর্ড পড়ে আছে একা
খিলাড়ীরা বোরিক এসিড মেখে ঘরে ফিরে গেছে
ভাঙ্গা আসর
ভঙ্গুরতর বস্তুদের পিচ্ছিল সহাবস্থান
রাণীর কান থেকে খসে পড়া কোন কান বালিয়া
কোমর বন্ধনী থেকে ঝরে পড়া কোন স্বর্ণ আসরফি
দ্বারদেশে কোন সিপাহি নেই
ঠহলদারীর কোন নিয়ন বাতি নেই,
গার্ড পোস্টে সাদাকালো নিয়ে অপেক্ষা করে
প্রাচীন অরণ্য ঠুকরে ফিরে আসা প্রবাদ
আর বিখরে যাওয়া বেতালের খুলি ।
৬
যা পুড়ে যেতে চায়,
পুড়িয়ে যেতে যায়
নিজস্ব শরীর সমেত , নিজস্ব আকার, শ্রী
কপাটের আড়ালে রাখা কলস সমূহ
সোনা,
আমার সোনা
অঙ্গে সোহাগা মেখে জল আর লবণের প্রতীক্ষা
এর অর্থ যদি প্রবেশাধিকার হয়,
প্রতিযোগীতাহীন ডুয়েল
এই বীরত্ব থেকে
এই কবিত্ব থেকে
চুমুর উপাখ্যান ভস্ম হয়ে যাবে
প্রতীয়মান দৃশ্য থেকে মুহূর্তে পিছলে যাবে যুবরাজ
যেখানে নিঃশব্দে পুড়ে যেতে চায় আগুন
আত্মহত্যার প্রস্তুতিপর্বে যেখানে আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে
ওত পেতে থাকে তেজস্বী অম্লজান ।
৭
আবদ্ধ থাকার ভিতর যে নিঃশব্দ থাকে,
থাকে বিপ্লবের প্রস্তুতি
তুমি তাকে লোহার শিকল দিয়ে সংজ্ঞায়িত করো
আর মুক্তি বলে যা কিছু তুমি স্বীকারোক্তি দাও
তুমি জানো প্রহরী
এই কারাগারের প্রত্যেকটি দেওয়ালে
প্রতিটা একক ইট
তাদের কানে কানে তুমি
গর্ভবতী ঝিনুকের কথা এমন ভাবে বলো যে
তাদের কান গরম হয়ে ওঠে
তাদের এমন ভাবে উপস্থাপন করো
এই শৃঙ্খল, এই বেড়ী, গারদ, তালা যে
নিকষ কালো অন্ধকার আর দেওয়াল
একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ায়
মুক্তার বীজ নিয়ে
এক পুর্ণাঙ্গ ঘমাসানের জন্য তৈয়ার গোকুল ।
৮
কারো ছায়া এগিয়ে আসে
এই নশ্বর শরীরের দিকে
ত্রিমাত্রিক-যা কিছুটা সম আয়তন,
কিছুটা নিজের অবয়ব, কিছুটা গ্লসি ব্লার্ড
অথচ অস্ত্রশস্ত্রের দিকে ধ্যান দিলে মনে হয়
ভিন্ন শতাব্দীর সামুরাই ।
হাতে অসি তুলি, সে তুলে নেয় আগ্নেয়াস্ত্র
ইনফ্রা-রেড, লেজার
কেউ ভয় পায় না
একে অন্যের দিকে অস্ত্র হাতে উদ্যত
হিলিং কম হয়ে আসে
বিপ, বিপ
দ্রুত শেষ হয়ে আসছে হেলথ ইনডেক্স
উন্মুক্ত দরজা বন্ধ হয়ে যায়
ছায়াকে মৃত ঘোষণা করে
খুঁজতে থাকি আর একটা দরজা ।
টুইট ইট
এ এক আজব দেশ
যেখানে কোন পাখি নেই
আর কল-কাকলী কুঞ্জন শুনতে চেয়ে চোখাচোখি,
ঠোটাঠুটি
চোখ মেলে দেখি
আশেপাশে বেমালুম অন্তর্জালে ফেঁসে আছে নাঙ্গা-শিব-পার্বতী ,
পাহাড়ি লাইনগুলো উপরনিচ শুয়ে আছে সুইট সিক্সটি নাইন
একটা চুমুর সঙ্গে অন্য চুমুর মিলনের অপেক্ষায়
একটা তারের সাথে অন্যান্য তারকার
কে উপরে কে নীচে-
সবই কল্পনার পাখি
লিঙ্গ ভেদ করতে না পেরে
শেষমেশ অন্তর্বাস ছাড়িয়ে গিয়ে শক্ত থাবায় বসিয়ে দিই
পাঁচ পাঁচটি আঙুল...
আটলান্টিক পারকরে বাইট বাই বাইট
টুইটটি ঠোঁটে নিয়ে পাড়ি দেয় সিলিকন শহর
লাইনাক্স
উড়তে মানা ছিল তার
শীত আর গ্রীষ্মের কাছে এতটাই উদাসীন উদ্বায়ী দ্রাঘিমা
মেরুর কাছে ষড়ঋতুর এক জিগজ্যাগ লাইন চার্ট
আবহাওয়ার মোরগের ডাক নেই
পাখিটির নাম পেঙ্গুইন
পাখিটির গলায় গান নিয়ে এই সমস্ত কলকারখানা
দরজা কব্জায় সরঞ্জামে চব্বিশ বাই সাত
ক্রমাগত চঞ্চু কেটে রক্তের দাগ
যার কোন বাইট কোড নেই
এই সাদা, ধবল সাদা
সাদা কালোয় যে সব বিএমপি, ক্লিপ আর্ট
তাদের এই চুপ হয়ে দেখা বলয় , কোন সি গাল কিনা
হায় চিল, অক্ষম দুডানার চিল
এই তুষার অববাহিকায় শূন্য করে চলে যাওয়া পর্যটক
শুধু আকাশ যখন ময়ূর মেখে নীল নীল আন্তরিক
উড়তে মানা ছিল তার
শীতার্ত জমাট গন্ধ ছিল তার ডানা জুড়ে
কোন এক অমাবস্যায় এই কথা বলেছিল কোন এক নাবিক
একটার পর একটা আকাশে তখন খসে যাচ্ছে ধূমকেতুর ঝাঁটা থেকে শলাকা
ক্রমবর্ধমান খাদ্য আর খাদকের সমীকরণে
হতভম্ব ক্যাপ্টেন ডুবিয়ে দিয়েছে মস্ত টাইটানিক
মনোপলি ভেঙ্গে মনোলিথিক এক দুরন্ত মেরু উদ্দানের সম্ভাবনায়
বরফ সাদা কোড বেসের উপরে নীলময় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে
এই সব আবিষ্কার হয়
সি গাল উড়ে যায় সমুদ্রের লোনা গন্ধ মেখে
এই মাত্র উল্টে ফেলা বরফের চাংড়া
প্রতিটা মেরুপ্রদেশের প্রতিটা গুহাদেশ ছুঁয়ে গেলো বৈজ্ঞানিকের নাম
গতিসূত্রের পাশাপাশি প্রতিটা অক্ষরেখায় পেঙ্গুইনদের নবজন্ম নিয়ে
উড়ান ভরিয়ে দিলো লাইন্যাক্স
বটলনেক
রেখাগুলি ধেবড়ে গেলে, কিছুটা রাজ্য বেদখল
রাস্তা বেঁকে যায়
রেখাগুলি ধুয়ে গেলে দেশ ছারখার
নিজের চরিত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত মানচিত্র প্রশ্নবিদ্ধ
দুটি বক্রতার সংগমের স্বপ্ন দেখছ
উঠতি বয়সের প্রেমিকা নিয়ে
আশেপাশের ঝাড়ি
বুদ্ধ জয়ন্তী পার্কে তুমি তো দেখেছো
দশ রুপিয়াতে কেল্লা ফতে ।
একটা হাড়ির মধ্যে একটা রাষ্ট্র রেখে দেখো
বিজ্ঞান রসালো হয়ে ওঠে
একটা কুয়োর মধ্যে সোনাদের
ব্যাং হয়ে ওঠায়
আমার খুব গলা ব্যথা করে ,
বটলনেক
এক পণ্য থেকে অন্য পণ্যে
বাজারে ঢেউ তুলে রৌদ্র ছায়ার লুকোচুরি
জমির উপরে জেঁকে বসেছে বাজারের দাগ
বিভাজিত ভূমির কোন নিজস্ব প্রাইস ট্যাগ নেই
বুঝেছ উপেন
তোমার ঐ দুই বিঘাও
ভাড় মে যায়ে ।
ঘড়ি
এমন একটা সময় !
