দেশ দেশান্তরে

 দেশ দেশান্তরে 


--পীযূষকান্তি বিশ্বাস 




আমি কোন দেশে থাকি । আমার আত্মীয় স্বজনদের দেশ কী । কেউ বলবেন আমি ভারতবর্ষে থাকি, কেউ বলবেন পশ্চিমবঙ্গে থাকি । কেউ বলবেন বাংলাদেশ । আর আমি বাংলার বাইরে ? আমার  দেশ কী ?  


আমি আছি !  এটাই কি যথেষ্ট নয় ?‌ তাহলে কী ? আমাদের 'থাকা' আর আমাদের 'দেশ' কি আসলেই এক রৈখিক ? একটা ম্যাপে ফেলে দেখবেন ? যদিও বারংবার ম্যাপ পুরানো হয়ে যায় । 


 ধরা যাকঃ এক কোটি বছর আগের কথা ।   এই 'দেশ' কথাটার অস্তিত্ব কি ছিলো ?  অথবা এক লক্ষ বছর পরে এই দেশে 'আমি' বলার মতো কেউ থাকবে ? 


দেখা যাক,  'আমি এই বঙ্গদেশে থাকি' এই কথাটার মানে কি ।  এই কথাটা 'সত্য' হতে পারে যদি এই কথাটা উচ্চারিত হয় খ্রিস্টপূর্ব  পাঁচ হাজার বছর থেকে এই এখন থেকে আগামী আরো দশ হাজার বছরের মধ্যে কোন 'কাল' এ ।  অর্থাৎ আমরা যারা বাংলাভাষা বলছি, একটি খুবই ক্ষুদ্রকাল । এই থাকাকে এক্স রেখা বা নারদ হিসাবে ধরা হয়, তাহলে, সেই টেকটনিক প্লেটে ওয়াই রেখা হলো একটি গন্ডোয়ানা ল্যান্ড । এই উপমহাদেশের জেড রেখা বরাবর অষ্টম মনু বৈবস্বতের রাজত্বে আমি ও আমরা 'আছি' ।    


আমরা কারা? আমি কি আমরা হতে ভিন্ন হয়ে আছি । অবশ্যই না । আবার খানিকটা । ব্যাপারটা একটি মধুময়চক্র । আমি কোন দেশ থেকে এলাম । আমি দশ  লক্ষ বছর আগে, আমার এই ঘাড় মাথা বাইসেপস নিয়ে কি এই  পৃথিবীতে ছিলাম, নাকি ছিলাম অন্য কোন পৃথিবীতে।  অন্য কোন ছায়াপথে,  অন্য কোন সৌরজগতে ? অণু-পরমাণু হয়ে  ছিলাম ? নাকি এই পৃথিবীর আলো মাটি জল হয়ে ।  আর আজ যেখানে আমি কলকাতায়, শিলিগুড়ি,  ঢাকা বা আগরতলার ভৌগলিক দূরত্ব নিয়ে,  এই থাকাকে সংজ্ঞা-বদ্ধ করতে চাইছি ?‌ আধুনিক সাহিত্যে লিখে ফেলতে চাইছি আমার ভাষা । আমি কি ভাষায় কথা বলছি, কি ছন্দে কবিতা লিখছি, কি মাংসের বিরিয়ানি খাচ্ছি । মনে মনে রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া কোন এক গাঁয়ের বধূর আচল উড়িয়ে দিচ্ছি । এটা কি আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা ? আমি ভাবি, ভাবতেই থাকি ।


আমার লেখা কবিতা কি আমার ? আমার হাতে লেখা অক্ষরেরা কি আমারই অক্ষর ? এইযে কবিতা নিয়ে ভাবছি, এই ভাবনা কি মঙ্গল কাব্য লেখার সময় ভাবা হয়নি, কিংবা গিলগামেশ লেখার সময়। এই যে এতো সহস্র কবি, এতো শত লিটল ম্যাগাজিন এরা কি আগে ছিলো না ? আমরা ভাবছি কবিতা কেউ পড়ে না , কবিতার মান কমে যাচ্ছে, চারিদিকে অবক্ষয় , এই অবক্ষয় কি এই প্রথম ?  আজকের সমাজে, যেখানে মানুষ একটি দ্রুত গতিতে অগ্রসর করছে ।  কবিতা প্রায়ই আমজনতার হওয়ার দিকে চলে যাচ্ছে।  এটি নিশ্চিতভাবে একই সঙ্গে সুখ  ও চিন্তার কথা ।  আমরা ভাবছি  কবিতা হলো আমাদের সাংস্কৃতিক ও জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা ও সংগ্রামের প্রতি আকৃষ্ট করে। আবার অন্যদিকে একে নানান প্রতিযোগিতায় ফেলে পণ্যতর করে , তার গুরুত্বকে আমরা লঘুতর করেও ফেলছি । 


