কবি জপমালা ঘোষরায়কে নিয়ে একটি সাহিত্য রচনা করতে হবে । ভাষা নির্মাণ হবে উচ্চ পদের । যেহেতু কবি, তাই কাব্যরসের গদ্য লিখতে হবে । শব্দসংখ্যা ৫০০০ ।জপমালা ঘোষরায়কে নিয়ে কিছু তথ্য দিলাম ঃ
জপমালা ঘোষরায়
জপমালা ঘোষরায়কে আমি চিনেছিলাম অনেক পরে, যখন দীপঙ্কর দত্ত মারা গিয়েছেন । দীপঙ্কর দত্ত বেঁচে থাকা কালীন আমাকে প্রায় প্রতিদিন প্রতি কবিতা আলোচনায় জপমালা ঘোষরায়ের কিছু না কিছু প্রসঙ্গ আনতেন । তখন দীপঙ্কর দত্ত ও আমি শূন্যকাল পত্রিকা করি । দীপঙ্কর দত্ত এডিটর ও আমার অগ্রজ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার মেন্টর । আমি সেই হিসাবেই কবি জপমালা ঘোষরায়কে জানতাম উনি দীপঙ্কর দত্তের একজন পছন্দের কবি । দীপঙ্কর দত্তের হার্ট এটাকে মারা যাবার পর, কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় কবি জপমালা ঘোষরায়ের সঙ্গে আমার আলাপ হয় । আমাকে কবি, জপমালা ঘোষরায় বলেন, তোকে পেয়ে আমি একজন কান্নার লোক পেলাম । দীপঙ্কর দত্তের মৃত্যু উপলক্ষে আমরা খুব কাঁদলাম । কবি, জপমালা ঘোষরায় সেই থেকে জপমালাদি হয়ে গেলেন ।
জপমালা ঘোষরায় একজন কবি । আমার দেখা পৃথিবীর লোকজনদের অনেকেই কবিতা লেখেন । কিন্তু তাদের সামান্য কিছু লোকজনকেই আমার কবি বলে মনে হয়েেছ । কবি বলতে, মনে মনে আমি কিছু চরিত্রের কথা ভাবি । একটা তালিকাও আছে । যদিও সেই চরিত্র তালিকা সঠিক কিনা , সেই দাবী নেই । কিংবা একবার হারিয়ে গেলে পুনরায় সেইতালিকা প্রস্তুত করা যায় কিনা, সেই ব্যাপারেও আমি দৃঢ়ভাবে কিছু বলতে পারছি না । আমার অস্পষ্টভাবনায় জপমালা ঘোষরায় ও দীপঙ্কর দত্ত সত্যিকারের কবি । এদের কবিতা আমি পড়ি ।
জপমালা ঘোষরায়-এর জন্ম ১৯৬৬ সালে, বর্তমান
ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ে। বাল্য-কৈশোর-পড়াশোনা ভাগলপুরে। বর্তমান নিবাস
কাটোয়া, বর্ধমান। বর্ধমান
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর শিক্ষক শিক্ষণে
স্নাতক। কবিতা লেখার শুরু
নব্বই দশক থেকে।
প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কপোতকথন',
'শিশিরের নেটওয়ার্ক',
‘দেয়াল ও অ্যাপ্রন', ‘নির্বাসিত বেদুইন’, ‘স্ক্যানার রাজীবলোচন দীপ্তির কৌটো'। পেয়েছেন
বীরেন্দ্র পুরস্কার, ফাল্গুনী
রায় পুরস্কার সহ বহু সম্মান ৷
সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য সংস্থা থেকে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সাহিত্য আসর এবং আবৃত্তি অনুষ্ঠানেও তাঁকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
কাটোয়ায় বসবাসকারী কবি জপমালা ঘোষরায় নব্বইয়ের দশক থেকে পরিচিতি পান। তাঁর কবিতায় জীবন, জন্ম, মাতৃত্ব, স্মৃতি, এবং আধুনিকতার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির গভীর উপস্থিতি দেখা যায়। শূন্যকাল পত্রিকায় কবি জপমালা ঘোষরায়ের কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হতো । তখন দীপঙ্কর দত্ত ও আমি শূন্যকাল পত্রিকা করি । আমি সম্পাদনায় সামান্য সহযোগিতা করতাম । সাহিত্য গভীরতা আমার কম থাকার দরুণ প্রায় সবার লেখাই একই রকম মনে হতো । ভালো খারাপ উত্তম আলাদা করতে পারতাম না । ২০১২-২০১৪ সাল নাগাদ হবে । সেখানে দারুন হেয়ালী করে কবি দীপঙ্কর দত্ত আমাকে বলতেন, জপমালা তাকে এস এম এস করেছে । তখন এতো হোয়াটস এপ ছিলো না । ইংরাজীতে টাইপ করে নরম্যালে নোকিয়া ফোনে মেসেজ করতে হতো । একটা মেসেজ এইভাবে দেখালেন একদিন । মেসেজে দীপঙ্কর দা লিখলেনঃ "baler kobita desh vore giyeche", আর তার জবাবে, ছিলোঃ "dhur ball" । আমি, জিজ্ঞাসা করলাম , কে পাঠালো । দীপঙ্কর দা, একটা ক্রুর হাসি হেসে বললেন জপমালা ঘোষরায় । অর্থাত এক আত্মবিশ্বাসী, শিল্পীমানুষের মেধা ও মনন মিলে এক অপূর্ব সাহিত্য সৃষ্টির গ্রুপ তৈরি হয়েছিলো সেই সময়, আর আমি একজন আনকোরা তাদের ভিতর এসে পড়লাম । এরপর আমাদের কাল্পনিক কথাবার্তাই হতো। ছিলো কবিতার পরিচিতি ।