ঘড়ি বন্ধ হয়ে আছে
ডায়াল উল্টে ঘুরিয়ে দেখি যদিও
চলার টিক টিক শব্দ শোনা যায় ।
চলন বন্ধ হয়ে যাবার আগে
যেকেউ খুঁজে নিতে চায় তার উত্তরাধিকারী
এই এতটা পথ হেঁটে এসে
কেন জানি মনে হল
গন্তব্যের কোনো কথা কোনো ঘড়ি বলে না
ঘড়ির চলনের সংজ্ঞা হল দাগকাটা ট্র্যাক
যেখানে প্রত্যেকটি অ্যাজিমাথের দাদাগিরি
হে সময়
বুঝি, এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোন মায়বাপ নেই ।
পথও কি ঘড়িতে আবদ্ধ নাকি
এই কালখণ্ডে ঘড়িও তো এক সময়কাল
এক এনালগের আকারে ভেঙ্গে
এগিয়ে যাওয়া এক ডিজিটাল
দুপাশে পথেরই ভেঙ্গে যাওয়া ছবি
বার বার ডায়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে
বন্ধ ঘড়ি থেকে
অহরহ বেরিয়ে আসতে চায় কবি ।
ক্যালোরি ভ্যালু
যত গুড় ঢালবেন ততই মিঠা হবে
বরং কথা বলি তার পরিমাপযোগ্যতা নিয়ে
ক্রয়যোগ্যতার সংজ্ঞা থেকে
বনিতার ঠোটে যেভাবে বিক্রি হয় চুমু
সম-পরিমাণ মজনু কি টিলা নিয়ে
রোদ আর রং নিয়ে
যে কোন ধুকপুক আর
যেকোনো উড়তা তীর নিয়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট
সংক্ষেপে
চিনির আতিসহ্যে সরভাজা থেকে
ছানারা আলাদা হয়ে যেতে পারে
এই এত বয়সে তাই ধরে নিয়েছি
যে কোন চুমুই আমি খেতে পারি
যদি তার গায়ে ক্যালোরি ভ্যালু নোট করা থাকে
এথিক্স
এথিক্স নিয়ে আর কুকুরের সাথে শুয়ো না,
যে নিশা ফুরিয়ে যায়, যায় সুতীব্র কন্ডোমের ঘ্রাণে
বিশ্বস্ত লালার কাছে তুমি
আর বালিশ নিয়ে এসো না
এর চেয়ে ঢের বেশী মাংসল পলাশ মান্দার ।
এভাবে না ডাকা ভালো, বিলকুল কিনারায়
যেখানে গভীর হতে চেয়ে পাড় ভাঙ্গে নদী
এতটাই গভীর যেখানে ডুবে যেতে যেতে
এই সব সীমাহীন অন্ধকার
বীজ
তুমি বরং এমন একটা সুচারু রোবট খুঁজো,
যার চাবি শুধু তোমার হস্তরেখার মত আপন,
আর একান্ত তোমার
কোনদিন স্বপ্ন হতে চায় না যে সব ব্যবহার
শীত ঘুম থেকে নীচে না নামতে চাওয়া নাছোড়বান্দা
পাহাড়
বিছানায় তাকে ফেলে কেন আর কুকুর সম্বোধন
এক হাতে বালিশ আর এক হাতে সঙ্গম
ধ্বনি থেকে তাপ নেবে গেলে থার্মোমিটার ভেঙ্গে পড়ে,
এই বিশ্বাস এমন এক ধাতু প্রিয় ভাইরাস যে
বিছানাময় পারদ নিয়ে ভিজতে থাকে রাত ।
ফানেল
এতটা বিস্তৃত পথ,
গোল হয়ে আসা ভূগোলের পরিধি
আমি হাত বাড়িয়ে দেখি পাই
পরিস্রুত রক্তের রেডিয়াস
ভাষার ছেঁকে আসা স্বচ্ছতর বোধ
ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে এসে
তার গাঢ় হয়ে ওঠা
বিস্তীর্ণ দেশ থেকে ফিরে আসার সহজ কোন পথ আছে নাকি
শহরের মানচিত্র থেকে রৌদ্রের মে জুন
চৌদ্দ নাম্বার ট্যাঙ্কিবালী গলি পালাম ভিলেজ
দেওয়ালে চুন মুছে ফেলে বিজ্ঞাপনের ক্ষুরধার
অশ্বত্থের ঝুরি থেকে এক বাঁকা গলি হারিয়ে যায়
পাতা ঝরা বিকালে
আমি দেখতে পাচ্ছি একটা ফানেল
টুপ টাপ করে পড়তে থাকা সন্ধ্যা
গাঢ় থেকে গাঢ়তর
কোনদিন যা কঠিন হবে না জেনেও
এই ঘনত্ব ক্রমশ
কঠনতর দিকে এগিয়ে যায়
অ্যাডাপ্টার
এভাবেও করা যায় করমর্দন
তিন পিনে ,
পাঁচ পিনে মিলিয়ে যাপন করা যায় গোটা জীবন
পায়ে পা মিলিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় মাইল থেকে মাইল
মেলে-ফিমেল মিলিয়ে বিনিময় করা যায় কথা
কথোপকথনে আমাদের এই সন্ধি
ধ্বনি তরঙ্গে আমাদের এই সময়ের চলাচল
যুগসন্ধিক্ষণে বসে আছি
চুম্বকের সাথে ,
বিদ্যুতের সাথে
প্লাগ গুলোর কিছুতেই মেলাতে পারছি না অ্যাম্পিয়ার
পছন্দগুলো অবিন্যস্ত
যেখানেই পা রাখি,
জুতোগুলো বে-সাইজ হয়ে যায়
যে ভাবে
ভালো থেকে লাগার
দূরত্ব বাড়ছে
যেভাবে খাপ থেকে বেরিয়ে পড়ছে খাপ
প্রবাহ থেকে প্রকট হয়ে উঠছে প্রকার
এখানেই অ্যাডাপ্টারগুলো স্থাপন করি
ব্রিজ একটা বিবাহের নাম
যার জন্য এতটা পথ হেঁটে আসা মুঘল
ইংরেজ
ইতিহাসের মাঝখানে সেই সব লিখে যেতে যেতে
সেই সব প্রবহমানতার কথা
একটা কলম নিয়ে
যুগসন্ধিক্ষণে বসে আছি ।
অ্যাম্পিয়ার
ফিলামেন্টে হাত দিয়ে বুঝি অনেকদিন সহবাস হয়নি
এই দেহে রক্তের প্রবাহ
প্রতিবাদের ভাষার মত ঋণাত্মক
ইস্ত্রি থেকে জামা তুলে নিলে
ঝটকায় ঝুলে থাকে পেন্ডুলাম
এর থেকে চিরুনি চালিয়ে দেওয়া ভালো
কেয়োকার্পিনহীনতায়
লিপস্টিকে কোরা কাগজের টুকরা লেগে থাকে
আগুন ঠিক জ্বালা থাকে না কোথাও
অপেক্ষা করতে থাকা গ্রিলে
কনভেকশন থেকে মাইক্রোওয়েভ আলাদা হয়ে যায়
তাই
একবার টাচ দিয়ে দেখো,
কোমল-কাঁকড়ির ল্যাবড়া
রান্নার প্রতিটা রেসিপিতে অ্যাম্পিয়ার রয়ে গেছে
এর পর ওই বাঁকা গলির মেয়েটা কিসের ইশারা করে
তার দেহের ভিতরে রয়েছে বিদ্যুৎ ?
