কেঁচো
জমির উর্ববরতার কথা ভাবো । আর কৈশরের কোনো বন্ধুর কথা । এমন মানবজমীনে কেঁচোর বড় কিছু একটা ভূমিকা থাকে না, আমরা যদিও শেষমেষ মেনে নিই পরিবেশ বান্ধব নির্ঝঞ্ঝাট কৃষিকাজের আবশ্যিকতায় কেঁচোর জীবনচক্র কিছুটা হলেও সম্পর্কিত । জমির ফসল ফলানোর কাজে কেঁচোর এমন কোন কার্যক্ষমতার কথা কিয়ৎক্ষন আলোচনা হয় । আর যদি কিছু কালীর অক্ষর নিয়ে বুঝাপড়া করি, বুঝতে পারি, মাছ ধরার চারা হিসাবে যে কোন গ্রাম্য কিশোর তার কিছু ধানি শোলের শিকার কাহিনী শুনিয়ে যাবে । এসবই একটা স্মৃতিমেদুর কাহিনী যা আমিও বুকের কোন একখানে বোধহয় এতদিন গুছিয়ে রেখেছি ।
কাহিনীর কথা, বিবর্তনের কথা । কিন্তু কেঁচো খুড়তে খুড়তে সাপ বেরোনোতে কোন কাহিনী সত্যি হয়ে যায় না । অন্ততঃ ডারউইন সাব যে সব বিবর্তনের কথা আমাদের শুনিয়েছেন, আমরা তা কিছুদিন আগেই না করে দিয়েছি, কিন্তু যেটা ফেলতে পারছি না সেটা হলো 'যোগ্যতমের উদবর্তন' কথাটা । না, কোনভাবেই ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না । প্রকৃতির আবেশে যে যার শক্তিমত আখের গুছিয়ে নেবে । যে কোন সারভাইভাল তাই একটা সুপারহিট গল্পের উপরেই বেঁচে থাকে । অলীক বা কল্পনা, জল্পনা বা বাস্তব, বিষয় যেখানে বিষয় নয়, সেইখানে যে গল্পটা থাকে তা হলো বিচ্ছিন্ন প্রজাতির সংঘবদ্ধ হওয়া । বিবিধতার মাঝে ঐক্যতা । আন্তপ্রজাতির মাঝে লড়ে জায়গা করে নেবার নাম বিষয় বিবেচনা আর বহু প্রজাতির মধ্যে নিজ নিজ প্রজাতিকে সামিল করার নামই গল্প । আর তার পরপরই অবসম্ভাবী চলে আসে গল্পের শ্রেণীবিভাগ । কিভাবে, তার কথায় পরে আসছি ।
"যেখানে দেখিবে ছাই
উড়ায়ে দেখো তাই
মিলিলেও মিলিতে পারে অমূল্য রতন "
অমূল্য রতনের খোঁজে কবিও কাক ভোরে কবিতা পাড়ি দেয় । গল্পে তাই রহস্যময়তা নিয়ে প্রত্যেকটি কবি এক একজন নায়ক আর কাহিনীর অবতারনা নিয়ে পাড়ে কোদালের কোপ । এক একটা এঙ্গেল নিয়ে এক অলীক খনন । কোদালের প্রত্যকেটি কোপে যে টুকু মাটি উঠে আসে, ধ্বনি ঝংকারে ফুটে ওঠে দর্দ, গুপ্তধনের মত যেটুকু কবিতা উঠে আসে তার কতটা খনিজ আর কতটা সংকর তাই বিচার্য করে এই সময় বা কাল ? সময়ের অতল গহবরে লুকিয়ে গুপ্তধনের সেই সব চরিত্রের কিছু ব্যাখান নিয়ে আজকের এই বিগ হার্ট কেঁচোর জীবন চরিত্রে উঁকি মেরে দেখা যাক এর মাঝে কতটুকু মানুষের ইতিহাস নিহিত রয়েছে ।