একবার দিল্লি থেকে আমি ও বিউটি বিশ্বাস (আমার স্ত্রী ) কলকাতা পৌঁছাই । বিউটির ছোট ভাই অনিমেষ দত্ত গ্রামীন ব্যাংকে চাকরি করে । তার আবাস নবদ্বীপ ধাম । ওরাই বলল, বর্ধমান কাছেই । কাটোয়া অল্পদূরত্বে । আমি, জানি কবি জপমালা ঘোষরায় ওখানে থাকেন । উনি আমাকে অজয় নদী দেখাবেন বলে, তার বাড়ি আমন্ত্রণ করেন । এই উপলক্ষে এই প্রথম আমি কাটোয়া যাই । কাটোয়ার পুরানো ইতিহাস, শ্রী চৈতন্যদেবের ইতিহাস নিয়ে আমাদের ভ্রমন জারি থাকে । দেখা হয় অজয় নদের হুগলি নদীর মিলন । কি অপূর্ব আমাদের সেই মিলন । জপমালাদি বিউটিকে কতোক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকলেন । আমাদের রাত্রিযাপন হলো জপমালা দির বাড়ীতে । রাতে, কাটোয়ার কবিদের নিয়ে, তার বাসভবনে কবিতা আড্ডা বসে । হারমোনিয়াম বাজিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত হয়, গল্প চলে, কবিতা পাঠ অনেক রাত অব্দি ।
জপমালাদি পাখি ভালোবাসতেন । তার বাড়ীতে গোটা পঞ্চাশ পাখির বাসা দেখেছি । একটা বারান্দা পাখিদের । তাদের জল দেওয়া, খাবার দেওয়া , পৃথিবীকে এই শিশুর বাসযোগ্য করে যাবার চিন্তা ছিলো তার ।
কবিতা লিখতেন বহু অভিজ্ঞতার পাড়ি জমিয়ে । এতো ভাবতে পারতেন । বিষয়, থেকে বিষয়ান্তরে যাওয়ার । নির্মান ছিলো তার লেখার একটা বৈশিষ্ট । তার লেখা বিষয় ভিত্তিকও ছিলো, কিন্তু বিষয়কে দাঁড় করিয়ে শিল্পের ইমারত গঠন করতেন । তার প্রয়াস পংক্তির সঙ্গে শেষ হয়ে যেতো না । বরং ভাবনাকে উসকে দিতো । পংক্তি থেকে চিন্তার একটি প্যাটার্নে গিয়ে দাঁড়াতো । চিন্তার বিস্তার কবিদের থাকে বলেই তাদের লেখা উত্তীর্ণ হয় । বাকি লেখকদের দেখা পাতায় লাইন বাই লাইন পড়ে থাকে, পঠিত হয় না ।
আমার সম্পাদিত দেহলিজ পত্রিকায় ও উনি স্বচ্ছন্দে লিখতেন । শেষ বয়সে , নানান রোগে পড়ে, তার লেখায় ভাটা পড়ে আসে । একবার ওনার নাম আমি জপমালা ঘোষ লিখি । উনি আমাকে ফোন করে বলেন, ওটা জপমালা ঘোষরায় হবে । যেহেতু ওয়েব পত্রিকা, আমি বেঁচে যাই । এডিট করে ঠিক করে নিই । আমি, যে পীযূষকান্তি বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস গড়ে ওঠার পিছনে, এইসব মহান কবিদের হাত রয়েছে । আর এইযে লেখা, তা লেখার সাহস ও পাই । যে দেহলিজ গড়ে উঠেছে, দীপঙ্কর দত্ত ও জপমালাদি সেই রাস্তা দেখিয়েছেন ।
তার কবিতা গ্রন্থটি "বিড়ালের 'শ', রুমালের স্ব' " আমি কলকাতা বইমেলা থেকে সংগ্রহ করি । পরে অবশ্য জপমালাদি "রাজীব লোচন ও দীপ্তির কৌটা" ও "শিশিরের নেটওয়ার্ক" বইদুটি কুরিয়ার করে দিল্লি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ।
তার কিছু কবিতা দেওয়া হলো । কবিতাগুলো নিয়ঃ সাহিত্য বিজ্ঞের মতো আলোচনা করো ঃ
বিড়ালত্ব
ক্লোনজন্ম সাদা শুয়োরদের
মাটি থেকে অনেক দূরে রাখা হয়।
অথচ সারা দুপুর কচুলোভী শুয়োরের দল
শরীরের কাদামাটি খুঁড়ে গেল।
দেয়ালের ভিতরে কি কোনো কালো বিড়াল পোঁতা আছে ?