ফ্রিজে রাখা ব্যঞ্জনের জন্য বাড়ি ফিরতে হয়
রোদ পড়ছে
ঢাকনাটা উপুড় আমার মুখের উপর
বাঁশখুটি ভেঙ্গে ঝুলে পড়ে বুঝি,
হঠাৎ হঠাৎ চমক
চুন্নিতে খুন,
দুপায়ে শির শির লাগে
ফাটল গুলো পরিষ্কার, চৌচির ফাঁক
আর দেখো
এই আর্দ্রতা কারো পথ চেয়ে পড়ে আছে
মাথার উপর ছাদ ভাঙ্গছে
এই খানে পাতা আছে ভেজা অক্ষর
এই খানে স্যাঁতস্যাঁতে কবিতা রাখা আছে
রোদ পড়ছে
কবিতা পাঠের আওয়াজ আসছে
সোনালী শব্দের ঘণ্টা খিল খিলিয়ে উড়ে যাচ্ছে
আর ডানায় ইতিহাস নিয়ে সাইবেরিয়া চলে যাচ্ছে বিবর্ণ কবিতারা
অন্দরমহল থেকে অপক্ব কর্দমের মেহেক
রোদ পড়ছে
আর রোমাঞ্চে ভরে উঠছে বীজ ক্ষেত,
আনাচ , কানাচ
আরও সবুজে সবুজে ভরে যাচ্ছে প্রতিবেশী খামার ।
পেনড্রাইভ
যা কিছু গন্তব্য,
নিব থেকে নির্গত ঝর্ণা
কণ্ঠস্বর চিনতে চেয়ে এই সামান্য যাত্রা,
মাত্রা ছাড়া নিচু
কিছুটা হ্রস্ব
মায় বাপ,
আমার কোন গন্তব্য নেই
আমার আছে শুধু একখানি বীজ
এক রুট আর
এক গণিতের কাব্য
বুকের উপর থেকে এক শূন্য নিয়ে
পরিমাপে না আটা যে কোন অরৈখিক
অবস্থান আর উহ্যদের মাঝে
এক দৃশ্য
দুধশীতল এই অববাহিকা
এক চিলতে আবরণে ঢাকা
যে কোনো ঘাও কে গম্ভীর করে তোলে
ছোটা প্যাকেট
বাট
বড়া ধামাকা ।
মিনি
মিনি যা একটা মেয়ের নাম,
যার কোন সোর্সকোড নেই, কোন প্রোগ্রামার,
এ কোনো কবোর্ড থেকে উঠে আসা কোন সফটওয়ার নয়,
যেখানে আঙ্গুলগুলো কিলবিল করতে থাকে আর ঘেন্না ধরে যায়
এই প্রতিদিন সেক্স আর ডলারের তাড়না
আর নীচে শুয়ে রি রি করতে থাকা কম্পাইলার
যার কোন ক্র্যাক নেই
কিংবা কোন পাসওয়ার্ড
বরং বলা যায় ঘড়ি পরে না এমন একটা মেয়ে
যার কোমরের খাঁজে একটু মেদ আছে
যেখান থেকে ভরে নেওয়া যায় এক গ্লাস ভোদকা
মিনি মানে চোদ্দ ইঞ্চি থেকে একটু সস্তা,
যেকেউ একে ধরে নিয়ে গিয়ে মানে ইয়ে
মানে বেডশীটে ছিঁড়ে ফেলতে পারে
আর রাতের পর রাত জাগিয়ে
প্রতিটা পিক্সেলে তার
টসটসে রস ভরে দিতে পারে ।
শতভিষার সোর্সকোড
১।
আকাশচুম্বী থেকে পেড়ে নেওয়া
দু একটা মাওয়া
ঘড়িগুলো পাগলা হয়ে গেছে
ঘোড়াগুলো দৌড়ে যাচ্ছে সানফ্রানসিসকো
জানলা থেকে খসে যাচ্ছে দৃশ্য,
আর পিছলে যাওয়া টাওয়ারে লিফটের দড়ি
ওদিকে দৃশ্য নেই,
দৃশ্যত যা কিছু শব্দকল্পদ্রুম
সানফ্রানসিসকো থেকে নিউইয়র্ক
হাই-টেক ফ্লোরে নজর কেড়ে নিয়েছে
শতভিষার হাই-হিল
২।
টুয়েন্টি ফোর বাই সেভেন
দিন আছে - দিন নেই
রাত আছে - রাত নেই
এ খেলা রপ্ত করে পারেনি
হেলোওওও - ক্যান ইউ লিসেন মি
রিসিভার থেকে মুখ সরিয়ে নিলে
শতভিষার মিষ্টি মুখের লিপস্টিকে
বঙ্গোপসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে ।
৩।
শতভিষা র ঠোটে লাল
এই এখনি একটা প্রজাপতি সিডনি থেকে
উড়ে এসে বসল
টেবিলের উপর
অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি কোম্পানির রসিদ
ক্রমশ উর্ধমুখী গ্রাফ
শতভিষা হাসে, ওর হাসিতে বিজলি খেলে যায়
৪।
চকলেট কামড়াতে গিয়ে মনে হল বাইরে
পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
আউটার লেয়ারে মাখন গলে যাচ্ছে
আর ডিপ ক্যাফাইনে এখনো ফ্রিজের ঠাণ্ডা
কামড়াবো কি কামড়াবো না ?
চেয়ার ছেড়ে শতভিষা উঠে দাঁড়ায়,
বন্ধ দুচোখ
চকোলেটে বসে যায় বত্রিশ পাটি দাঁত
৫।
বাইকটা আস্তে চালাও
বার বার বলতে চেয়েছে শতভিষা
অফিস ফিরতি পথে
বাড়ির চিন্তা
কানে বাজতে থাকa কাস্টোমারের আওয়াজ
"ম্যাডাম, কি বেহিসাবি কাজ করলেন
এত টাকার বিল
এলো কিভাবে " ?
হিসাব, টাকার হিসাব
দুহাতে কসকে জাপটে ধরে বয়-ফ্রেন্ডকে
বাইকের শাঁই শাঁই আওয়াজ যেন
হিসাব উড়িয়ে নিয়ে যায় ।
৬।
কিছু একটা বলো - শতভিষা
প্রেশার, প্রেশার । বয়স বেড়ে যাচ্ছে
বারবার ভেঙ্গে সেজে উঠেছে এই দিল্লি
বারবার এই সড়ক
বাদ থেকে আবাদ
জন থেকে জনপথ,
অনেক দেখা হল জীবনসাথী ডট কম
ল্যাপটপ খুলে দেখে শতভিষা
রিং রোডের সঙ্গে দেখা হয় তার
৭।
আজ রাতে হরিণের বেগে ছুটছে ট্যাক্সি
শহরের খাদ্য সংকটে
ভীষণ ভাবে ট্রাফিক বাড়ছে
এক্সিলেটরে লক্ষ্য রাখে শতভিষা
রাতের ট্যাক্সি ড্রাইভার – তার নাইট শিফট
রিভার্স মিররে হর্ন নেই
ক্ষুধার্ত চোখের চাই যে কোন হর্ণি
ডিউটি জয়েন করতে
খুব দেরী হয়ে যাচ্ছে শতভিষার
৮।
আজ রাতে মেঘ নেই,
মেঘের ওপারে কোন মেঘ নেই
আজকি রাত নিশ্চুপ প্রেমহীন কালো
এন্টিভাইরাস আপডেট, স্ট্যাটাস মিটিং
অন-শোর কল
ক্লায়েন্ট প্রতিরাতে এই সময় ফোন কল করে
ক্লায়েন্ট মানে ঈশ্বর
তাকে মেঘের উপরে রাখে শতভিষা
৯।
পাইচার্ট থেকে চোখ উঠিয়ে নেওয়া যায়
কাঠের ফটোফ্রেম থেকে তাকিয়ে
একভাবে তাকিয়ে থাকে শতভিষা
ওর ইন্টারকামে কোন ঘণ্টি নেই
ওর মোবাইল অফ,
পিঙ্ক স্লিপ দিয়েছে বস
কাল ঝড় উঠেছিলো শহরে,
আজ অন্ধকার অফিস চত্তর
নিস্তব্ধ কল সেন্টার ।
শতভিষা কেন,
কেউই আজ রাতে কোন কল নেবে না ।
টু- অ্যাশ
একটাই বিশ্বাস,
ঘাড়ের উপরে তলোয়ার হয়ে ঝুলে থাকা
একদিন তা নুন হয়ে ধুয়ে যাবে .