চিত্র ১- বিবর্তনের ছবি ।
এবার আপনি বলবেন, এই সব পরোয়া করি না, লেখার তাগিদে লেখি । গুপ্তধনের পরোয়া করি না । কেউ বলবেন নিজের সন্তুষ্টির জন্য লিখি ভাই । যশের কোনো প্রলোভন নেই ।
"অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় –
আরো এক বিপন্ন বিষ্ময়"
কি বিষ্ময় ভানুন, কতটা বিপন্নতা । কতটুকু মাপার মত স্কেল আমার কাছে নেই । কবি তবে কি কালজয়ী হতে চায় ? তার বোধের ধারনা থেকে পাঠক এইটুকু আন্দাজ করে মাত্র । কিন্তু বৃহত্তর পাঠক সমাজে কবির উপস্থিতি এই সবুজ পাতার মত । পাঠক শুধু দুচোখ ভরে দেখতে চায়, কদাচিত সে পত্রালিকা গ্রাস-রুট লেভেলে নিয়ে যেতে পারে । ঘাস । পাঠকের হৃদয় আজ শুধু ঘাস । যার নীচে খনন করলে হয় বোঝা যায় খাদ্যের উপস্থিতি । নিজের সারভাইভালের কথা যে কোন প্রাণ ও তার প্রতিপালনের কথা ভাবে । আজ যে লেখকগোষ্টির এত গুচ্ছ-প্রতিভার স্ফুরণ আগে বোধহয় দেখা যায়নি । তবে প্রশ্নটা এভাবেই আসতে পারে, এই লেখালেখি, আর কবিতা গল্পে কতদিন বাঁচা যায় ? কিংবা আর একটা প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই আসে তাহলো, তা লিখে ফেলে কি পাওয়া যায় ? এতে সত্যিই কোন খাদ্য আছে ? পটভূমিকায় এত কবি কিভাবে সারভাইভ করে, নিশ্চয় কোন পাওনা আছে, অনন্ত থাকা কিছু একটা অসম্ভব কিছু নাই । যদি তাতে অর্থ নাই , কীর্তি নাই বা কোন স্বচ্ছলতা ? এখানে কি একটু মিথ্যার আভাষ পাচ্ছি ? কিংবা বলা যায় এই কথাটা সত্য নেই ? নাকি সমস্ত কবিরাই একদিন আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যায় ?
বরং কমার্সিয়াল ব্রেকের কথা ভাবো । দুর্বার গতির অর্থনীতির কথা । এখানে কোন কবিতা নেই । বলা যায় এই ফাস্ট স্পেসে যে ভরবেগ পৃথিবীর ভাবনাকে প্রতিমুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে আচ্ছে, তার মধ্যে এই তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিটা বিস্ফোরনের এক একটা খোরাক । এখানেই জন্ম নিচ্ছে ম্যট্রিক্স । যেখানে কোন কোণ ই এক সমতলে থাকে না । রসবোধ বিভক্ত হয়ে যায় । কম্পোস্ট হয়ে যাবার আগে প্রতিটা সম্ভবনার ভিতর থেকে ঈশ্বর কণার উপস্থিতি । শেয়ার মার্কেটে রে রে করে তেড়ে আসছে জোয়ার । ঘাসের নীচে জমে থাকা জৈব রসায়ন নিশ্চুপে ভেঙ্গে যাচ্ছে কার্বোহাইড্রেটে, প্রোটিনে । মাটি খাচ্ছে কেঁচো আর উগরে দিচ্ছে তার সমপরিমান মাটি । প্রত্যকের ইন্সট্যানস এক একটা নেটওয়ার্কের নোড । জাল জুড়ে জুড়ে ইন্টারনেট ছেয়ে যাচ্ছে । প্রত্যকেটি নোড সারভাইভালের কথা বলছে ।