যে মৃত নয় এবং আচমকা দেয়াল ফাটিয়ে
লাফিয়ে পড়তে পারে ?
বিড়ালেরা সবকিছু আগে টের পায়
সজাগ ইন্দ্রিয়ের নকশাপথ
এমনকি ইন্দ্ৰিয়াতীতও।
স্নান করলে দু-একটা অপরাধধারা ধুয়ে যায় কি না আমি জানি না।
তবে শাওয়ারকল আমাকে হাতছানি ও সমর্থন
দুটোই জানাচ্ছে স্পষ্টত ।
আমার কিন্তু একটুও বমি পাচ্ছে না,
বরং একটা টিউবলাইট জ্বলে ওঠার আগে
কয়েকবার জ্বলা-নেভা করছে মাত্ৰ ৷
তবুও স্বীকার করতে হবে
টিউবলাইট কোনো জ্বলে ওঠা অপাবৃত আলো নয়
বরং জ্বালিয়ে তোলা পোশাকি আলো
যা এখনই নিভিয়ে দেওয়া যেতে পারে
একথা ভেবে নিয়ে একদল সচেতন বিড়াল আমার পরস্মৈপদী বারান্দায়
ম্যাও মচাচ্ছে! জুগুপ্সা ছড়াচ্ছে!
বিড়ালতত্ত্ব
মিত্রাদির বারান্দায় কতগুলো কলোনিয়াল বিড়াল বাস করে। বিড়ালত্ব এবং বিড়ালতত্ত্ব কোনোটাই আমার ঠিক মাথায় ঢোকে না। ম্যাওবাদী ধূসর বিড়ালদের দাবিদাওয়া মিছিল-মিটিং দমন করার জন্য নিযুক্ত হয় কালো পোশাকের কম্যান্ডো বিড়াল। আবার কুকুর ও বিড়ালের মধ্যে অভূতপূর্ব সখ্য দেখছি রোজই আমার পাড়ায়। অধীনতামূলক মিত্রতা নীতিও প্রযুক্ত হতে দেখছি।
মা ষষ্ঠীর ষড়যন্ত্রী বাহনেরা ষোড়শ শতাব্দী থেকেই নির্মমভাবে মুখে করে তুলে নিয়ে আসছে গৃহস্থের দুধ ভাত এবং সন্তান। অথচ আনোয়ারশাহ রোডের খাবারের দোকানের সামনে দেখলাম খাবার জন্য কোনো ছুঁকছুঁকানি নেই এমন এক বাঘের বাচ্চার মতো হলুদ নধর পোষা বিড়াল 'কুত্তাবেল্ট'-এর দাসত্ব মেনে নিয়ে মনিবের পাশে বসে ট্রাফিক সিগন্যাল দেখছে। পটলডাঙার ছাদের দুষ্টুমিষ্টি নাতনি-বিড়ালবৃন্দ আফিংখাওয়া টিয়াপাখির মতোই প্রভাতদার সখ্য মেনে নেয় ।
যখন শরীর ঘুমায় কিন্তু মস্তিষ্ক ঘুমায় না, বিড়ালের পায়ের শব্দও তখন বোমাবাজির আওয়াজ করে। আমার তো সব জানলা দরজাই এঁটে বন্ধ করা ছিল। অথচ কে যেন আমাকে এসএমএস করল.... ‘বিড়াল থেকে সাবধান! ওরা রাত্রে তোমার ঘরে ঢুকে পড়তে পারে।’
নির্মাণ
এপাড়ায় হিন্দুর চেয়ে মুসলমান বেশি। রজতদা ওরফে শেখ রজাব আলির পরমযতে বানিয়ে দেওয়া তুলসীবেদিতে মা রোজ প্রদীপ জ্বালে, মায়ের পুজোর জোগানদার দিনমজুর খাইরুল। একশো দিনের কাজে যাওয়ার আগে ফুল দুব্বো মায়ের হাতে দিয়ে বলে গেল শনিতলায় বসে থাকে হিঁদুর ছেলেরা, বেলতলায় গেলে কুপিয়ে দেবে বলেছে। আর হিঁদুর বাড়ি আমি ফুল দিলে একশো রোজের কাজ দেবে না কন্ট্রাকটার বাবুমিঞা, দুই বিবি আর বালবাচ্চারা না খেয়ে মরবে। বাঁ পা হারানো অক্ষম হতভম্ব মা ওয়াকারে ভর দিয়ে নিশ্চুপ। তাঁর চেয়েও অপাহেজ সিস্টেমের পাশে দাঁড়িয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে বললেন ‘মূক ও বধির কথা বলে, পঙ্গু গিরিলঙ্ঘন করে যায় যাঁর কৃপায় সেই পরমানন্দ মাধবকে প্রণাম'।