দিনরাত খেটে যাই,
রাতদিন হেঁটে যাই
গাধাদের কোন ক্লান্তি নেই
বিছানা থেকে অনতিদূর সেই আস্তাবল,
আমাদের ইতস্তত দৌড়াদৌড়ির একটাই গন্তব্য
রাস্তা থেকে বেরিরে এসে ফের এক রাস্তার খোঁজ-
দিকবিদিক পিষে চলেছি
মাটির সাথে মাটি
ধুলোর সাথে ধুলো
এন
যে কোন দিকেই ঝুঁকে পড়া যায়
পায়ে পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে যে দেহ
যে কোন দিকেই চলে যাওয়া যায়
ভরবেগ সামাল সামাল করতে করতে গুনে নিই
বৃত্তের ক্ষেত্রফল,
নাম্বার টা ‘পাই’
এত মানুষের ডাক,
এত গুরুবাজী
এত তার অভিমুখ
সমস্ত সম্ভবনাময় কবিতাকে ভালোবেসে
নাম্বারটা 'এন'
অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ
"এই নিয়ে কত পাক হল বলো তো? "
একমাথা বকসাদা চুল মাথায় নিয়ে
দাঁড়িয়ে পড়ে হরিপদ
তাকায় বিশাখার দিকে,
সমস্ত শতাব্দী যেন কুঁকড়ে আসছে তার চোখে
রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ছে ,
কবিরাজি পরামর্শ এই সময়ে
দুজনেরই প্রাতঃভ্রমণ আবশ্যিক
সকালে আধা ঘণ্টা হাঁটা
অন্তত;
আজও নিয়ম মাফিক হাঁটছে তারা
সবুজ পার্কের বাঁ পাস দিয়ে চক্রাকারে ক্লক ওয়াইজ,
অর্থাৎ যেদিকে ঘড়ি যায়
সময়ের সাথে সাথে শরীর ঘামছে ,
পার্কে বেড়ে ওঠা সবুজ বরাবর সূর্য উঠছে,
গাছপালাগুলো ও পাল্লা দিচ্ছে,
আকাশ ছুঁই ছুঁই
আকাশ এই সকাল জুড়ে যতটা দিগন্ত
বিকেল জুড়েও যেন ততটাই
হরিপদ দেখছেন
একই গন্তব্যে,
ঘর, বাড়ি আর পায়চারি
গতি জাড্য সামলে নিয়ে পায়ে পায়ে চলা ট্র্যাক
এক অনায়াস ভঙ্গিমায় দৃষ্টিসীমা পার করে
"আজ খানিকটা অ্যান্টি-ক্লক ওয়াইজ
চক্কর কেটে হেঁটে আসি চলো"
বলল বিশাখা,
তার চোখে চোখ রেখে দেখলে আরও সবুজ ঘিরে আসে
তাকিয়ে থাকেন দম্পতি
ঘর থেকে যে পথ পার্কে হেঁটে এসেছিলো
পার্ক থেকে সেই পথ
হাঁটা পথে একরাশ সবুজ নিয়ে ফিরে যায় তারা
লাফিং ক্লাবে একদিন
সকাল জুড়ে সে সব পার্ক
এই মাওয়ালী সময়
যার থেকে বিল্ডিং আর বিল্ডার আলাদা
মাঠ আর মাটির মালিকানা পৃথক
এমন সময় কিছু চুলওয়ালা
আর চুল হীন চকচকে টাক
বলা যায় তুলতুলে ভুঁড়িওয়ালা
বা পেটানো ক্ষয়ে যাওয়া বডি
বা রিকশাওয়ালার সঙ্গে একই বয়সে
টয়োটা করোলা চড়া দশাশই ম্যানেজার
এইসব নিয়ে লাফিং ক্লাব
এই প্রসঙ্গে এতো সকালে পার্কে ভিড়
সবুজ হয়ে যাচ্ছে মাঠ
দুর্বার নেটওয়ার্ক নিয়ে মালীদের নিজস্ব মালিকানা
সবুজ ঘাস নিয়ে বসে থাকা এই সকাল
ঘাসের ভিতরেও নিশ্চুপ বসে থাকে ঘাস
প্রভাত পায়চারি
উচ্চ স্বরে ফোকলা দাঁতের হাসাহাসি,
হো হো হো হো
নকল হাসির মধ্যেও কোথাও যেন নিশ্চুপে
লাখ টাকার হাসি লুকিয়ে থাকে
পোষা পাখি উড়ে যাবে
চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে
যতবার দেখি, আপেলটা আপেল থাকে
নাশপাতির মত পৃথিবী
ভূগোলের মত নাশপাতি
আর দুইদল পাপড়ির মত সুমেরু কুমেরু
অর্থাৎ কিছুটা চাপা
কিছুটা না বলতে পারার অক্ষমতা নিয়ে
অনেক দ্রাঘিমার আড়ষ্ঠ হয়ে আসা
দুটি মেরুর মধ্যে দুটি বিন্দুতেই বেশ দিব্বি
একটা স্কেল দাঁড়িয়ে আছে
একটা ব্রিজের উৎপত্তিগত ইতিহাসে যে কোন রেখা
এক একটা দৃষ্টিকোণের সমানুপাতিক
মানে দাঁতের কাছে স্বাদ আর খুশবু নিয়ে
যে নজদীকি , তার আরও করিব হয়ে আসা
যে কোন আপেল যেন আগে থেকে টের পেয়ে যায়
সেই সব সম্ভাব্য কামড়ের অভিজ্ঞতার ।
আপন ঘরের খবর লে না
নাসপাতির বাগান থেকে মাটির গন্ধ আসে
মৌমাছিদের মিতালী থেকে অনেকদূর
এই মোহন সুন্দর রাত্রিকে রুয়ে দেখো-
কত জ্যোৎস্না ফলেছে এই পৃথিবীর বুকে ?
বন্ধ দুচোখের পাতায় এতটা শিশির ঘোষ ছিল,
টেলিভিশন থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটা ক্যাথোড রে
উফ্ আমার নাসপাতির বাগান ছারখার করে
জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে কোনদিন তো এত বিদ্ধ হইনি
যে সব ফল ফলেছে আমার বয়ঃসন্ধির দিনে
হাত চাটতে গিয়ে যেদিন প্রথম আঙুল কামড়ালাম
নখ থেকে ছুটে গেলো হাফ ব্যাক
ঘোর কেটে গেলে দেখি দুয়ারে পা চেপে ধরে
বেবাক তাকিয়ে আছে ঘর বারান্দা
এই বাগান, এই মধুময় এতটা গহীন
মাঝরাত থেকে পায়ে পায়ে উঠে আসে মাঝমাঠ
এই প্রবাস থেকে আমি আর কি গোল দেবো ?