এখন, আমরা একটা সময়খণ্ড, দেশকাল নিয়ে বলছি । এই দেশের ভাষা ক্রমশ অস্বচ্ছ হয়ে উঠছে । কে কি বলতে চাইছে । আমরা তার লাইন পড়তে পারছি না । আজকের চেনা মুখ, নিমেষে অচেনা হয়ে যাচ্ছে ।  এই অমুক বাবু এইটা আজ বলছেন, তো অমুক বাবু কাল বলছেন যে গণতন্ত্রে ওটা চলে না । একই ভাষা,একই বিষয়,একই কবিতা । তার অর্থ আলাদা আলাদা ।  সাধারণ জ্ঞানে অস্বচ্ছ ভাষা , অসাধারণের ভাষায় আলোকিত গ্রন্থ । আমরা লেখক হিসাবে লেখার খুব কাছে চলে আসছি আর মননশীল পাঠক হিসাবে তার দূরে চলে যাচ্ছি । এই পাঠকশূন্য উপত্যকা আমার দেশ না ।


এই কিছু দশক আগেও আমি ছিলাম একজন সৈনিক ।  যুদ্ধ, ঢাল তলোয়ার নিয়ে আমি ভাবতাম একজন বড় বীর, পক্ষীরাজ নিয়েও ভাবতাম ।  কিন্তু ক্রমশ বুঝতে পারলাম, আমার ভৌগলিক কী ? আমি কোন দেশের নাগরিক ?  আমার দেশ কোথায় ? আমি কোন রাজার আদেশে যুদ্ধ করি ? এক কোপে কারই বা মাথা কেটে ফেলার কথা ভাবি ? আমার ভাবনার প্রতিটা শব্দ আমার কাছে আপন আবার আমার কাছেই প্রতিপক্ষ। আমার শব্দই আমাকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করে তোলে । ভাবি, গতকাল আমার একটা দেশ ছিলো । আম কাঁঠালের দেশ । গাঁয়ের বধূর দেশ । আর আজ আমার কোন দেশ নেই । 


কিংবা দেশ হয়তো আছে , নইলে আছি কোথায় ? এই যান্ত্রিক সোশ্যাল মিডিয়া, কৌশলী কর্পোরেট আর চালাক চতুর রাষ্ট্র নেতাদের কুক্ষিগত পৃথিবীতে আছি ? এইখানে এই সময় আমি কি খুঁজে চলেছি । আমি কি বা হারিয়েছি ? দেশ মানে কি আসলে ভাষা ?  আমি যে ভাষা খুঁজতাম সেই ভাষা ? আমি যে মানুষ খুঁজতাম সেই মানুষ ? নাকি আমি যে কবিতা খুঁজতাম সেই কবিতা ? সেই কৈশোরে পড়া জীবনানন্দ, ঐ ক্লাসে বারবার মুখস্থে ভুল করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।  


এতো অগণিত লেখক কবি, তাদের ভিতর আমার জীবনানন্দ কে ? আধুনিকতার অব্যাহত গতিতে, আমরা কবিতার সেই মনোহারী ছন্দ । আমাদের কবি কে ?  কবিতা, যা একসময় মানব অভিব্যক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, ধীরে ধীরে পশ্চাৎপদ হচ্ছে।  এর কারণ হতে পারে বহুমুখী, কিন্তু মূলত এটি আধুনিক জীবনের অত্যন্ত  কর্মচাপ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সাথে সম্পর্কিত।


আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে সময়ই অর্থ এবং ক্রমাগত উৎপাদন এবং সম্পাদন করার চাপ । প্রতিমুহূর্তে শ্বাসরুদ্ধর হয়ে উঠেছে আমাদের যাপন । যেহেতু বিভিন্ন কার্যপদ্ধতির মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের কর্মশক্তিকে প্রভাবিত করে চলেছে, মানুষকে ক্রমবর্ধমান-ভাবে একটি উন্মত্ত গতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে । যা আত্মদর্শন বা সৃজনশীল অভিব্যক্তির জন্য খুবই কম জায়গা রাখে। আমাদের ২৪x৭ ধারণাটি  আভিধানিক হয়ে উঠেছে । কারণ আমরা সারাক্ষণ আমাদের সোশ্যাল আত্মীয়দের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে থাকছি ।  বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বোমাবর্ষিত হচ্ছি । আমাদের মনে হচ্ছে যে আমরা উল্লাসিত, আনন্দিত, বাকস্বাধীন । মনে মনে জয়নগরের  মোয়া খাচ্ছি। অথচ দিনে দিনে নিজের থেকে নিজেই হয়ে যাচ্ছি বহুদূর ।


এই পরিবেশে, একটি সাধনাকে নিয়ে বিলাসিতা করার সময় কম । প্রযুক্তির নিরলস হুংকার এবং উৎপাদনশীলতার অদম্য আধিপত্য যুগে, পৃথিবী তার ছন্দ হারাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কবিতার মৃদু ছন্দ, একসময় মানুষের অভিব্যক্তির মূল ভিত্তি, ধীরে ধীরে পণ্য ও প্রতিযোগিতার পটভূমিতে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আধুনিকতার প্রেক্ষিতে চালিত এই জীবনের মধ্য দিয়ে আমরা যখন হাঁটাহাঁটি করি, তার বিশৃঙ্খলার মধ্যে কবিতা শিল্প তার স্থান হারিয়েছে । আমাদের অভিলব্ধ জ্ঞান,  দক্ষতাই  উৎপাদনশীলতার ক্ষমতাই আমাদেরকে জোরজবরদস্তি এই বিরক্তিকর প্রবণতার দিকে পরিচালিত করেছে ।  মানুষের এই নিকৃষ্ট অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পের অবমূল্যায়ন। আমরা মূর্ত, পরিমাপযোগ্য, এবং ব্যবহারিককে অধরা, বিষয়গত এবং সুন্দরের চেয়ে, বরং শর্তযুক্ত বাহ্যিক সফলতাকে অগ্রাধিকার দিতে অধিক আগ্রহী । কবিতা, উদ্ভাবন, পরামর্শ এবং আবেগের উপর গবেষণাকে পিছিয়ে পড়তে দেখছি । লক্ষ্য করছি  সৌন্দর্যের উপরে প্রয়োজনীয়তার প্রচণ্ড প্রহার । অর্থাৎ  "অর্থ" এমন একটি অর্থে ব্যবহার হচ্ছে যে , অর্থই একমাত্র অর্থ । বাকি যেন সমস্তই অর্থহীন ।


এখন আমি কোন স্কুলে পড়বো ? কোন গুরুর কাছে নেবো দীক্ষা ? জীবনের প্রতি এই উপযোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শিল্প ও কবিতাকে নিছক অর্থহীন চিন্তাভাবনায় পরিণত করেছে । যাদের কাছে সময় ও উপায় আছে। বিশেষ আলোকপ্রাপ্ত অল্প সংখ্যক লোকের জন্য কবিতা লেখা একটি শখ মাত্র।  কবিতা অথচ আমি জানতাম আত্ম-প্রকাশ, সামাজিক ভাষ্য, এবং মানসিক নিরাময়ের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মনে করি।  যেখানে আমরা এখন এই সময়ে, আমাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার 'কি ফায়দা' এবং 'রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট' কে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি ।