জানতাম ভাঙা হচ্ছে যখন আল্টিমেটলি সবই ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে। নাড়ি কেটে যখন নির্গত হচ্ছে দ্বিতীয় অস্তিত্ব, যন্ত্রণাকে মেনেই নিতে হবে। তথাপি আজ যখন শ্বেতটগর আর তুলসীবেদির লাশ উপড়ে পাশেই পড়ে থাকল, লাশ নিতেও এল না কর্পোরেশনের গাড়ি, আমার সারা গা ভরে গেল রক্তের ছিটেয়। কোদাল গাঁইতি চালালেন যিনি, বদরু মিঞা বা বদ্দিনাথ যেই হন আমি নির্মাণশিল্পীর কোনো দোষ দেখি না। প্রত্যেক উচ্ছিন্ন ভিটের পাশে এবং সংগঠিত ভোটের পাশে থেমে থাকে যে সকল হাহা আমি তাদের মধ্যে কোনো ধর্মাচার দেখি না। আজও দ্বিতীয় নির্মাণের আগে একই স্থিতি ও অস্থিতি, একই প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি নিয়ে সাকার ও নিরাকার দুই অস্তিত্ব, আল্লাহ্ এবং হৃষীকেশকে ঠিক একই সুরে কাঁদতে দেখলাম।
অতিবেগুনি
অতিবেগুনি অতৃপ্তিগুলো আমার যাপনে মেলানিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে আমি কালো হতে হতে কালশিটে হয়ে যাই তবুও সত্তার গভীরের ঘোলাজল নিয়ন্ত্রণ করতে সংগ্রামের গ্রামার শিখে নিতে খাড়া রোদে দাঁড়িয়ে বেগুনি রশ্মি গিলে খাই। কালশিটে ত্বক ঘামে চিকচিক করে ওঠে কষ্টিপাথরের ঠান্ডা ও আবদ্ধ ঈশ্বর যেন আমাকে আটক করে আমারই কাছে মুক্তিপণ রাখে। আমি উদরনির্গত ওঁ আর হৃদয়নির্গত হ্রিং-এ আটকে থাকি ।
আমাদের পাখমানুষী স্বভাব এয়ারলাইন্স ধরলে উড়মান কয়েকটা লেজুরখসা পালক ডানাদর্শনে পরিণত হতে হতে দেরিদা নেরুদা ফেলুদা হয়ে বাবানাম কেবলম খিস্তিমারা কবিতা ও আপডেটেড উত্তরসূরি। প্রতিদিন যে যাকে খুশি মাজা ধরে...
তার চেয়ে বরং সজোর লাথিতে কার্টুনের ছবির মতো ছেতরে যাওয়া ভালো। পিছনের তেল ও আগুন ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তো রকেটের বিজ্ঞাপন পৌঁছোতে হবে সেন্ট্রিপেটাল ও সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্সের বাইরে। আপাতত ছিদ্রিত ওজোন স্তর দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে যেসব ছিদ্রান্বেষী, তাদের দূষণমুক্ত করে নেওয়া যাক।
Comments
Post a Comment