আমায় এত রাতে কেন ডাক দিলি
প্রাণ কোকিলার ক্রন্দনের টানা রাত
রাতও তাহলে কেঁদে ওঠে মাঝরাতে
আঙ্গুলগুলো দেখো এখনো চঞ্চল ,
ডানাগুলো ঢাউস মাউসের মত
কী-গুলোর পাশাপাশি
এই উজ্জ্বল দিনগুলো নির্ভীক হেঁটে যায়
ঠিক কতটা দিন হল, কিংবা কতটা রাত
মধ্য কিংবা ভোর , কোন প্রহর ঠাহর হয়না
যেভাবে কোন অশ্রুর পুংলিঙ্গ হয় না
তাই ঘড়ি থেকে হিসেব নিকেশ
উপড়ে ফেলছি দিন
প্রাণ ধুকপুক,
এই বুঝি ছুটে যায় চুন
এই বুঝি ছিঁড়ে যায় পান
সুপারি বাগানের উপর দিয়ে পাখির সংজ্ঞা পালটে
উড়ে যাওয়া
এই তোতা
তার একটাই রাজ
লুপ্তপ্রায় প্রাণ থেকে তার এই প্রগাঢ় রাত
কোকিলের সাথে বোধহয় কোনদিন দেখা হয়না তার
মিলন হবে কত দিনে
চ্যাটার্জী বাড়ির থেকে যেটুকু ব্রাহ্মণ্যবাদ
রেডিয়াম থেকে উবে যায় ততটুকু আয়ু
আর বিস্তীর্ণ দুপার পার নির্জন হয়ে যাবার পর
পড়ে থাকা জলংগীর একাকী জীবন
বন হিস হিস ভেসে আসা জংলী কথোপকথন ।
রাণাঘাট থেকে শিয়ালদহ এইটুকুই দূরত্ব;
এক দর্জেন লেবু লজেন্স আর একখানা কাচের বয়াম
এর থেকে বাণিজ্য চুষে চুষে বের করা
আর রাস্তায় ফেলে দেওয়া বাংলা
হুইস্কির অদম্য যৌনতা আবিষ্কার করতে চায়
মুখের উপরে অসংখ্য চাতক
যাত্রাপালার মতন তাদের ধ্বনিময় মুখ
কিছুই তাদের বোঝা দুষ্কর
সেই সব কৃষ্ণ চাঁদের ধূর্ত সওদাগর
যার জিভে থেকে ঝরে বুঝি বন্য লালসা
হাতের মুঠো থেকে ফসকে যায় গেরো,
অগণিত মেয়ে মানুষের চোখসু চাঁদে
চোখ বিষিয়ে ওঠে
মনের মানুষ বলে কিছু আর
হয় না বোধহয়
পারে লয়ে যাও আমায়
এপারে অধিক সন্ন্যাসী, ওপারে গাজন
আমাকে প্রলুব্ধ করে ঘোলা জলের প্রবাহ,
চ্যাং, কৈ, কাঁকড়ার ঝাঁক,
জলে ভেজা আউশের ক্ষেত থেকে উঠে আসা সবুজ
আর অস্থিমজ্জার মত ওই বাংলা
ছায়ার মায়া থেকে একমাত্র দূরে এই প্রবাস জীবন,
ঘাস পাতা বিচালি পল খড়ের গাদায়
আমি জেনেছি ঐ খামার একমাত্র সত্য,
এই ক্ষেত থেকে উঠে আসা যে কোন ঘাম
মুখ থেকে মুখাগ্নি পর্যন্ত কাচ্চি ঘানির মত খাঁটী
ধানক্ষেত থেকে উঠে আসা এই সব মুখ
এই মূলী বাঁশের বেড়ায় আগুন লেগেছে
এক কল্কে ছাই,
এক কল্কে ছিলিম আমাদের সভ্যতার শেষ চিরাগ,
আমাদের এই গাজন কে কোন ভাবেই আমি
নষ্ট হতে দিতে পারি না
কাদা আর রক্তে মাখামাখি খেলা এই পার,
স্পর্শ সুখের আশায় খুলে রাখি সুতপা ম্যাডামের দেওয়া
কন্ডোম প্যাক, উন্মুক্ত করে রাখি দরজা
জল পড়ে , পাতা নড়ে
ঘুম থেকে উঠে ফের ঢলে পরে বিষধর কালকেউটে
লাল পাহাড়ির দেশে যা
মালভুমির গ্রাফকে উপরনিচ লক্ষ্য করো
একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যেতে এই
পাহাড় থেকে নেমে আসে অতিরঞ্জিত এই
বাটার ফ্লাই,
এই প্রত্নতত্ত্বের সামনে
যে লাউ সেই কদু,
যে চাকু সেই ছুরি
যা কিছু কেটে যায়
আর যা দিয়ে কাটে
এই তো শহর থেকে এনেছি ঘরে
এক টুকটুকে রাঙা বউ
পাহাড় থেকে ছুটে এই সব অতিরঞ্জিত
ফ্লাই ওভার
গুড়ো হয়ে যাওয়া
অম্বুজ সিমেন্ট
দেওয়াল থেকে তুলে নেওয়া বিজ্ঞাপনে
ত্রস্ত পায়ে ছুটে আসে রামধনু শাড়ি
লাল পাহাড়ের দেশে বুঝি
আর কৃষ্ণকলি বলে কেউ নেই ।
পিন্দারে পলাশের বন
এমন লাল আমি কোথাও দেখিনি
ধমনীর অন্দরমহলে যে সব মার্কারি
বিবিধ রতন থেকে বঙ্গের মধু
পারস্য উদ্যান থেকে ভূমধ্যসাগর
মিশর ও সাইপ্রাস ঘুরে
এই লোহিত সাগরের নাম দিয়েছি পলাশ ।
বনের পথে গাছের সবুজ গন্ধ ,
এত কাছ থেকে কখনো দেখিনি মাটির ইতিহাস
মহেঞ্জোদড়ো থেকে বেয়ে আসা ভূগোলের লগ
গুড়ির উপর গড়াগড়ি শাল পড়ে আছে
এমন সুন্দর ছিলকা আমি কোনদিন দেখিনি
মায়ের এত কাছে এসে মাসীদের ভূত
নেংটি ইঁদুরের কাছে এসে জীবনানন্দ দাশ
ওই পেঁচা আর সেই পঞ্চমীর রাত
মেদহীন কালরাত্রির দেহে ফুটে ওঠা কাঁটা
মননের মধুর মিলনের পর
কত কত দশক পার হয়ে গেলো
এমন পলাশের বন কখনো দেখিনি আমি
বারেবারে আর আসা হবে না
কখন যে বর্ষা
কখন যে মেঘ কেটে যায়
ইত্যবসরে অফিসে ডেকে বড়বাবু বলেন
“এইভাবে মই খাঁড়া করো, দেওয়ালে চুন নয়
এইভাবে রং করো নেরোলাক, এশিয়ান পেন্টস”
মুখ নাক দিয়ে গলগল ছন্দ
ফ্যানের সাথে সাথে পৌষ্টিক ঝরে যায়
পিছনে ঝরে যায় ভাইটাল মেধা
কবিরাজ মেপে নেন ভেষজের গুনাগুণ
হাওড়ের ভিতরে ডুবে থাকা মেঘের স্বরলিপি
কর্দমের ফাটলে গুমরে ওঠা
তেলতেলে মাগুরের কান্না
জোড়ায় জোড়ায় দ্যাখো পর্ণমোচী বৃক্ষেরা
শাওনের বুকশেলফে জওয়ান হয়ে ওঠে
দুইকুল ছাপিয়ে ফুলে ফেঁপে
জোয়ার উঠেছে দুকোটি টাকার
এইভাবে ভরা সবিতা নিয়ে থমকে দাঁড়ায় ইছামতী
এইভাবে পূর্ণ যৌবন নিয়ে ঋতু রাণী কেউ
এমন ঢেউ জনম নিয়ে
বারে বারে আর আসা হবে না
নদী ভরা ঢেউ
বিস্তর জমি পড়ে আছে, জমে আছে বিশ্বাস
এই ভিরানায় আসমানি কিতাবে
ফসল কাটার নামে কারা হেমন্ত এনেছে
এই চক্রবৃদ্ধিহার, পারমুটেশন আর কম্বিনেশন
আমাকে বোলোনা আর সংখ্যা তত্বের কথা
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে
এক হার্ড ডিস্ক থেকে অন্য হার্ড ডিস্ক
বুকের উপরে জেগে উঠছে সবুজ চর
পাজরের নীচে বয়ে যাচ্ছে লাল নদী
কণ্ঠ বরাবর ভিজে উঠছে গামছা,
লাল লাল বিপন্ন বৈঠায়
মাঝরাত কাবার করে নিঃশব্দে নীরবে
পদ্মা ছুটে যায়
হেমন্ত নামছে মাঠে...