একটি শিল্প বা ফর্ম হিসাবে কবিতার পতন আমাদের যৌথ মানসিক বুদ্ধিমত্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। কবিতা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের অভিজ্ঞতার জটিলতাগুলিকে প্রক্রিয়াকরণের, অবর্ণনীয়কে কণ্ঠ দেওয়ার এবং আমাদের নিজস্ব আবেগের গভীরতায় নেভিগেট করার একটি মাধ্যম। এই আউটলেট ছাড়া, আমরা আমাদের নিজস্ব সংবেদনশীল ল্যান্ডস্কেপের সাথে যোগাযোগ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে থাকি, মানুষের অবস্থার সূক্ষ্মতার কাছে অসাড় হয়ে যাই। আমরা দক্ষতার ক্ষেত্রে  আমাদের মানসিক বুদ্ধিমত্তাকে কম সহানুভূতিশীল জায়গায় এনে ফেলেছি । আধিক্যের কাছে আমাদের আজকের আত্মসমর্পণ । অন্যদের সাথে অর্থপূর্ণ সংযোগ গঠনে অক্ষম হয়ে পড়ছি । আমরা সর্বক্ষণ একটা ব্যস্ততার রাজ্যে কর্মরত রয়েছি ।  যেখানে একমাত্র পরিমাপযোগ্য বা গুরুত্বপূর্ণ তা হল উৎপাদনশীলতা । ভাষার সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের প্রাত্যহিক চিন্তাভাবনা  চিন্তাজনক-ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি কি লিখবো ।  আমার যদি কাল একটা গ্রন্থ প্রকাশ পায়, তার পাঠকই বা কোথায় ? 


একটা প্রগতিশীল সময়ে অবশ্যই প্রতিযোগিতাকে অস্বীকার করা যায় না ।  কিংবা ধর্মচিন্তা, নৈসর্গিকতার পূজা বাদ দিয়ে  হঠাৎ সারাদেশে কি কবি আর শিল্পীতে ভরে যাবে ।  আগামীকাল মুঠো ফোন ফেলে দিয়ে স্কুল পড়ুয়া সমস্ত কিশোর কিশোরীরা বই হাতে তুলে নেবে । তা হয় না । কিন্তু একটা ব্যাল্যান্স তো দরকার । গোষ্ঠী ভাবনার পরিসর,  সার্বজনীন সংযম,  শিল্প বুঝে ওঠার ক্ষমতা একটা জাতির একটা সময়কালকে সংজ্ঞায়িত করে ।  শিল্পের অবমাননা একটা কালখণ্ডের গুণে ও  সমৃদ্ধিতে  নীচে নেমে যাওয়ার সংকেত । একটি মহান কালখণ্ডে, যখন শিল্প  সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে,  একটা সামগ্রিক পরিমণ্ডলের যুগের সম্পূর্ণ ব্যাপ্তি ঘটে । কবিতার সঙ্গে তার কালখণ্ডের এইটুকু সম্পর্ক । 


আমরা এখন এমন সময়খণ্ডে  বাস করি যেখানে সময়ই হল "অর্থ" , সময়ই হলো "বিষয়" । অবিরাম উৎপাদন ও কর্মক্ষমতার চাপে আমাদেরকে স্বল্পসময়ের মধ্যে বহুবিধ প্রাত্যহিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। প্যারালাল থ্রেডে স্বয়ংক্রিয় কর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কাজের স্থান পরিবর্তনের কারণে মানুষ আরও বেশি করে চাপের মধ্যে আটকে পড়েছে।‌ এখানে কল্পনার অবসর কোথায়। এই পরিবেশে, কবিতা পড়া বা লেখার জন্য সময় চেয়ে নেওয়া একটি কঠিন  সিদ্ধান্ত। কবিতার মনোহারী ছন্দ এবং রূপকথার উপর ধ্যান করার জন্য সময় নেওয়া আমাদের কাছে একটি ভিন্ন যুগের বস্তু বলে মনে হয় । বঙ্গ সংস্কৃতিতে আজ রাজনীতি, ধর্মশিক্ষার প্রেক্ষাপট, গদি দখল, সিন্ডিকেটকে অগ্রাধিকার দিয়ে, মানুষ তার প্রোডাক্টিভ সময় হারাচ্ছে । অর্থনৈতিক উত্থান , শিল্প-শিক্ষা ও পশ্চিমী মিডিয়া সর্বদা আমাদের আচরণকে জটিল করে তুলেছে । এখন মানুষ তার আত্ম-কেন্দ্রিকতা, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম-এর অধিক ব্যাবহারে  চেতনা, বিবেক, অনেক ব্যক্তি আত্ম-চরিত্রগত থেকে দেউলিয়া হয়ে উঠেছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও শিল্পের জন্য একটি বড় হানি কারক । 


অথচ এই শিল্প ও সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের জন্য অনুভূতি, ভাবনা ও উদ্ভাবনের একটি স্তর। কিন্তু আমাদের সাধারণ জীবনে প্রয়োগ হচ্ছে এর অভাব। এইভাবে কবিতা শক্তির এমন দীনতার এই পরিসরে আমি কি কবিতা লিখবো ?