ভাববার অবকাশ আছে । ভিটের কাছে দেওয়া অংগীকার, ধানের জমির কাছে দেওয়া কথা, আত্মহত্যার আগে বেঁচে নেবার বধু ও শিশুর কথা । আন্তপ্রজাতির এই সংগ্রামে টিকে থাকা এক মস্ত বড় শিল্প, দুধে ভাতে থাকা বাঙ্গালীর কাছে যা আজ সাহিত্য সাধনা । একটা অবশেসন । উদ্দেশ্যের প্রচন্ড এক অভিমানের কথা । সুপ্ত থাকার এক আবছায়া, ব্যর্থ হওয়ার এক প্রচ্ছন্ন ধারনা থেকে বাংলার সাহিত্য ধারা পরিচালিত হচ্ছে । বাংলার লেখকরা এই ভারচুয়াল জগতের অস্থাবর কোন এক নিস্তবতার জন্য কোন এক চারার দিকে লালায়িত হচ্ছে কিন্তু যে সমাধানটা কারো জানা নেই । কেঁচোকে টোপ বানিয়ে ফেলতে চাইছে কেউ কেউ ? তাহলে আসলে কি সেই চিনে বাদামের জন্য রাত জেগে সাহিত্য রচনা ? নাকি রাতারাতি হিরো হয়ে যাবার হাতছানি ? প্রকাশনার পাতা জুড়ে এই লটারীখেলার এক অনন্য উদাহরণ মনে হয় এই কবি হতে চাওয়া । মাছ ধরার গল্পে যখন কোন নায়িকা নেই, শীতের শেষে পড়ে যাওয়া ঝরা পাতায় যেমন প্রেম নেই আর শুধু খুড়োর কলের মত তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া এই জীবন যাত্রার আর এক নাম হলো তাই 'বেট' বার টোপ । যেখানে অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় , যার কিছুই কবিকে টলাতে পারে না । সেই বস্তুটি কি ? যেখানে জীবন খাতার প্রতি পাতায় প্রতিমুহূর্তে পালটে যাচ্ছে খাদ্য ও খাদক । মাটির ভিতর থেকে উঠে আসছে এক নতুন পৃথিবী, গাছের প্রশাখা থেকে জন্ম নেয় মানুষের আর এক পূর্বপুরুষ, আর কেঁচোর জীবন চক্রে বুঝতে পাচ্ছি পুনর্জন্মের অনন্য সংগ্রামের কাহিনী । কতদিন না খেয়ে একটা কেঁচো বাঁচতে পারে ? নাকি মাটি খেয়েই তাদের জীবন বেশ চলে যায় ? মাটি খেয়ে মাটি ত্যাগ করে আবার সেই মাটি খাওয়া । ন্যাচারান সিলেকশন । ডারউইন সাব, লা জবাব । কিন্তু কবি সাহিত্যিক আজ যারা এই সোসাল মিডিয়ার যুগে, মাইক্রো ব্লগের যুগে কি করে সারভাইভ করবেন ? নাকি তাদের খুঁজে নিতে হবে যোগ্য পূর্বপুরুষ ? এই টেক্সট বেসড শিল্পে শেষ হয়ে গেলে মানুষের উত্তরপুরুষ কি নিয়ে রচনা করবে সাহিত্য ? নাকি আত্মহত্যার পরে আর কোন কবি আর জন্ম নেবে না ?