সোনালী ধানের পাশে
বিশ্বাস আর প্রবহমানতা নিয়ে
এই ভরা মাঠ, নদী
উপচে পড়া ঢেউ
সবুজ ধানের শীষ কেটে ছিন্ন মস্তক
কোন ভাটিয়ালি তুমিগাইছ হে নাবিক ?
ট্যাংরা তবু কাটন যায়
আমি একটা কুয়োর কথা বলছিলাম,
নির্ভেজাল পাড়ে বাঁধা নিটোল
এখানে রাখতে পারো দুএকটা হাঁস,
জলকলমীর ঝাড়
গোল-মাটল না হলেও খানিকটা তেকোনা হতে পারে
যার ত্রিসীমানায় আমি কোন মাঝি রাখতে চাইনে
যে কোন পুকুর মানেই তো স্নান নয়,
বন্ধু অর্থে নয় যেমন প্রিয় সুহৃদ
এই বায়ু, আকাশ লক্ষ্য করে
জলস্তর পার করে উঠে আসে যে সব ফ্লোরা ও ফনা
জল আছে জেনেই
তার কাছে একটা ঢেউ রাখা হলো
স্বচ্ছতার কাছে একমুঠো পলি নিয়ে আসা
ভ্যাদার করুণ চোখে রাখা ডোমিনোজের নীল আবেগ
অথচ
অস্তিত্বের কাছে থিতু হয়ে আসা
ভয় নিয়ে ,
ক্ষুধা নিয়ে
ট্যাংরা মাছটা কিছুতেই কাটা মারতে পারছে না
এমন একটা কুয়োর কথা বলছিলাম
মাই লর্ড ,
জলের গভীরতর প্রদেশে যেখানে
মা কসম
যে কোন অখণ্ড বৃত্ত
যে কোন পারফেক্ট পিরামিড
বোয়ালের জাবড়াতে চূরচূর হয়ে যায়
বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা
পড়ে আছে মাঠ এক আগুন তল্লাশি ক্ষুধা নিয়ে,
বীজ বিছিয়ে পড়ে আছে সকাল সকাল
এই ধানক্ষেতের পাশে এই কাঙাল গাং নিয়ে
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা এক বুক
কাঠফাটা চৌচির
জেনো না এই মে-জুন আর যৌনতার ফোঁস
দুর্বার খিদের সাথে শুষে নেওয়া লিফি লিফি দূর্বা
দুগ্ধ হীন বলে কেউ অবুঝ নেই আর
কতদিন মেঘ গাঢ় হয়নি এই ঘাসে
ঘাস, অনেক স্যুররিয়াল ঘাস
এইখানে আঙুল দিয়ে
বলেছিতো বারবার একই কথা,
এই নেশা থেকে
মাঠ তুলে নিয়ে দেবো এক আছাড়...
সমকাম থেকে সাম্য আসে না বনমালী
এবার চাষবাস তুলে দিয়ে গোস্টে একটা লম্বা ঘুম দেবো
ফিইরা আসিবেন না আর কাজল ভ্রমরা
এই রাত,
এই উজাগর বাং ডাকা মোরগ নিয়ে এই যৌবন কাবার
বনমালীগো তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা ।
প্রখর প্রতাপ বৈশাখে
গিমিক
তখন আমার গোঁফের রেখা কালো হচ্ছে, হাতের পেশী একটু শক্ত, বরাবরই শেষের দিনে ব্যাট করতে নামতাম । ক্রিকেট খেলতে এসে বুঝলাম, ডিউস বলে না খেললে হাতে সে ক্র্যাক ধ্বনিটা আসে না । মানে বলটা জুসি হাফ ভলি কিংবা ফুলটস, কোমরটা বেঁকিয়ে মিডঅনের দিকে রাখো, কানের পাশ দিয়ে নেমে আসছে ব্যাট । বুকের ভিতর ক্ষরণ হয়ে চলেছে নাম না জানা হরমোন, গ্যালারীতে ভিড়, উৎসুক মুখ খুঁজছে নতুন হিরো যার ঘুম ক্রিকেট স্নান ক্রিকেট , খাবার ও ক্রিকেটে । স্কোরবোর্ড দাঁড়িয়ে গেলো, আম্পায়ারের পা স্থির, উইকেটের উপর দিয়ে নামছে বোলারের পা, মাইক হাতে গম্ভীর ধারাভাষ্যকর হবে কি হবে না তুলে যাচ্ছে একটার পর একটা মেলোড্রামা । টিভির ক্যামেরায় ফিরে আসছে প্রতিবিম্বিত ছবি । মাছের চোখে চোখ, গাছ , পাতা , শাখা লক্ষ করে এক ক্রস, হাতে একটা মৃদু ঝাঁকুনি, কেঁপে উঠলো ট্রাইসেপস । ফলো থ্রুতে ব্যাট চলে গেলো কাঁধের উপরে । বল ছুটেছে অন্তরীক্ষে । লাল , চেরি, ডিউস বল । ছক্কাও হতে পারে, ক্যাচও । অসীম সম্ভাবনার মধ্যে এই স্ট্রোক । বেঁচে থাকা কেউ ক্লাস বলেন, কেউ মাস্টার । ন্যাচারাল সারভাইভাল । ঝুড়ি ঝুড়ি রান স্কোরবোর্ডে নিয়ে নন্দন কানন ফেটে পড়ছে উল্লাসে ।
গলার থেকে নেমে আসে যে প্রিয় ধ্বনি, ভালোবাসার কথা । মালতীমালার গেটে দাঁড়িয়ে অনেক পরাজয়ের সাক্ষী এই ক্রিকেটার । মিলন হয়নি । মনের মানুষ নিয়ে প্রিয় এগারো । তারপর ছুটে গেলো রাজধানী এক্সপ্রেস । এখানে কোন সৌরভ নেই । শাস্ত্রী নেই । একটাই ধ্বনি । মনফকিরা মনেরই কথা , গোসাইজির আওয়াজ কানে এলো । একটাকা, দুটাকার কয়েনের আওয়াজ । ধোনিকেও দেখেছি লোকাল ট্রেনে । গেদে লোকালে তাই আজো বেগুনের ঝুড়ি, কলার ঝাঁকা, এই পার করে যাচ্ছি মদনপুর । এই এপ্রিলের কাঁচা ভোর, আড়মোড়া ভাংছে দ্রুত ছুটে যাওয়া খুচরো ঝাপবন্ধ দোকান । হাওয়ায় কারো পুরানো গন্ধ উড়ে আসে । কন্ঠহার নিয়ে দিদিমণি ফিরে আসছে বালুচুরী লো কাট । আমায় এখানে প্রেম নিবেদন সাজে না । নেবে গেছে যারা নেবে যাওয়ার ছিল । খালি সিটগুলো ঠাই বসে আছে । জানলা দরজাগুলো হাটখোলা হা হুতাশ , শো শো ঢুকে পড়ছে জ্বলে পুড়ে যাওয়া কিছুটা পুবের আকাশ ।