তবে, আমি এতোটাও চিন্তিত নই । আমার নিজস্ব সৃষ্টি আর দক্ষতার উপর আমার ভরসা আছে। আমিই সেই মনু । আমারই বীজ দিয়ে এই উত্তরবংশ । আমার ঔরসে এইসময় কাল হয়ে উঠেছে ইতিহাস। ঐ দেখো, আমার বাপঠাকুরদা তার অমল রুদ্র তেজে আমাদের উপরে সূর্যরশ্মি বর্ষণ করে চলেছে । এসো আমি তার উজ্জ্বল ধারার প্রশংসা করি। আজ ইন্টারনেট জগতে, আমার কাছে উপলব্ধ হয়ে উঠছে না জানা সাহিত্য, কতো কবি ও কবিতা । পৃথিবী অনেক কাছে চলে আসছে । অনেক লেখকের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে  সাহিত্য গবেষণা, আলোচনা এবং সৃজনশীলতার বিভিন্ন মার্গ । আমাদের অবশ্যই কাব্যিক কণ্ঠস্বর,  রচনাশৈলী এবং ফর্মের বৈচিত্র্য উদযাপন করার  দিন । সময় ও সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিভাজনগুলি সেতু করার জন্য কবিতার শক্তির বিকশিত করার সময় । এটাকে কি আমার কালযাপন বলা যায় ? শেষ পর্যন্ত, আমার ও কবিতার দুজনেরই বেঁচে থাকা নির্ভর করে আমাদের ধীরগতির, পরস্পরকে শোনার আগ্রহ ও অনুভব করার ইচ্ছার উপর।  ইচ্ছার উপর সংযম তার উপরেও অধিক আবশ্যিক।  এর জন্য আমাদের ভাষার সৌন্দর্য, আবেগের শক্তি এবং মনের মানুষের সংযোগের গুরুত্বকে পুনর্মূল্যায়ন করার সময় এখন ।  




কবিতাই হচ্ছে আমাদের জন্য অনুভূতি, ভাবনা ও উদ্ভাবনের একটি স্তর। যেখানে  আমাদের সাধারণ জীবনে অনিবার্য যে ভাবে চলে এসেছে বিষয় বিবেচনার অরাজকতা। এই সমস্ত থেকে দূর দূরান্তে আমার বাস। দেহলিজ একটি প্রান্তিক ধারণা । সাহিত্যর সেই পরিসর যেখানে অস্থিতিশীলতা বা অরাজকতার কালখণ্ড থেকে সরে এসে, এই সাময়িক  অবক্ষয়ের সময়কে চ্যালেঞ্জ জানানো । যখন কতিপয় কিছু ভবিষ্যচিন্তক আধুনিক দার্শনিক কবিগণ ক্রমাগত তাদের অনন্য আধুনিক কবিতার প্রস্তাবনা রেখে চলেছে । বৈশাখী পল্লবে লিখে চলেছে নতুনত্বর শিল্পের পাঠ, তখন নিশ্চয়ই আশা জাগে । অভিনব ভাবনা পরিসর নিয়ে  নতুনত্বের প্রত্যাশায়, সত্যকারের কবিরা সময়কে এগিয়ে রাখে ।  তাদের এই কালখণ্ডে, আমার এই নতুনত্বর দেশের  খোঁজ হয়ে ওঠে  গুরুত্বপূর্ণ অভিযান । এই তো আমার দেশ । আর তার নাগরিক হিসেবে আমার প্রথম কর্তব্য হলো সূর্যের আহ্বানে জন্ম নামের ঊষার আলোকে সেই দেশকে প্রতিস্থাপন করা । এসো আমার সুনাগরিক, ভ্রাতা-ভ্রাত্রীয়গণ, আমরা সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে আহ্বান করি ।  






















Comments