প্রশ্ন তো অনেক, উত্তরও হতে পারে অধিক । আজকের চিত্র হতে অধিক সন্ন্যাসীর মাঝ থেকে যে সব কবিদের আলাদা করতে পাচ্ছি, তা হল ন্যাচারাল সিলেকশন । রূপে গুনে রসে বসে যোগ্যতমের উদবর্তনে মানুষের প্রতিযোগীতা । এ এক নতুন অর্থনীতি । আর কীর্তি স্থাপনের গুপ্ত ইচ্ছার মধ্যে রয়েছে কবিতার বীজ । প্রতিদিন হিরো হয়ে যাবার হাতছানিতে রয়েছে লেখনীর অনুপ্রেরণা । আর এক বার ব্রান্ড তৈরী করে ফেলতে পারলে স্বচ্ছলতাই স্বচ্ছলতা । এর মধ্যে জীবনের আনন্দ হি আনন্দ । এখানে বিপন্নতা কোথায় ? বিপন্নতা নিজেই বিপন্ন, বিপননের আর এক প্যহলু । বাজার তার মুক্ত রূপে কবিতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে উপস্থিত । তাকে কবিতায় ধরা এ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ । বাজারের গলিতে গলিতে কালনাগীনীর করাল ছায়া প্রতিক্ষনে গ্রাস করে চলেছে । মাটির এত কাছে এসে কবিতার এমন করারা হার এক কবিদের কাছে বড্ড আঘাত । কবির কাছে পাওয়া বলতে যতই আত্মরতির কথা বলি তা একটা আপেক্ষিক রূপেই রয়ে যায়; তার চেয়ে বরং আমি একটা হাইপোথিসিস এর সাহায্য নিই একজন কবি এজকের যুগে কি দিচ্ছেন আর কি পাচ্ছেন, তার সারভাইভালএর জন্য কি কি ফ্যাক্টর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করছে ।
এমন সন্ধিক্ষনে তাহলে প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, কবিতা লিখতে গিয়ে কবিদের দান ও প্রাপ্যের একটা অলিখিত ও আপেক্ষিক সমীকরণ দিচ্ছি । চার্ট করা যাক ।
একজন কবি কি দিচ্ছেনঃ
একজন কবি কি পাচ্ছেনঃ
এটা অতীব সত্যই গদ্য সেলুকাস । পৃথিবী গদ্যময় । গদ্যের বাজারে নাজেহাল কবিতার সাম্রাজ্য । যে কবিতা ছিলো একমাত্র সাহিত্য সাধনা, তার শ্রেণীবিভাগ সুক্ষ থেকে সুক্ষতর সংজ্ঞায় বিভক্ত হয়ে আছে । রসের আনাগোনায় এক ইতিহাসের এক পাহারা । পূর্বসূরীদের কার্যপদ্ধতি আমাদের কাজের সীমারেখা বার বার ভেঙ্গে দিতে চায় । কবিতা থেকে গল্প আলাদা হয়ে গেল, উপন্যাস আলাদা হয়ে গেলো । ছন্দ আলাদা হবার পথে পথে, এমন অবস্থায় তার জীবন চক্রে এক চিরাচরিত প্রশ্নে বার বার বিদ্ধ হবেন না তা কি করে হয় । ভাবনার অজান্তে যে হৃদয়ে কোমল রসে সিঞ্চিত হয়ে চলেছে যে সব দৃশ্য তাকে কোন ভাষায়, কোন ভাবে তাকে ধরবে মানুষ ?
আসলে কিছুতো রক্তক্ষরন হয়ই । ডালে ডালে পাতা আসার আগে টেরপেয়ে যায় পেঁচারা, এই হলো ইঁদুর ধরার আসল সময় । অর্থ, যশ, খ্যাতি কোনদিনই আড়ালে ছিলো না, শুধু আত্মসুখকেই আমরা গাছ পাতা ঘাসের আকারে দেখি । একটি ধানের পাতার উপর শিশির বিন্দু নিয়ে আমরা কবিতার ফসল ঘরে তুলি । হ্যাঁ, আছে তো । আত্মসুখ আছে তো । আত্মসঙ্গম আছে । তার জন্য আমাদের প্রতিক্ষনে ঘর্মের প্রতিটা কণায় কণায় রাত্রিদের জীবন গাঁথা যে কাহিনীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তা হলো লুকিয়ে থাকা অভিপ্রায় । অবচেতনার এই অদৃশ্য এক খেলোয়াড় যে দলে থেকেও যেন নেই ।
"যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে "
জন্মভূমির কথা ভাবো । জীবন চক্রের কথা । পরিবেশ, জমি, ঘর, বাড়ি, আনাচ ও কানাচ, গাছ ও পাতা । প্রতিবছর ঘুরে আসা ঋতুচক্রের কথা ভাবো । সবুজ পাতার জীবন চক্রে বসন্তের একটা কথা বলি । সে এক শীতের অবসানে নারীর জীবনে চলে আসা প্রাকৃতিক পুরুষের কথা । সঙ্গমের এমন মৌসোম নিয়ে ঋতুময়ী পৌষের চলে যাওয়া । পৃথিবীর জীবনে শেষবারের মত মা হওয়ার আগে যে পাতারা শুয়ে পড়ে ঘাসের মাঠে, তাদের তন মন ধন সর্বস্য মাটির সাথে মিশে যায় । কিছুটা প্রোটিন, কিছুটা কার্বো হাইড্রেট ছাড়া ওর মধ্যে কোন আবেগ অবশিষ্ট থাকে না । কোন স্নেহ, প্রেম, চুমু ও যৌনতা ছাড়াই তারা কীট পতঙ্গের খাদ্য হিসাবে নিজেকে আত্মসমর্পন করে । এ এক চরম গদ্য । আর অবাক করে দিয়ে পৃথিবীর ওপারে ভোরের সাথে সাথে বসন্ত জেগে ওঠে । এ এক কবিতা । নতুন একদল কবি ঝকঝকে মুখ নিয়ে তারা তকতকে প্রেমিকার মুখে গুঁজে দেয় পংক্তি, স্তবক, ছন্দ । জিভের ডগায় ক্যাডবেরীর মত গলে যায় কবিতা ।
এইক্ষেত্রে মাটির সম্পর্ক আর জীবনের উজ্বলতার প্রশ্নে ভিটেবাড়ির কথা যদি একবার ভাবো, কৃষকের জীবনে শব্দচাষ এক বিশ্বাস মাত্র । বেঁচে থাকার সমীকরণ । দিনরাত প্রাণীপাতে তার চাষপদ্ধতি দিন দিন বহুপ্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে যায় । জীবনচক্রে কেঁচোর এমনই এক চাষ পদ্ধতিকে উন্মোচিত করে যা গদ্য বা এক মাত্র গদ্য দিয়ে সম্ভব । অমূল্য রতনের জন্য মনে হয় হাজার বছর ধরে বিবর্তন হয়ে আসছে । তবুও বিবিধ ধনের ভান্ডার এখনো খুঁড়ে দেখিনি । যেটুকু মাটির খোঁজ পাওয়া যায়, সমস্তই উন্নত মানের উর্বতার সম্পন্ন বিষ্ঠা । বলা যায় এখানে কেঁচোর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না । যেটুকু অস্বীকারের কথা আসে তা হলো এই অবোধের খনন কার্যের কথা । সামালকে ভাই, কোদাল শক্ত হাতে ধরো । বরং বলা যায় বয়সন্ধির সেই দিন থেকেই মৎসপুরানের শুরু । মাছ ধরার চারা হিসাবেই সহি, দু কোদাল মাটি তুলে কেঁচোর তুলে আনার কথা শুরু করা যাক । বিবর্তনের প্রত্যেকটি ধাপে সেই সব গদ্যে অমূল্য রতন ছন্দের খনিজ উপলব্ধি করা যায় । তাকে মাটির কাছাকাছি আর বুকের খুব কাছে লুকিয়ে রেখেছে কবিরা । যদি খুড়তে খুড়তে কোনদিন তা সাপ হয়ে বেরিয়ে আসে ।
এমন একটি প্রানী নিয়ে আমাদের জীবনে কি আলোচনা বা শিক্ষা হতে পারে ? কেঁচো স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পড়ে না, বা হোমো সেপিয়েন্সদের ও কোন বিবর্তন চক্রে নেই । আর যেহেতু মানুষকে ধরে নেওয়া যায় সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞান সম্পন্ন । শিল্পের অবকাশে মানুষ তাই তো মানুষকেই আবিষ্কার করে চলেছে ।
Comments
Post a Comment