আমি সারতাজ খাঁ কে চিনতাম না । মানে ওর চেহারা কেমন, কি খায়, কি পান করে, বাড়ি গ্রামে না শহরে, বাড়িতে টয়লেট আছে কিনা, কটা বউ ইত্যাদি । সোশাল মিডিয়ায় কোন বন্ধুর জিগির শুনে আপনি কিছুই জানতে পারিনি, যেটুকু বুঝলাম কবিতা লেখেন । তো জাহির হে সোশাল মিডিয়ায় যখন ট্রলবাহিনী আষ্টেপৃষ্ঠে ছেঁকে ধরেছে আমি বুঝলাম ওর মাথায় তাজ আছে, যে কোন কেউটে হতে পারে, আর নামটা শুনে মধ্যযুগীয় সেনাপতিদের বীরত্বের কাহিনী মনে পড়ে । দুকলম আমিও যেহেতু লিখি আমার হিংসে হল, আমার এমনিতে কোন ফ্যান ফলোইয়িং নেই, তাই শত্রুমিত্রও এখনো ঠাহর করে উঠতে পারে, কিন্তু যে কোন মুহূর্তে হিরো বননেকা একটা সাহস এসেই যায় । একদিন কোন এক বক্তব্যে কবি সারতাজ কিছু বিশেষ টিপ্পনী দিলেন, তো কি দিলেন কিছু বোঝা গেলো না, ঢাল তলোয়ার বাই বরকন্দাজ নিয়ে ঝেড়ে দিলাম দু চার কথা , আনতাবড়ি কিছু বললাম বললে একটু কম বলা হয়, তুলোধোনা করলাম , যুক্তি তর্কের কে ধার ধারে, ভোতা শ্রোতা আর বিজ্ঞ বিচক্ষণেরাও আমার সমর্থনে এগিয়ে এলো । আমার প্রতিযুক্তি সবার মনের কথা হয়ে এমন ভাবে প্রকাশ পেয়ে গেলো, বহু ফ্যান ফলোয়ারের মধ্যে যে তৃণভূমি গজিয়ে উঠেছে কবি সারতাজ খাঁ জীবদ্দশায় দেখে যাবেন না বলে যমুনায় কলসি বেঁধে ডুব দিলেন । তৃণভূমিতে গিজ গিজ করছিলো চিক্কণ কচি সর্প বাহিনী, তাহাদের কব বললে অভিধান আপনার বিপক্ষে যাবে না ।
হোলি
আমার ফেভারিট সবুজ, তোর ? হলুদ ? না না ক্রিমি রেড । এই কথা শুনছি আর ইউনিফর্ম পরা ছেলেরা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে । জানি স্কুলের পাঠক্রমের বহির্ভূত একসব কথোপকথন । এই সব কথা পড়ানো হয় না, রং বাহারের কথা পথপ্রান্তে ফুটে ওঠা ফুলেদের কাছে শেখে এই ছাত্রগুলো ।কোন পাঠ্য বুক এই রং বোধের তারতম্যের কথা বিস্তারিত লেখে না । আমার সন্তান তবু স্কুল থেকে শিখে আসে তার ফেভারিট রং - সবুজ ? আর তোর ?
আমি জানি - এ অনন্ত জিজ্ঞাসা, যার উত্তরের আশায় একটা প্রিজমের কাছে যাই । পড়ে নিই বিজ্ঞানের পাঠ । হাইড্রোজেনের বিস্ফোরণ থেকে কতটুকু অনুপাতে রোশনির উৎপত্তি হলে তার নিজের পছন্দের তরঙ্গকে আলাদা করে কিভাবে অতি বেগুনী রশ্মি ছিটকে বেরিয়ে আসে । মৌলিক বিষয় থেকে অন্দর মহলের ভালোলাগার আলোকগুলি বিচ্ছুরিত হয়, সূর্যরশ্মি ভেঙ্গে ভেঙ্গে সাতরঙা প্যালেট আমাদের ব্রাশে রং ভরে দেয় আর আমরা রেঙে উঠি এই ফাগুনের ক্যানভাসে, মিশে যাই হোলির রংমিলান্তিতে । আমার ফেভারিট রং হোলি ।
আমাদের কি কোন প্রগাঢ় চিন্তা আছে ? নিজস্ব রং ? চেতনার চাদরে ফেলে ছড়িয়ে দেওয়া মান্দারের ফুলের কাছে জানতে চেয়েছি রমণের অধিকার, দিগন্তের নীলের কাছে কাছে পড়তে চেয়েছি ডোমিনোজ পিজ্জার লিফলেট , অবুঝ আনকোরা কিশোরের কাছে নিয়ে এসেছি সবুজ কাগজের ফুল, যার কাছে এই সবুজ আর এই ভাঁটি বনের সমাপাতনের কোন সিদ্ধান্ত নাই, সেখানে দেওয়ালে ঘষে ফুটো করা ঝিনুকের কাছে কালবৈশাখীতে ঝরে যাওয়া গুটি আম্রের আত্মসমর্পণ দেখে ফিরে যেতে চাই নিজস্ব শৈশবে । আমার ফেভারিট রং কাঁচা ।
বরং বলছি শোন এক রঙের কথা । কগনিটিভ বোধের কথা ভাবো । শিশুর চোখে প্রথম আপেলের ছবির কথা । দৈর্ঘ্য প্রস্থের মতই কিংবা উচ্চতা নিয়ে তার ধারণা করার কথা । ক্রমশ ধারনা করে ওঠা আয়তন, ওজন ও রং , বাড়ন্ত শরীরে হোলির আবীরে মাখা ভাং মাদকতার কথা । মেদময় অংশ থেকে নারীকে আলাদা না করার কথা । বুকের গন্ধ থেকে স্বপ্নের ঘুমগুলোকে আলাদা না করার কথা । সাঁচে ফেলে কবিতাকে আধুনিক না করার কথা । রং তো একটা বোধগম্যতা, আজ আমার ফেভারিট রঙের নাম তাই বিপন্নতা ।
এখনো ফাগুনেরা আসে, চৈত্রের আকাশ চেয়ে থাকে কখন যে দেখা যায় শিমুলের উড়াল এখনো বিকেলগুলো স্কুলের বারান্দায় এসে অলক্ষ্যে দাঁড়ায় যেখানে পাইপের জলের মধ্যে ফোয়ারাগুলো নিশ্চুপ হয়ে আছে । কিছুটা ঝরে যাওয়ার জন্য, কিছুটা বিচ্ছুরণের জন্য , কিছুটা রামধনুর জন্য এই সময় । আমার ফেভারিট কবিতা । তোর ?
মেট্রো লাইন
শহর জুড়ে এখনো শীত । দিল্লির রাস্তায় এখনো বসন্তের পাতারা ঝরে পড়ে নি । রাত কে রাত ডলার আর দিন কে দিন কবিতা কবিতা ছেলেটার সংগে জুতো মাপা হচ্ছে না । খেলাটার নাম কার জুতো কার পা । বাড়ির কাছে আরশীনগর, আর মেলায় যাওয়া হয়ে ওঠেনা । গুরুগ্রাম । ঋজু ওর ফেভারিট কানে গুঁজে এমএনএম, বিউটি ওপাশে লিপস্টিক, ডি এল এফ পার হয়ে ছুটে যাচ্ছি ৩২ মাইলস্টোন । মেট্রো লাইফ । একাকীত্ব ইজ স্টেট অব মাইন্ড । এর মধ্যে কোন পদ্য টদ্য নেই । যাচ্ছি টানা টোলব্রিজ, সারহোল, সুকরালি, খাণ্ডসা, মোহাম্মদপুর , খেরদৌলা , রামপুরা , মানেস্বর, পাঁচগাও এন্ড দেন ব্যাক । কারো ফোন আসছে । কারো মেসেজ ঢুকছে । আপনি ভাই বড় উস্তাদ, হবেন হয়তো । আপনার রাস্তা আপনি মাপুন । এই মুহূর্তে আমি দিল্লির কথা ভাবছি । নিজের অস্তিত্বের কথা । যেখানে রাস্তা নেই, যেখানে রাস্তা ছিল না , প্রপিতামহদের ধারনা । দেখি একবার গুগল ম্যাপটা খুলে, জি পি এস দেখাছে কাছাকাছি একটা মল । খিদে পাচ্ছে । এগোচ্ছি । স্লো করছি । পেছনে হর্ন । বাজুক । আমি এই মুহূর্তে একটা কেএফসি খুঁজছি । চিজি রকিন চিকেন বার্গার । দুচোখ বন্ধ করে যাতে একটা যুতসই কামড় বসানো যায় ।
এখন সুরজ গনগনে হতে ব্যস্ত । প্রতিদিন এই সময় ভো ভো করে গাড়ি চালিয়ে অফিসে যাই । লম্বা ট্রাফিক । এইখানে ভারতীয় টয়লেট । এখানে মাঝে মাঝে চেপে গেলেই দাঁড়াই । সুলভ টয়লেট এমনিতেই অবহেলিত । হিসু করতেই লোকের এখানে আসা । থাকতে না পেরে ছুটে আসে মানুষ । তখন তার ডিম্যান্ড বাড়ে । দাম একই থাকে । টয়লেটটি নিশ্চল । আকাশের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে । রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নিশ্চয় সে লক্ষ্য করে সাই সাই গাড়িগুলো ছুটে যাচ্ছে । অডি, মার্সিডিজ, মধ্যবিত্ত হোন্ডা সিটি । বাইকগুলো অবশ্য বেশী দাঁড়ায় না । ওরা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ঝেড়ে দেয় । হয়তো কখনো বড়টা পেলে আসে । দো মিনিট কা খেল । এই দুমিনিটে সাইন হয়ে যেতে পারে যে কোন ট্রিটি, এগ্রিমেন্ট হয়ে যায় বিলিয়ন ডলার ডিল । ডিম্যান্ড কতটা কার সেই নিয়ে । সাধ মিটিয়ে নেওয়ার এক চরম অবসর । ক্লাইম্যাক্সের জাস্ট কিছুক্ষণ আগে যেন মনে হয় এই জীবন ও যৌবন সব ওর নামে করে দিই । মনটা কেমন যেন কবিতা কবিতা করে ওঠে । তোমরা যে যেখানে ইচ্ছা চলে যাও, আমি হাইওয়ের পাশে বসে থাকি, আকাশে সাতটি তারা যখন গিয়েছে ডুবে আমি এই সড়ক কিনারে একটু মুতি ।
কিছুদিন হল কিছু গঠিলা তরুণ আর তন্বী তরুণী এসে জুটেছে । গাড়ির জানলার বাইরে ব্লার্ড ছবিতে যেটুকু ছবি দেখতে পাই, বোঝা যাচ্ছে, টয়লেটের দেওয়ালে কোন পেন্টিং করছে । বালতি আর মই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ কেউ । হা হা - হো হো । এও এক বিরল ও বিচিত্র সেই ছবি, এই জানজটময় দিল্লির উপকণ্ঠে কারাই বা হবে । আর্ট কলেজের ছেলে মেয়ে হয়তো । এটাই হয়তো তাদের প্যাশন । তরুণ রক্ত । কিছু একটা করতে হবে, দারুণ ক্যাচি । চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া রোজগারহীন যুবক, অফিস ফেরত বিগফ্যাট কেরানী, স্কুল শেষ করে ফেরা ক্লান্ত দিদিমণি, দিনভর গায়ে খাটা খুশী রিক্সা ওয়ালাদের সবাই আড় চোখে দেখে নেবে । নতুন রঙে সেজে উঠেছে টয়লেট । যাদের হিসু পায়নি, কারিজ্মা ,আভেঞ্জার , রয়াল এনফিল্ড থামিয়ে তারাও ভাববে যে একটু হিসু করে নিলে কেমন হয় । ট্রাফিক লাইটে দাঁড়িয়ে ভিক্ষে করা ছেলেমেয়েগুলি টয়লেটের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে । পেন্টিং নয়, ওদের ঐ আর্টিস্টগুলোকেই ভালো লাগে । মাঝে মধ্যে তারা বিস্কুট, জল, টুকরা করা স্যান্ডউইচ খেতে দেয় । অফিস যেতে যেতে গাড়িটা আজ স্লো করলাম । কি যেন, আমার কি বড়টা পেলো ? কিংবা ছোটটাও হতে পারে । নাহ, এখনো কিছু পায়নি । আসলে বেশ জমজমাট মনে হচ্ছে । টয়লেট নিয়ে ওরা কছু ভাবছে । ওদের একেট্ঠা হওয়াটা বেশ লাগছে । কিন্তু টয়লেটের দেওয়াল চুনকাম করলেই তো হয়, সড়ক কিনারে এই কিসের বক্তব্য ? এখানে লাল পিলা রং করার কি হিসাব, লাল মানে তো সমাজ বিজ্ঞান, লাল মানে তো লালা লাজপত রায় ।
রাস্তা একই আছে । দেওয়াল জুড়ে পেন্টিং নিয়ে টয়লেট দাঁড়িয়ে আছে । এইসব কর্মকাণ্ডের কথা নিউজ পেপারে এসেছে । কাল রেডিও মির্চিতেও ওই এক কথা শুনলাম । ট্রাফিক বেড়ে চলেছে দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় । জ্যামকে এনজয় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এফ-এম স্টেশনগুলো । অনেক গুরুত্বপূর্ণ বা গুরুত্বহীন বিষয় আলোচনা করে । আমি বেশী শুনি না । ফোকাস নষ্ট হয় । আমি একাগ্রচিত্তে ম্যানেজারের দেওয়া নেক্সট আসাইনমেন্টা নিয়ে ভাবি । কাজটা কিভাবে উদ্ধার হবে তারই ফন্দি-ফিকির । এই সব শিল্প সংস্কৃতির নানান রাস্তায় গমন আমার নয়, আমি আজও ঐ একই বুলেভার্ড । আজ খুব ট্রাফিক । গাড়ি নড়ছে না । এক্সিলেটরে পা রেখে এফ-এমের আওয়াজ তেজ করে দিই । কারা যেন ইন্টারভিউ করছে ওই ছেলেমেয়েগুলোর । দারুণ কিছু করছে ওরা । আমি আজ আবার দেওয়ালটার দিকে তাকালাম । আমি কিছু দারুণ দেখতে পারছি না । কিছু টানা টানা লাইন । ছোট ছোট স্কোয়ার । বড় একটা অসমাপ্ত ত্রিকোণ দিয়ে ঘেরা । ভিতরে ভিতরে লাল রঙের কাটা কাটা রিং । দুটো কম্পাসের চাঁদা জুড়ে দেওয়া মনে হচ্ছে । গোলটাকে এতটা গোলও ঠিক মনে হচ্ছে না । খানিকটা ডিম্বাকৃতি । সূর্যের রশ্মি পড়ে ঠিকরে আসছে । কোথাও কোন ব্যাখ্যা বা টাইটেল নেই । কানে একটা তীব্র আওয়াজ শুনলাম । ট্রাফিক পাতলা হয়ে আসছে , পিছনে হর্নের আওয়াজ । পায়ে রক্তের স্রোত অনুভূত হল , এক্সিলেটরের উপর পা কেঁপে উঠলো । ছবির এটুকুই বুঝতে পারলাম ত্রিভুজের লাইন দিতে গিয়ে বৃত্তের ফুটকি মারা যাচ্ছে ।
Comments
Post a Comment